বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন


প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, দুপুরে নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান রিয়াদের নেতৃত্বে তাঁর শতাধিক সহযোগী পশ্চিম মাসদাইর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ঢোকে। এ সময় তাঁরা এনায়েতনগর ইউপি নির্বাচনে ৭ নম্বর ওয়ার্ডে সদস্য প্রার্থী শাহজাহান মাতবরের পক্ষে স্লোগান দিয়ে ওই কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ নেন। এ সময় একই ওয়ার্ডের সদস্য প্রার্থী জাকারিয়া জাকির ও তাঁর সমর্থকেরা বাধা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। খবর পেয়ে র‌্যাব ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাঠিপেটা করে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে র‌্যাব দুটি ধারালো অস্ত্র, বিপুলসংখ্যক লাঠি ও একটি ককটেল জব্দ করে।

এ বিষয়ে ফতুল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুজ্জামান জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গিয়ে লাঠিপেটা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সেখানে বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়।

নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান জানান, নৌকার পক্ষে তাঁরা কাজ করতে গিয়েছিলেন। সেখানে এক ইউপি সদস্য প্রার্থীর সঙ্গে আরেক সদস্য প্রার্থীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সেখানে যাওয়ার পর তাঁদের লাঠিপেটা করা হয়। উদ্ধার হওয়া লাঠি ও অস্ত্র তাঁদের নয় বলে তিনি দাবি করেন।

default-image

এদিকে সংঘর্ষে খবর পেয়ে ওই ভোটকেন্দ্রে গিয়েছিলেন স্থানীয় সাংসদ শামীম ওসমান। ওই কেন্দ্রর সামনে ছাত্রলীগ নেতা হাবিবুর রহমানসহ অন্যরা সাংসদ শামীম ওসমানকে বলেন, তাঁদেরকে চোরের মতো পেটানো হয়েছে।

শামীম ওসমান র‌্যাব কর্মকর্তার উদ্দেশে বলেন, ‘আপনি মহানগর ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকসহ ওদেরকে মারছেন।’ তখন র‌্যাব কর্মকর্তা শামীম ওসমানকে বলেন, ‘স্যার, ওনাদেরকে মারধর করা হয়নি। ওনাদের কাছ থেকেই লাঠিসোঁটা, ধারালো অস্ত্র ও ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে। ওনারা এগুলো নিয়ে সেখানে অবস্থান করছিলেন। সবাই তা দেখেছেন, স্যার।’

সাংসদ শামীম ওসমান র‌্যাব কর্মকর্তার উদ্দেশে আরও বলেন, ‘আপনি ছাত্রলীগের নেতাকে চোরের মতো পেটাবেন? এখন সারা নারায়ণগঞ্জ সামাল দেন। দেখি আপনি পারেন, না আমি পারি।’ এ প্রশ্নের জবাবে র‌্যাব কর্মকর্তা তাঁকে বলেন, ‘ওনারা মিথ্যা কথা বলছে। ওদেরকে নিবৃত্ত করা হয়েছে।’

এ বিষয়ে র‌্যাব-১১–এর উপপরিচালক স্কোয়াড্রন লিডার এ কে এম মনিরুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, কিছু দুষ্কৃতকারী ভোটকেন্দ্রে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে—এমন খবর পেয়ে র‌্যাব সেখানে যায়। যারা অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি চেষ্টা করছিল, তাদেরক ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়। ওই ভোটকেন্দ্র থেকে দুই ডজনের বেশি লাঠিসোঁটা, দুটি ধারালো অস্ত্র এবং একটি ককটেল উদ্ধার করা হয়।

সাংসদ শামীম ওসমানের সঙ্গে কী কথা হয়েছে, জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি সেখানে কী ঘটেছিল তা জানতে চেয়েছিলেন। সেটিই তাঁকে বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন