default-image

করোনাভাইরাস নিয়ে বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) গবেষণার অগ্রগতি ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি গণমাধ্যমকে জানানোর জন্য আজ বুধবার ডাকা সংবাদ সম্মেলনে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাংবাদিকেরা। সংবাদ সম্মেলনে করোনাভাইরাস গবেষণা নিয়ে নতুন কোনো অগ্রগতি তুলে না ধরে বার্তা সংস্থা সিএনএনে প্রকাশিত সংবাদের এক অংশে বাংলাদেশের নাম থাকায় তা নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করা হয়।

এ ছাড়া বৈশ্বিক করোনা গবেষণার তথ্যভান্ডার জার্মানির গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ অন শেয়ারিং অল ইনফ্লুয়েঞ্জা ডেটার (জিসএইড) একজন মুখপাত্রের হোয়াটসঅ্যাপ প্রশংসাবার্তার কথা তুলে ধরা হয়। একে বিসিএসআইআর গর্ব ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি মনে করে সংবাদ সম্মেলন ডাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা।

করোনাভাইরাস নিয়ে গবেষণার অগ্রগতি জানাতে খবর দিয়ে ডাকা হয়েছিল গণমাধ্যমকর্মীদের। বিভিন্ন গণমাধ্যমের শতাধিক কর্মী হাজির হন বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) সভাকক্ষে। অনুষ্ঠানের ব্যানারে লেখা ছিল ‘বিসিএসআইআরের জিনোমিক রিসার্চ ল্যাবরেটরির গবেষণার অগ্রগতি ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি’।

বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে বিসিএসআইআরের চেয়ারম্যান মো. আফতাব আলী শেখ বলেন, বিসিএসআইআরের জিনোমিক রিসার্চ সেন্টার এ পর্যন্ত ৩০৪টি করোনাভাইরাসের নমুনা বিশ্লেষণ করেছে। এর মধ্যে ২৬৩টি করোনাভাইরাসের পূর্ণাঙ্গ জিনোমিক গঠন উদঘাটন (হোল জিনোম সিকোয়েন্স) করেছেন। এগুলো বৈশ্বিক করোনা গবেষণার তথ্যভান্ডার জার্মানির জিসএইডে জমা দেওয়া হয়েছে।

মো. আফতাব আলী শেখ আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে জিনোম গবেষণায় ন্যূনতম সুযোগ থাকা সত্ত্বেও করোনা মহামারির সময়ে আমাদের গবেষণায় এ অর্জনকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছে। অতিসম্প্রতি বহুল প্রচারিত সংবাদ সংস্থা সিএনএন কোভিড-১৯ গবেষণার অগ্রগতির জন্য বাংলাদেশের গবেষকদের ভূয়সী প্রশংসা করেছে।’

বিসিএসআইআরের চেয়ারম্যান মূলত ১১ জানুয়ারি প্রচারিত ‘সিএনএন ফিলিপাইন’–এর একটি প্রতিবেদনের কথা তুলে ধরেন। ওই প্রতিবেদন ঘেঁটে দেখা যায়, প্রতিবেদনে বিসিএসআইআরের করোনা নিয়ে গবেষণার কথা বা নাম কোনোটিই উল্লেখ নেই। সেখানে বলা হয়েছে, ‘অনেক কম সম্পদ থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও সুরিনামের মতো দেশগুলো স্যাম্পল (করোনা) বিশ্লেষণের দিক দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে দ্রুতগতিতে কাজ করে।’

আফতাব আলী শেখের বক্তব্য শেষে দেশে করোনাভাইরাস গবেষণা নিয়ে প্রশ্ন করেন সাংবাদিকেরা। এ সময় তিনি বলেন, ‘গবেষণার ফলাফল গত মিটিংয়ে জানিয়েছি। যে কারণে আপনাদের ডেকেছি, তা হলো কোভিড গবেষণায় আমাদের ভূমিকা সম্পর্কে। জিসএইডে যে করোনার তথ্য সংরক্ষণ করছে, তা জানাতে। নতুন কোনো অগ্রগতি হলে সাংবাদিকদের জানানো হবে। গবেষণা চলমান আছে। যখন নতুন ফল পাওয়া যাবে, তখনই জানানো হবে।’

উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীরা জানতে চান, ‘আজ কেন ডাকা হলো? সর্বশেষ মিটিং হয়েছে তিন মাস আগে। এই তিন মাসে কী ফলাফল এল?’

মো. আফতাব আলী শেখ বলেন, ‘ফলাফলের বিশ্লেষণ এখনো সম্পূর্ণ করতে পারিনি। করলে জানাব।’

সাংবাদিকেরা আবার প্রশ্ন রাখেন, ‘বাংলাদেশ ছাড়াও তো সারা বিশ্বের অনেক দেশ করোনাভাইরাসের গবেষণার তথ্য জিসএইডে দিচ্ছে, এটা তো বড় কোনো বিষয় নয়, খুব স্বাভাবিক বিষয়।’

বিসিএসআইআরের চেয়ারম্যান বলেন, ‘বাংলাদেশের জন্য এটা একটা বিরাট খবর যে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বাংলাদেশে যে অসাধারণ কাজ হচ্ছে, ডেটা জমা দিয়েছে, তা নিয়ে সংবাদ হয়েছে। এটা আমাদের জন্য বিরাট খবর নয়?’ এ সময় সাংবাদিকেরা হেসে ওঠেন। এক সাংবাদিক প্রশ্ন রাখেন, ‘সিএনএন বাংলাদেশ লিখে সার্চ করলে এমন অসংখ্য খবর পাওয়া যাবে। একটি খবরে বাংলাদেশের নাম এসেছে, এর জন্য সংবাদ সম্মেলন কেন?’

বিসিএসআইআরের চেয়ারম্যান বলেন, ‘এটা বিরাট ব্যাপার আমাদের জন্য।

সিএনএনের তথ্য জানা ছিল না। জিসএইডের কর্মকর্তারা আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ, ই–মেইলে জানিয়েছেন, আমরা অসাধারণ কাজ করছি।’

সাংবাদিকেরা আবার প্রশ্ন রাখেন, ‘সেই অসাধারণ কাজটা কী?’ চেয়ারম্যান বলেন, ‘এই যে জিনোম সিকোয়েন্স করা।’

চেয়ারম্যানের পাশে উপস্থিত ছিলেন জিনোমিক রিসার্চ ল্যাবরেটরির প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. সেলিম খান। তাঁর সঙ্গে কথা বলতে চাইলে বিসিএসআইআরের চেয়ারম্যান সাংবাদিকদের বারণ করেন। তিনি বলেন, ‘না, না, এখন আমিই তো কথা বললাম। আমিই তো সব বলে দিলাম।’

বিসিএসআইআর সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সন্ধ্যায় হঠাৎ করে এই সংবাদ সম্মেলন করার সিদ্ধান্ত নেয় বিসিএসআইআর। প্রতিষ্ঠানটির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে তাড়াহুড়া করে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ ছিল সিএনএনের প্রশংসার কথা গণমাধ্যমকে জানাতে হবে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন