বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ওই প্রকল্পে ঘরপ্রতি নির্মাণ ব্যয় ভ্যাট ট্যাক্স বাদে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা ধরা হয়। প্রকল্পের পরিপত্রে উল্লেখ আছে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সহকারী কমিশনার (ভূমি), প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ও ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মিলে হতদরিদ্রের ঘর বরাদ্দের তালিকা প্রস্তুত করবেন। প্রাক্কলন অনুযায়ী, ১৯ ফুট ৬ ইঞ্চি দৈর্ঘ্য ও ২২ ফুট ৬ ইঞ্চি প্রস্থের ঘরের ভেতরে থাকবে দুটি কক্ষ, থাকবে রান্নাঘর ও শৌচাগার। নকশা অনুযায়ী ঘর নির্মাণে ৬ হাজার ইট, ৫০ বস্তা সিমেন্ট, ২০০ ঘনফুট বালু এবং ভিটা নির্মাণে ৫০ ফুট বালু ব্যবহার করার কথা।

সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার নাঙ্গলঝাড়া ইউনিয়নে আশ্রয়ণ প্রকল্পের সাতটি ঘর রাতারাতি ভেঙে নেওয়া হয়েছে। এসব ঘর ধসে পড়ায় বর্তমান ইউএনওর নির্দেশে ঘরগুলো ভেঙে নেওয়া হয়েছে। এখন দেখে বোঝার উপায় নেই ওইখানে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর ছিল। গত সোমবার উপজেলার তৈলকুপি গ্রামে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পে গেলে এমন দৃশ্য দেখা যায়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য সফিকুর রহমান জানান, তৈলকুপিতে গত ডিসেম্বরে তৎকালীন ইউএনও মৌসুমী জেরিন আশ্রয়ণ প্রকল্পের কাজ শুরু করেন। ১৩টি ঘরের নির্মাণকাজ শেষ হয় এপ্রিলে। ১৩টির মধ্যে ৯টি ঘর করা হয় একটি ডোবার পাশে। মে মাস থেকে নয়টি ঘরের পেছন ও পাশ থেকে মাটি ধসে পড়তে থাকে। এ সময় বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে আরও ছয় লাখ টাকা ব্যয় করে সাতটি ঘরের পেছনে পাইলিং করে ধস ঠেকানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু মাটির ধস ঠেকাতে না পারায় ঘরে বড় আকারের ফাটল দেখা দেয়। ঘরগুলো ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়। সপ্তাহখানেক আগে এক্সকাভেটর দিয়ে ঘর সাতটি গুঁড়িয়ে দিয়ে মালামাল ট্রাকে করে নিয়ে যাওয়া হয়।

* ঘরপ্রতি নির্মাণ ব্যয় ভ্যাট ট্যাক্স বাদে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা ধরা হয়। * প্রাক্কলন অনুযায়ী, ঘরগুলো ১৯ ফুট ৬ ইঞ্চি দৈর্ঘ্য ও ২২ ফুট ৬ ইঞ্চি প্রস্থের হওয়ার কথা।

ঘর পেতে তালিকাভুক্ত হয়েছিলেন রামচন্দ্রপুর গ্রামের সাহিদা খাতুন। তিনি জানান, ছয়–সাত দিন আগে মেশিন দিয়ে সারা রাত তাঁদের ঘর ভেঙে নিয়ে চলে গেছে।

কলারোয়ার ইউএনও জুবায়ের আহমেদ চৌধুরী বলেন, তাঁর আগের ইউএনও মৌসুমী জেরিন তৈলকুপিতে ১৩টি ঘর করেছিলেন। জমি নির্বাচন ঠিক না হওয়ায় অতিবর্ষণে মাটি সরে যাচ্ছিল। মাটি আটকানোর চেষ্টা করেও রাখা যায়নি। ফলে সাতটি ঘর ভেঙে ফেলা হয়েছে। ওই সাতটি ঘর সোনাবাড়িয়া ইউনিয়নে ভাদিয়ালিতে করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

বরগুনার আমতলী উপজেলায় দুই ধাপে হতদরিদ্রদের ৪৫০টি ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, তদারকি এবং ক্রয় কমিটিকে ছাড়াই আমতলীর ইউএনও আসাদুজ্জামান তাঁর আস্থাভাজন এনামুল হকসহ আরও দুজনকে নিয়ে মালামাল কিনেছেন। ঘরপ্রতি ৩০-৪০ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে।

জানা গেছে, নিজ কার্যালয়ের কর্মচারী এনামুল হকের নিজ গ্রাম হরিদ্রাবাড়িয়ায় টাকার বিনিময়ে ৩০টি ঘর বরাদ্দ দেন ইউএনও। ওই সময়ে হরিদ্রাবাড়িয়া গ্রামের যুবলীগ নেতা কামাল রাঢ়ী জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ দেন। ঘরের তালিকা তৈরি এবং নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগে ৫ জুলাই আসাদুজ্জামানকে ওএসডি করাসহ তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দেয় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। তাঁর কার্যালয়ের কর্মচারী এনামুলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

অভিযোগ অস্বীকার করে আসাদুজ্জামান দাবি করেন, জনপ্রতিনিধিদের দেওয়া তালিকা অনুসারে যথানিয়মে কাজ করা হয়েছে।

এদিকে ফরিদপুর সদরের ডিক্রিরচর ইউপির চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান ১২টি পরিবারের কাছ থেকে ২৫ হাজার করে টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি শহরতলির ধরার মোড় এলাকা থেকে পদ্মা নদীর ওপারের আশ্রয়ণ প্রকল্পের। একটি ঘরের নিবাসী কৃষক দুদু মোল্লা (৫২) বলেন, ‘নদীতে ঘরবাড়ি ভাইঙ্গা গেলে এ এলাকায় এসে ঘর তুলেছিলাম। চেয়ারম্যান আইসা বলল, “আপনি ঘর ভাইঙ্গা দ্যান। আপনারে একটা ঘর দেবানে।” ক্যারিং (পরিবহন খরচ) খরচের জন্য চেয়ারম্যানকে ২৫ হাজার টাকা দিতে হইছে।’

ফরিদপুর সদরের ইউএন মাসুম রেজা বলেন, ‘এলাকাবাসীর কাছ থেকে ইউপি চেয়ারম্যান টাকা নিয়েছেন, এই অভিযোগ আমাকে কেউ দেয়নি।’

[প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করেছেন নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল, ফরিদপুর ও সাতক্ষীরা এবং প্রতিনিধি বরগুনা]

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন