বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এবং সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর গতকাল শনিবার মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার নাটেশ্বরে প্রত্নতত্ত্ব খননকাজ পরিদর্শন করেছেন। অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে প্রত্নতত্ত্ব খননস্থল পরিদর্শন শেষে দুই মন্ত্রী সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় অংশ নেন।
খননকাজের উদ্যোক্তা অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য অন্বেষণের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক সুফি মোস্তাফিজুর রহমানের তত্ত্বাবধানে খননকাজ শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে এই খননকাজের সঙ্গে চীনের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের একটি প্রতিষ্ঠান যুক্ত হয়। ইতিমধ্যে এখানে হাজার বছরের পুরোনো নিদর্শন বৌদ্ধমন্দির, অষ্টকোনাকৃতি স্তূপ, বিশাল কেন্দ্রীয় মন্দির, ইটের তৈরি সড়ক, কক্ষ, দেয়াল, মেঝে ও ইটের তৈরি নালা আবিষ্কার করা হয়েছে।
গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নাটেশ্বরে খননকাজের স্থলেই অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের সভাপতি ও খননকাজের প্রকল্প পরিচালক নূহ-উল-আলম লেনিনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা হয়।
সভায় রাশেদ খান মেনন বলেন, একটি সময় পর্যটন খাতকে শিল্প হিসেবে দেখা হতো না। পর্যটন খাত এখন শিল্পের মধ্যে পড়েছে। বর্তমান সরকার তাই পর্যটনকে শিল্পনীতি হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে। মন্ত্রী বলেন, ‘বিদেশি পর্যবেক্ষকদের আকৃষ্ট করতে আমরা কাজ শুরু করেছি।’ বিভিন্ন স্থানে খননকাজের উদাহরণ টেনে মন্ত্রী বলেন, এসব আবিষ্কার শুধু সংরক্ষণ করে নয়, সুরক্ষা করে পর্যটন নগর গড়ে তোলা সম্ভব হবে। সেই লক্ষ্যে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে তাঁরা কাজ করছেন।
সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, ‘আমাদের অতীত ইতিহাস মাটির নিচে চাপা পড়ে আছে। সেগুলো উন্মোচন করে একটি পর্যটন নগরী গড়ে তুলতে চাই। আমাদের সংস্কৃতি সারা পৃথিবীর মাঝে তুলে ধরতে চাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘নাটেশ্বরের এই খননকাজ ছাড়াও আমরা দেশের বিভিন্ন স্থানে বেশ কয়েকটি খননকাজে হাত দিয়েছি। সেসব স্থানে খননকাজে যতই দিন যাচ্ছে নতুন নতুন ইতিহাস উন্মোচিত হচ্ছে।’ সরকারের আর্থিক সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বিদেশে এসব কাজ বেসরকারি উদ্যোগে হয়ে থাকে। সরকার এসব কাজে কেবল নিয়ন্ত্রকের দায়িত্ব পালন করে। সেখানে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছে। কাজ আরম্ভ সুন্দর হচ্ছে।
সংরক্ষণের অভাবে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো বিনষ্ট ও দখল হয়ে যাচ্ছে, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আসাদুজ্জামান নূর বলেন, ‘এই ক্ষেত্রে সরকারের আর্থিক সীমাবদ্ধতা থাকায় যথাসময়ে সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। তাই বিলম্বে সংরক্ষণের কারণে সেই সব স্থাপনা দখল হয়ে যাচ্ছে, এই কথা সত্য। প্রায় নায়িকা সুচিত্রা সেনের পৈতৃক বাড়িসহ দখল হয়ে যাওয়া অনেক স্থাপনাও আমরা উদ্ধার করেছি। এখানেও আমরা স্থানীয় সাংসদের সহযোগিতা পেলে দখল হয়ে যাওয়া বল্লাল সেনের দিঘিসহ যেসব স্থাপনা আছে, উদ্ধারে কাজ করব।’
আলোচনায় অংশ নেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব আকতারী মমতাজ, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের ডেপুটি রাষ্ট্রদূত ইয়াং সিচাও, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ, পুলিশ সুপার বিপ্লব বিজয় তালুকদার প্রমুখ।
আলোচনা সভার সবশেষে প্রকল্প পরিচালক নূহ-উল-আলম অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ষষ্ঠ ধাপের এই খননকাজের সমাপ্ত ঘোষণা করেন। পরে আবার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে সপ্তম ধাপের কাজ শুরু করা হবে।
সন্ধ্যায় খননস্থলের পাশে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ও অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনায় নাট্যধারার পরিবেশনায় নাটক অতীশ দীপঙ্কর সপর্যা মঞ্চস্থ হয়।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন