default-image

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের পদে থাকার বয়সসীমা বাড়াতে জাতীয় সংসদে বিল উঠেছে। বিলটি পাস হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বর্তমান গভর্নর ফজলে কবিরকে তার পদে আরও দুই বছর রাখার সুযোগ তৈরি হবে।

আজ বুধবার সংসদের বৈঠকে অর্থমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান ‘বাংলাদেশ ব্যাংক (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২০’ নামে এই বিলটি উত্থাপন করেন।

এর আগে স্পিকার শিরীন শারমীন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়। এ ছাড়াও মাছে ক্ষতিকর রাসায়নিক মিশিয়ে বিক্রির অপরাধে সাত বছরের কারাদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রেখে আরেকটি বিল সংসদে উত্থাপন করেন মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।

বিদ্যমান আইনে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে থাকার সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৬৫ বছর। উত্থাপিত বিলে ৬৭ বছর করার প্রস্তাব রয়েছে। বর্তমান গভর্নর ফজলে কবিরের ৬৫ বছর পূর্ণ হয়েছে গত ৩ জুলাই। বিলটি পাস হলে তিনি আরও দুই বছর এই পদে থাকতে পারবেন।
ব্যাংক খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোভিড-১৯ মহামারির এই সময়ে ফজলে কবিরকে আরও দুই বছরের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে রাখতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যেই বিলটি তোলা হয়েছে।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের সুষ্ঠু আর্থিক ব্যবস্থাপনার স্বার্থে এই প্রতিষ্ঠানের কার্যকর ও উন্নততর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সেই পরিপ্রেক্ষিতে উক্ত-প্রতিষ্ঠান প্রধানের প্রজ্ঞা, বিচক্ষণতা, কর্মদক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ববাচক গুণাবলি প্রাতিষ্ঠানিক সাফল্যের মূল নিয়ামক শক্তি বিবেচনায় উক্ত পদে যোগ্যতা ও উপযুক্ত ব্যক্তিকে বিদ্যমান বয়সসীমা অপেক্ষা অধিকতর বয়সে নিয়োগের সুযোগ রাখা কিংবা প্রয়োজনবোধে উক্ত পদে সমাসীন ব্যক্তিকে বিদ্যমান বয়সসীমা অতিক্রমণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য অনুসারে পুনর্নিয়োগে প্রদান কিংবা উক্ত ব্যক্তির নিয়োগের নিরবচ্ছিন্ন ধারাবাহিকতা বজায়ের ব্যবস্থা গ্রহণ করা সমীচীন।’

রিজার্ভ চুরির ঘটনায় ২০১৬ সালের ১৫ মার্চ তৎকালীন গভর্নর আতিউর রহমান পদত্যাগ করলে পরদিনই ফজলে কবিরকে চার বছরের জন্য গভর্নর নিয়োগ দেয় সরকার। তখন তিনি বিদেশে ছিলেন এবং ফিরে এসে দেশের ১১ তম গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব নেন ২০ মার্চ। সে হিসেবে তাঁর মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল এ বছরের ১৯ মার্চ। কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি গভর্নর হিসেবে ফজলে কবিরের মেয়াদ ৩ মাস ১৩ দিনের জন্য বাড়িয়ে দেয় সরকার। এতে বলা হয়, ৬৫ বছর পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত তিনি গভর্নর থাকবেন।

মাছে ক্ষতিকর রাসায়নিক মেশালে ৭ বছর দণ্ড
গতকাল মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম ‘মৎস্য ও মৎস্যপণ্য (পরিদর্শন ও মাননিয়ন্ত্রণ) বিল- ২০২০’ সংসদে উত্থাপন করেন। এতে মাছে ক্ষতিকর রাসায়নিক মিশিয়ে বিক্রির অপরাধে সাত বছরের কারাদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

পরে বিলটি পরীক্ষা করে ৩০ দিনের মধ্যে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।

নিরাপদ মাছের উৎপাদন নিশ্চিত করতে মৎস্য খামারিদের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করার বিধানও বিলে রাখা হয়েছে। মৎস্য পণ্যে ভেজাল দিলে বা খামারে নিষিদ্ধ ওষুধ ব্যবহার করলে অন্যূন দুই বছরের কারাদণ্ড ও সর্বোচ্চ ৮ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে খসড়া আইনে।

খসড়া আইনে মৎস্যের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে ‘সকল প্রকার কোমল ও কঠিন অস্থি বিশিষ্ট মৎস্য, স্বাদু ও লবণাক্ত পানির চিংড়ি, উভচর জলজ প্রাণী, কচ্ছপ, কুমির,কাঁকড়া জাতীয় প্রাণী, শামুক, ঝিনুক, ব্যাঙ এবং এসব জলজ প্রাণীর জীবন্ত কোষকে মৎস্য হিসেবে গণ্য করা হবে’।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের ক্রেতাদের পণ্যের গুণগত ও প্রক্রিয়াগত মান সম্পর্কিত চাহিদা, রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বহুমুখী এবং আন্তর্জাতিক বাজারের বিস্তৃতি ও প্রতিযোগিতা ইত্যাদি মোকাবিলায় বিদ্যমান অধ্যাদেশের সীমাবদ্ধতা পরিলক্ষিত হয়।

মোহাম্মদ নাসিমের পদে দীপংকর
আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ নাসিমের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি পদ দেওয়া হয়েছে দীপংকর তালুকদারকে।

গতকাল সংসদের বৈঠকে খাদ্য মন্ত্রণালয়সহ চারটি কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। রাঙামাটি থেকে নির্বাচিত আওয়ামী লীগের সাংসদ দীপংকর আগে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও সামলেছেন।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মোহাম্মদ নাসিম গত ১৩ জুন মারা গেলে খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি পদটি শূন্য হয়।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0