default-image

তাদের কাছে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন স্বপ্নপূরণের মতো ব্যাপার। কয়েক ঘণ্টার দুর্ভোগ ছয় মিনিটেই শেষ হওয়ার অপেক্ষায় তারা। পদ্মা সেতু উদ্বোধনের খবরে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে ক্ষণগণনা করছে এই অঞ্চলের মানুষ।

বরিশালের মুলাদির বাসিন্দা ইকবাল হোসেন ৩০ বছর ধরে ঢাকায় থাকেন। ১৯৯৮ সাল থেকে সড়কপথে পদ্মা নদী পাড়ি দিয়ে ঢাকা-বরিশাল যাতায়াত করছেন। নদীর স্রোত, ঝড়, বৃষ্টি, কুয়াশায় দিনের পর দিন দুর্ভোগে পড়তে হয়। এ কারণে ১০ বছর ধরে ঈদ ছাড়া তেমন একটা বাড়িতে যান না। পদ্মা সেতু চালুর আগে শেষবার নৌপথে ২ জুন গ্রামের বাড়িতে যান।

জাজিরা ঘাটে ইকবাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঢাকায় শ্রমিকের কাজ করি। গ্রামে পরিবারের সদস্যরা থাকে। দুই মাস পরপর বাড়িতে যেতাম। কিন্তু নৌপথ পাড়ি দিতে বৈরি আবহাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়তে হয়। কখনো কখনো ৮-১০ ঘণ্টায়ও নদী পার হওয়া যায় না। এ কারণে এখন শুধু ঈদে গ্রামে যাই। সেতু উদ্বোধনের খবরে আমি উচ্ছ্বাসিত।’

ঢাকা থেকে ফরিদপুরের ভাঙ্গার দূরত্ব ৬০ কিলোমিটারের মতো। এ পথটুকু গণপরিবহনে যেতে এখন তিন থেকে চার ঘণ্টা লাগে—পদ্মা পারাপারে স্পিডবোট, লঞ্চ বা ফেরি যে মাধ্যমই ব্যবহার করা হোক। পদ্মা সেতুতে যানবাহন চলাচল নির্বিঘ্ন করতে ঢাকা থেকে মাওয়া এবং জাজিরা থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত নির্মাণ করা হয়েছে ৫৫ কিলোমিটারের এক্সপ্রেসওয়ে। মূল এক্সপ্রেসওয়ে চার লেনের। আর সেতুর দুই পাশে ধীরগতির যানবাহন চলাচলের জন্য সাড়ে পাঁচ মিটার প্রশস্ত সড়কও রাখা হয়েছে।

পদ্মা সেতু চালু হলে এ পথ যেতে এক ঘণ্টার বেশি লাগবে না। নদী পার হওয়ার সময় ভোগান্তি দক্ষিণ–পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের নিত্যসঙ্গী ছিল। যখন ইচ্ছা ঢাকা থেকে বাড়িতে আসা বা ঢাকায় যাওয়া সম্ভব ছিল না। এখন তাদের স্বপ্নপূরণ হতে যাচ্ছে। এখন যখন প্রয়োজন দ্রুততম সময়ে ঢাকায় যেতে পারবেন, সকালে গিয়ে বিকেলে আবার বাড়িতে ফিরতেও পারবেন।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন