default-image

নারায়ণগঞ্জের পশ্চিম তল্লা এলাকার বায়তুস সালাত মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের পরিবার ও দগ্ধদের প্রত্যেককে ৫০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশনা চেয়ে করা রিটের ওপর আগামীকাল বুধবার আদেশের জন্য দিন রেখেছেন আদালত।

বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ মঙ্গলবার রিটের ওপর শুনানি নিয়ে আদেশের এ দিন ধার্য করেন।
নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আইনজীবী মার-ই-য়াম খন্দকার গতকাল সোমবার রিটটি করেন, যা আজ শুনানির জন্য ওঠে। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী তৈমুর আলম খন্দকার। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর উস সাদিক।

বিজ্ঞাপন

শুনানিতে আইনজীবী তৈমুর আলম খন্দকার বলেন, গ্যাসলাইন দিয়ে বুদবুদ করে গ্যাস বের হচ্ছিল, লিকেজের কারণে ওই বিস্ফোরণ ঘটছে বলে গণমাধ্যমে এসেছে। মুসল্লিদের কোনো দোষ ছিল না, অথচ তাঁরা আগুনে পুড়ে মারা গেছেন। এখন পর্যন্ত ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। মসজিদ কমিটি থেকে লাইন ঠিক করার জন্য তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছিল। তবে ৫০ হাজার টাকা না দেওয়ায় লাইন ঠিক হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে।

আদালত বলেন, ‘ওই ঘটনায় মামলা হয়েছে তো, তাহলে কেন এসেছেন?’ তখন এই আইনজীবী বলেন, ‘ভুক্তভোগীদের ৫০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য।’ আদালত বলেন, ‘কেউ ক্ষতিপূরণ দেননি?’ তখন তৈমুর আলম খন্দকার বলেন, জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে ২০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে। সেবা সংস্থাগুলোর সেবা নিয়মিত তদারকির আরজিও রয়েছে রিটে।

বিজ্ঞাপন

রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর উস সাদিক বলেন, মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় তিনটি কমিটি হয়েছে। জেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ পৃথক কমিটি গঠন করেছে। কমিটির রিপোর্ট আসার পর বিষয়টি দেখা যেতে পারে।

একপর্যায়ে আদালত বলেন, ‘ওই এলাকা কি রাজউকের আওতাধীন? ভবন নির্মাণে রাজউকের অনুমোদন লাগে? অনুমোদন ছিল কি?’ তখন আইনজীবী তৈমুর আলম খন্দকার বলেন, ‘ওই এলাকা রাজউকের আওতাধীন।’ আদালত বলেন, ‘নিশ্চিত হয়ে জানান।’ পরে বুধবার আদেশের জন্য দিন রাখা হয়।

বিজ্ঞাপন

এর আগে ৪ সেপ্টেম্বর রাতে নারায়ণগঞ্জ শহরের পশ্চিম তল্লা এলাকার বায়তুস সালাত জামে মসজিদে বিস্ফোরণে অগ্নিদগ্ধ হন ৩৭ জন। দগ্ধ লোকজনকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়। এ পর্যন্ত ২৭ জনের মৃত্যু হয়। একজন সুস্থ হয়ে বাড়ি গেছেন।

রিটে কাদের দায়িত্বে অবহেলায় ওই ঘটনা ঘটেছে, তা নির্ধারণে আদেশ চাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মানসম্মত সেবা নিশ্চিতে গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি সরবরাহ ও টেলিফোনের মতো সেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলো যাতে তাদের সেবা নিয়মিত তদারকি করে, সে জন্য আদেশ চাওয়া হয়েছে।

মন্তব্য পড়ুন 0