কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের পুকুরের পানিতে ডুবে সিজন সৌরভ (২২) নামের এক ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। তিনি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। আজ সোমবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

সৌরভের বাড়ি মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার দরিয়াপুর গ্রামে। বাবার নাম বি এম মসিউর রহমান। মায়ের নাম শিরিন সুলতানা। সৌরভ কুষ্টিয়ায় একটি মেসে থেকে পড়াশোনা করতেন।

কলেজের ইসলামের ইতিহাস বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র রাজু আহমেদ এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী। প্রথম আলোকে তাঁর দেওয়া তথ্যমতে, সৌরভ সকাল সাড়ে সাতটার দিকে পুকুরের পাশে খোলা জায়গায় বসে গিটার বাজান। সাড়ে আটটার দিকে স্যান্ডেল খুলে তিনি পুকুরে নামেন। এ সময় সৌরভ বলেন, ‘আজ আমার খুব ক্লান্ত লাগছে।’ তারপর তিনি সাঁতার কেটে প্রায় ১৫০ গজ প্রশস্ত পুকুর পার হয়ে ওপারে যান। ফেরার সময় তিনি উল্টো (চিত) সাঁতার দিচ্ছিলেন। মাঝপথে এসে সৌরভ তলিয়ে যান। কলেজের অন্যান্য শিক্ষার্থী ও স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধারে ব্যাপক তল্লাশি চালান। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উদ্ধারকাজে যোগ দেন। প্রায় দুই ঘণ্টা পর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সৌরভের অচেতন দেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা মামুনুল হক সৌরভকে পরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন। পরে লাশ কলেজে নেওয়া হয়। ছেলের ডুবে যাওয়ার খবর পেয়ে মেহেরপুর থেকে ছুটে আসেন মা শিরিন সুলতানা। ছেলের লাশ দেখে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।

কলেজে আসার পথে মুঠোফোনে সৌরভের বাবা বি এম মসিউর রহমান প্রথম আলোকে জানান, চাকরির কারণে তিনি মাগুরায় ও তাঁর স্ত্রী মেহেরপুরের গাংনীতে থাকেন। তাঁদের দুই ছেলের মধ্যে সৌরভ ছোট। বড় ছেলে ঢাকায় থাকেন।

কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক বিকাশ চন্দ্র সাহা বলেন, সৌরভ খুব শৌখিন ছিলেন। পয়লা বৈশাখসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তিনি পাঞ্জাবি পরে গিটার হাতে ঘুরে বেড়াতেন।

কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল খালেক বলেন, পরিবার থেকে কোনো আপত্তি না থাকায় জেলা প্রশাসকের অনুমতিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ হস্তান্তর করা হচ্ছে।

কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ বদরুদ্দোজা বলেন, জানাজা শেষে দুজন শিক্ষক ও কিছু ছাত্র মিলে সৌরভের লাশ তাঁর গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাবেন।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন