বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আজ সোমবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালিক এসব কথা জানিয়েছেন। রাজধানীর মহাখালীর বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস (বিসিপিএস) মিলনায়তনে জরুরি কোভিড-১৯ টিকা পরিবহনে নিয়োজিত রেফ্রিজারেটেড ভ্যান হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব তথ্য জানান।

অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সাহায্য সংস্থা ইউএসএআইডির পক্ষ থেকে সরকারকে দেওয়া কোভিড-১৯ টিকা পরিবহনে নিয়োজিত চারটি রেফ্রিজারেটেড ভ্যানের চাবি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি চিফ অব মিশন (ডিসিএম) উইলিয়াম ডাওয়ারস এবং ইউএসএআইডির মিশন ডিরেক্টর ক্যাথরিন স্টিভেনস টিকাদান কার্যক্রমে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সহায়তার অংশ হিসেবে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর হাতে চাবি তুলে দেন। কোটি কোটি ডোজ কোভিড-১৯ টিকা পরিবহনের জন্য উপযুক্ত কোল্ডস্টোরেজ সরঞ্জামে সজ্জিত গাড়ির একটি বহর প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারকে এ অনুদান দেওয়া হচ্ছে। ভ্যানের তাপমাত্রা মাইনাস ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালিক বলেন, করোনা নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ স্বস্তির জায়গায় আছে। আজকে করোনায় মারা গেছেন চারজন। সংক্রমণ একটু বেড়েছে। চীনে করোনায় মৃত্যু শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। বাংলাদেশে মৃত্যুর হার শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছ থেকে রেফ্রিজারেটেড ভ্যান পাওয়াতে সরকারের সক্ষমতা আরও বাড়ল। করোনার ফাইজার টিকা পরিবহনে এ ধরনের ভ্যান জরুরি। আর ভ্যান থাকায় এখন দুর্গম এলাকায় টিকা পৌঁছানো সহজ হবে। শুধু ভ্যান নয়, ভ্যান পরিচালনায় প্রশিক্ষণ ও ব্যবস্থাপনাতেও সহায়তা করবে ইউএসএআইডি।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী করোনা ও টিকা নিয়ে সার্বিক চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, করোনাকালে ১৩০টি হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইন লাগানো হয়েছে। দেশে ৭০০ থেকে ৮০০ ল্যাব কাজ করেছে। এক কোটি বেশি মানুষের করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে। বিশ্বের অনেক দেশের আগেই বাংলাদেশে টিকা কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়েছিল। স্কুলের শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে। দৈনিক ১৫ লাখ ডোজ টিকা দেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ। দেশের বয়স্ক ব্যক্তিদের টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত বয়স্কদের প্রায় সবার এক ডোজ টিকা দেওয়া শেষ হয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, টিকা উৎপাদনের জন্য গোপালগঞ্জে জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। একনেকে অনুমোদন পেলেই তার বাস্তবায়ন শুরু হবে। দেশে করোনার নুতন ওষুধ তৈরি হচ্ছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, মনে রাখতে হবে, এ ওষুধ করোনার টিকার বিকল্প নয়। ওষুধ খেলেও টিকা দিতেই হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী গত সাত দিনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের করোনা পরিস্থিতি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সাত দিনে যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় মারা গেছেন ৬ হাজার মানুষ, রাশিয়ায় ৮ হাজার, ভারতে আড়াই হাজার, ভিয়েতনামে ৪৪০ জন, থাইল্যান্ডে ৪৫৩ জন এবং বাংলাদেশে মারা গেছেন ২৭ জন। জনবহুল দেশে মৃত্যুহারের দিক থেকে চীনে শূন্য, জাপানে ০ দশমিক ১ শতাংশ এবং বাংলাদেশে দশমিক ২ শতাংশ, অর্থাৎ বাংলাদেশে তৃতীয় অবস্থানে আছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালিক বলেন, সারা দেশে এখন করোনা রোগী আছেন এক হাজারের কম। ঢাকায় রোগীর সংখ্যা ৪০০ জনের কম। যেসব হাসপাতালে করোনা ইউনিট বড়, সেসব হাসপাতালে আস্তে আস্তে অন্যান্য রোগীর চিকিৎসা শুরু করা হবে।

উন্নত দেশের মতো বাংলাদেশে বুস্টার ডোজ নিয়ে সরকার কোনো চিন্তাভাবনা করছে কি না, গণমাধ্যমকর্মীদের এ প্রশ্নের উত্তরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী দেশে করোনার চিকিৎসা চলছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সব দেশের জন্য বুস্টার ডোজের কথা এখনো বলেনি। দেশের বেশির ভাগ মানুষ টিকার আওতায় আসার পর বুস্টার ডোজের কথা চিন্তা করা হবে।

দেশে করোনার সংক্রমণ আবার বাড়লেও ভয়ের কিছু নেই বলে উল্লেখ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, করোনা নিয়ে এখন স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষিত জনবল আছে। এর বাইরে ৪ হাজার নতুন চিকিৎসক, ৮ হাজার নতুন নার্স, ১১ হাজার স্বাস্থ্যকর্মীসহ বিভিন্ন জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। হাসপাতালের শয্যাসহ অন্যান্য বিষয়েও কমতি নেই। তবে করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে মাস্ক পরা, সামাজিক দূরত্ব মেনে চলাসহ অন্যান্য সতর্কতা মেনে চলারও আহ্বান জানান। করোনার পাশাপাশি ডেঙ্গু নিয়েও সচেতন হতে হবে বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

রেফ্রিজারেটেড ভ্যান হস্তান্তর অনুষ্ঠানে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম। এতে ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেডক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট (আইএফআরসি), বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন