স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া ৬২ জন ক্যানসারজয়ী বুধবার একত্র হয়েছিলেন হাসপাতালের মিলনায়তনে। সঙ্গে ছিলেন তাঁদের স্বজন। ছিলেন স্কয়ার অনকোলজি ও রেডিওথেরাপি বিভাগের চিকিৎসকেরা। দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত প্রায় চার ঘণ্টা ছবি এঁকে, জাদু দেখে, যোগব্যায়াম করে সময় তাঁরা পার করেছেন। অবশ্য চিকিৎসকেরা বলেছেন, এটা চিকিৎসারই অংশ।

শুরুতে স্কয়ার অনকোলজি ও রেডিওথেরাপি বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ও সমন্বয়কারী অধ্যাপক সৈয়দ মো. আকমার হোসেন বলেন, ক্যানসার রোগীদের প্রচলিত চিকিৎসার বাইরে আত্মিক, সামাজিক, মানসিক ও আধ্যাত্মিক সহায়তা এবং সমর্থন দরকার হয়। সেই দরকার মাথায় রেখেই এই আয়োজন।

অনুষ্ঠানে আসা প্রত্যেক ক্যানসার বিজয়ীকে একটি বোর্ড, সাদা কাগজ ও রঙিন পেনসিলের প্যাকেট দেওয়া হয়েছিল। শিল্পী পীযূষ কান্তি সরকার সব বিজয়ীকে ফুল আঁকা শেখালেন। নিজে আঁকলেন গোলাপ আর পদ্ম। তিনি সবার উদ্দেশে বললেন, ‘আঁকলেই ছবি। আঁকাতে “ভুল” বা “মিসটেক” বলে কিছু নেই।’ তিনি আরও বলেন, ছবি এঁকে পারিপার্শ্বিকতা ভুলে থাকা যায়। ছবি আঁকতে থাকলে শরীরের কষ্ট, মনের কষ্ট মনে আসে না।

কুশল রায় যোগব্যায়ামের ওপর বিদেশ থেকে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়েছেন। মিউজিক থেরাপিতে উচ্চতর ডিগ্রির জন্য কানাডায় পড়াশোনা করছেন। তিনি উপস্থিত সবাইকে কিছু যোগব্যায়াম করে দেখান এবং তাঁর সঙ্গে তাতে অংশ নিতে সবাইকে অনুরোধ করেন।

এর মধ্যে একজন জাদুকর গোটা দশেক জাদু দেখিয়ে সবাইকে মোহাচ্ছন্ন করে রাখেন। একেকটি জাদু শেষ হয়, সবাই করতালি দিয়ে তাঁকে অভিনন্দন জানাতে থাকেন। কখনো মনেই হয়নি মিলনায়তনভর্তি মানুষের শরীরে কোনো যন্ত্রণা আছে।

বুধবার ছিল স্কয়ার অনকোলজি ও রেডিওথেরাপি বিভাগের ১২ বছর পূর্তির দিন। এ উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কর্তৃপক্ষ জানায়, এ পর্যন্ত বহির্বিভাগে ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষ ক্যানসার চিকিৎসা নিয়েছেন। কেমোথেরাপি নিয়েছেন ৫০ হাজার, রেডিওথেরাপি সাড়ে ৫ হাজার, ব্রাকিথেরাপি নিয়েছেন ৩৫০ জন। এ পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন ১০ হাজার রোগী।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন