default-image

আমরা অনেকেই শাকিলের কাছ থেকে নিয়ে গোয়েন্দা বই পড়তাম। কিন্তু বই নেওয়ার সময় আমরা ওর সঙ্গে তেমন একটা কথা বলতাম না। কারণ, ব্যাটা কাহিনি বলে দিয়ে পড়ার মজাই নষ্ট করে দিত। সেদিন ছিল শুক্রবার। ছুটির সকাল পেয়ে আদনান গেল শাকিলের কাছে, ‘দোস্ত, একটা ভালো বই দিতে পারিস? জমজমাট রহস্যময় কোনো বই! কাহিনিটা আবার বলে ফেলিস না কিন্তু।’ শাকিল বলল, ‘আরে না, কাহিনি জেনে ফেললে এই বই পড়ে কোনো মজাই পাবি না। এই বইয়ের আসল মজাটাই হলো, নায়কের বাবাকে কে খুন করল, সেটা তুই আগে কিছুতেই বুঝতে পারবি না। একেবারে শেষ পৃষ্ঠায় গিয়ে জানবি, খুনটা আসলে বাসার চাকর করেছে!’

default-image

সন্ধ্যার প্রেপ টাইমে ক্লাসরুমে ঘুমাচ্ছিল ক্যাডেট শাহরিয়ার। ডেস্কে মাথা রেখে ঘুমাতে দেখে প্রেপ মনিটর ফারুক ভাই ওকে ডাক দিয়ে বারান্দায় নিয়ে গেলেন। বললেন, ‘কী, পড়তে বসলেই তোমার শুধু ঘুম আসে? আমারও আসত। ধ্যান করে করে ঘুম কমিয়েছি। এখন পড়ার সময় পড়তে পারি। তোমাকেও ধ্যান করতে হবে। শোনো, পড়ার আগে আসন গেড়ে বসবে। চোখ বন্ধ করবে। কল্পনা করবে, তুমি একটা সবুজ মাঠে দাঁড়িয়ে আছ। মাঠের শেষে একটা বাড়ি। তোমার মনের বাড়ি। মনের বাড়িতে প্রবেশ করবে। দেখবে সুন্দর ঝরনা। নিজের ইচ্ছেমতো ঘুরে বেড়াবে। দেখবে, একদম ঝরঝরে লাগছে। ঘুম দূর হয়ে যাবে।’ শাহরিয়ার হাই তুলতে তুলতে বলল, ‘ভাইয়া, এত কিছু না করে আধা ঘণ্টা ঘুমিয়ে নিলেই তো হয়!’

ক্যাডেট কলেজে জুনিয়র ক্যাডেটদের কাছ থেকে সিনিয়ররা কোনো কিছু যেন চেয়ে না নেয়, এ নিয়ে কর্তৃপক্ষ খুব সোচ্চার হয়ে উঠল! কেউ চাইতে গিয়ে ধরা পড়লেই কঠিন কঠিন শাস্তি পাচ্ছিল। এমন সময় এক ক্যাডেট তার এক জুনিয়রের রুমের দরজায় গিয়ে দাঁড়াল, ‘এই, তোমার কাছে কি অতিরিক্ত মোজা আছে?’ জুনিয়র ক্যাডেট বলল, ‘জি ভাইয়া, আছে।’ তখনই সিনিয়র টের পেল, তার পেছনে ডিউটি মাস্টার স্যার এসে দাঁড়িয়েছেন। সে কী করবে বুঝে উঠতে না পেরে বলল, ‘না মানে, বলছিলাম কী, তোমার কাছে মোজা না থাকলে আমার রুম থেকে নিয়ে আসতে পারো। আমার কাছেও মোজা আছে।’


গভীর রাতে ক্যাডেট কলেজ ক্যাম্পাসের ডাব চুরি করতে গিয়ে রানা আর রেজা ধরা পড়ে গেল অমলেন্দু স্যারের হাতে। রানার হাতে তখন ডাব, সামনে আরও দু-একটা ডাব পড়ে আছে। রানা বিষয়টা ধামাচাপা দিতে গিয়ে বলল, ‘বিশ্বাস করেন স্যার, আমি ডাবগুলো পাড়িনি, ওগুলো বাতাসে পড়ে গেছে।’ স্যার বললেন, ‘যে বাতাস গাছ থেকে ডাব পেড়ে ফেলে দিতে পারে, আশা করি, সেই বাতাস তোমাকেও কলেজ থেকে বহিষ্কার করে তোমার বাসায় পৌঁছে দিতে পারবে।’

‘ক’ ক্যাডেট কলেজের অ্যাডজুট্যান্ট: যেকোনো অন্যায় ঘটনা কোন ক্যাডেট ঘটিয়েছে, সেটা জানতে আমাদের ৭২ ঘণ্টা সময় লাগে।
‘খ’ ক্যাডেট কলেজের অ্যাডজুট্যান্ট: আরে দূর মিয়া, অন্যায়কারী ক্যাডেটকে চিনতে আমাদের সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগে।
‘গ’ ক্যাডেট কলেজের অ্যাডজুট্যান্ট: আমরা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যেকোনো দুর্ঘটনায় দায়ী ক্যাডেটকে পাকড়াও করতে পারি।
‘ঘ’ ক্যাডেট কলেজের অ্যাডজুট্যান্ট: আমাদের না জানিয়ে কোনো ঘটনাই ঘটে না।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন