default-image

খাগড়াছড়ির দীঘিনালার কবাখালী-হাচিনসনপুর-তারাবনীয়া সড়কটি গুরুত্বের বিবেচনায় গত বছর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রথম শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করে। কিন্তু সড়কের চেহারা পাল্টায়নি। বরং দিনে দিনে খারাপ হয়েছে। ফলে চলাচলে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন যাত্রীরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের পূর্ব হাচিনসনপুর এলাকায় বেশ কিছু অংশে ভেঙে বিলীন হয়ে গেছে। এসব অংশে গাড়ি চলাচল করছে একপাশ দিয়ে। এ ছাড়া মুসলিমপাড়ায় প্রায় ১০০ গজের মতো অংশে সড়কের চিহ্নই নেই। এর মধ্যেই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে ট্রাক, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও মোটরসাইকেল।
এলজিইডির কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপে জানা যায়, সড়কটি সর্বশেষ ২০০৮-০৯ অর্থবছরে সাত লাখ টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা হয়। সংস্কারের পর সড়কটি দুবার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর আর মেরামত করা হয়নি।
এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী নজির আহাম্মদ জানান, সড়কটির দৈর্ঘ্য ২৩ কিলোমিটার। এর মধ্যে ছয় কিলোমিটার পাকা ও ইট বিছানো, ১৭ কিলোমিটার কাঁচা। ওই ছয় কিলোমিটারই এখন ক্ষতবিক্ষত।
সড়কে চলাচলকারী ব্যাটারিচালিত রিকশার চালক বিরাজ মোহন চাকমা ও দেলোয়ার হোসেন জানান, সড়কটি সংস্কার করা জরুরি হয়ে পড়েছে। এখন সংস্কার না করলে বর্ষা মৌসুমে আর গাড়ি চালানো সম্ভব হবে না। তাঁরা আরও জানান, এ সড়কে চার শতাধিক ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল করে। প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাতে হচ্ছে চালকদের। মাঝেমধ্যে দুর্ঘটনাও ঘটে।
কবাখালী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান বিশ্ব কল্যাণ চাকমা বলেন, ‘সড়কটির কারণে কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষ যাতায়াতের দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। তারাবনীয়া, কবাখালী কৃষি ব্লকে ৭০০ হেক্টর কৃষিজমি রয়েছে। সবগুলো জমিতে চাষ হয়। চাষিরা জমিতে উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে নিতে হিমশিম খাচ্ছেন। কিছু ব্যবসায়ীরা গ্রামে এসে কৃষিপণ্য কিনলেও ভাঙা সড়কের অজুহাতে ন্যায্যমূল্য দিচ্ছেন না। সড়কটি সংস্কারের জন্য আমিও এলজিইডি কর্তৃপক্ষকে বলেছি।’
এ প্রসঙ্গে এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী মহাবুবুল হক বলেন, ‘গুরুত্বের বিবেচনায় প্রথম শ্রেণির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে সড়কটি। এটি সংস্কারের জন্য বরাদ্দ চেয়ে গত দুই অর্থবছরে বারবার পত্র দিয়েছি। কিন্তু বরাদ্দ না পাওয়ায় সংস্কার করা সম্ভব হয়নি। চলতি বছরও বরাদ্দ চেয়ে পত্র দেওয়া হয়েছে।’

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন