default-image

রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনের কাছে নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী একটি ট্রেন আজ সোমবার বেলা দেড়টার দিকে কাভার্ড ভ্যানকে ধাক্কা দিয়েছে। দুর্ঘটনায় দুজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে।

কমলাপুর রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মজিদ বেলা পৌনে দুইটার দিকে প্রথম আলোকে জানান, দুর্ঘটনায় দুজন নিহত ও অন্তত ১২ জন গুরুতর আহত হয়।

রেলওয়ে রেঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারুক হোসেন জানান, কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের আইসিডি টার্মিনাল থেকে কাভার্ড ভ্যানটি আরেকটি টার্মিনালে যাচ্ছিল। এই দুটি টার্মিনালের মধ্যে রেলপথ আছে। একটি টার্মিনাল থেকে অন্যটিতে যেতে হলে এই পথ পাড়ি দিতে হয়।

ফারুক হোসেনের ভাষ্য, আজ বেলা দেড়টার দিকে কাভার্ড ভ্যানটি যখন একটি টার্মিনাল থেকে আরেকটি টার্মিনালে যেতে রেললাইন পার হচ্ছিল, তখন ওই রেলপথে নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী একটি ট্রেন চলে আসে। ট্রেনটি কাভার্ড ভ্যানের সামনের অংশটিকে জোরে ধাক্কা দেয়। কাভার্ড ভ্যানের দুমড়ানো-মোচড়ানো অংশকে ছেঁচড়ে প্রায় ৫০ ফুট দূরে নিয়ে যায় ট্রেনটি। এ পথে থাকা গেট ও দেয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একপর্যায়ে ওই দুমড়ানো-মোচড়ানো অংশটি ভারী কিছুর সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে ছিটকে আবার রেললাইনে এসে পড়ে। রেললাইনের ভেতরে ওই অংশ ঢুকে পড়লে ট্রেনের শেষ দিকের বগি লাইনচ্যুত হয়ে কাত হয়ে পড়ে। এতে বগিটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

দুর্ঘটনার ফলে ওই রেললাইনের পাশাপাশি আরেকটি রেললাইনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

আইসিডি পরিদর্শক ফজলুল হক চৌধুরী জানান, এখানে ট্রেন চলাচলের সময় ঘণ্টা বাজানো হয়। একটি লাল বাতিও জ্বলে। এর পাশাপাশি আনসারের দুজন সদস্য টার্মিনালের গেটে দায়িত্বে থেকে কাভার্ড ভ্যানের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করেন। তাঁর দাবি, ঘটনার আগে হান্নান ও মিজান নামের আনসারের দুজন সদস্য কাভার্ড ভ্যানটির চালককে থামানোর সংকেত দেন। কিন্তু চালক তা অমান্য করেন এবং গাড়িটি থামাননি। দুর্ঘটনায় আনসারের দুই সদস্য আহত হয়েছেন বলেও তিনি দাবি করেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্র জানায়, আহত অবস্থায় নয়জনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। এর মধ্যে একজন মারা গিয়েছেন। বাকি আটজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন