টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার ১৪টি মৌজার খাজনা নিচ্ছে না স্থানীয় ভূমি অফিস। প্রায় ১৯ বছর ধরে চলছে এই অবস্থা। এ কারণে সেখানে জমি কেনাবেচা হচ্ছে না। এমনকি এসব জমির বিপরীতে মালিকেরা ব্যাংক থেকে ঋণও তুলতে পারছেন না। এই পরিস্থিতিতে খাজনা নেওয়ার দাবিতে আগামী মাস থেকে কঠোর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সখীপুর ভূমি অধিকার বাস্তবায়ন কমিটি।
মৌজাগুলো হলো গড়গোবিন্দপুর, সখীপুর, প্রতিমাবংকী, লাংগুলিয়া, বেড়বাড়ী, রতনপুর, হাতীবান্ধা, হতেয়া, বাজাইল, কালমেঘা দেওয়ানপুর, কালমেঘা আতিয়া, কালমেঘা তালেপাবাদ, চতলবাইদ ও বহুরিয়া চতলবাইদ।
এসব মৌজার খাজনা নেওয়ার দাবিতে উপজেলায় ভূমিমালিকদের নিয়ে গঠিত এই কমিটি ১৯ বছর ধরে নানা আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে আসছে, কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। এই পরিস্থিতিতে গতকাল রোববার বেলা ১১টায় সখীপুর ডাকবাংলো চত্বরে সভা হয়। কমিটির সভাপতি জুলফিকার হায়দার কামালের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন পৌরসভার মেয়র আবু হানিফ আজাদ, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. ওসমান গণি, সখীপুর পাইলট মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ কে বি এম খলিলুর রহমান, উপজেলা পোলট্রি শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি নজরুল ইসলাম খান, সখীপুর ভূমি অধিকার বাস্তবায়ন কমিটি সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক প্রমুখ।
জানতে চাইলে সখীপুর ভূমি অধিকার বাস্তবায়ন কমিটি ও সখীপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘এর আগেও অনেক আন্দোলন হয়েছে, কিন্তু কাজ হয়নি। এবার এমন কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে, যে পর্যন্ত খাজনা নেওয়া না হবে, সে পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন থামবে না।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কী ধরনের কর্মসূচি পালন করা হবে, তা এখনো ঠিক করা হয়নি। আরও সভা ডাকা হবে। তখন এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
কমিটির সভাপতি জুলফিকার হায়দার বলেন, জমির খাজনা না নেওয়ায়, জমি নিবন্ধন না করতে পেরে বাধ্য হয়ে জমির মালিকেরা নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পের মাধ্যমে জমি কেনাবেচা ঠিকই করছেন। সরকার কোটি কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে। তবে জমির নামজারি ও সাবরেজিস্ট্রি মূলে বিক্রি না হওয়ায় ঢাকা শহরের কাছে হওয়ার পরও এই অঞ্চলে কোনো কারখানা গড়ে উঠছে না।
গড়গোবিন্দপুর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা খোরশেদ আলম বলেন, ‘খাজনা না নেওয়ায় আমরা আমাদের জমি চাষাবাদ করতে পারছি, কিন্তু জমি বৈধভাবে হস্তান্তর ও ব্যাংক থেকে ঋণ তুলতে পারছি না। আমরা নিজ ভূমিতেও পরবাসী হয়ে আছি।’
সখীপুরে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এই ১৪টি মৌজায় ১৯৭৬ থেকে ১৯৮৫ সালে দেশের অন্যান্য এলাকার সঙ্গে আরএস (রিভাইজড সার্ভে) জরিপ সম্পন্ন হয়। এরপর থেকেই ভূমিমালিকদের বরাবর নকশা ও পরচা দেওয়া হয়েছে। ১৪ মৌজার মধ্যে প্রথমে আটটি মৌজার ভলিউম স্থানীয় ভূমি অফিসে আসে এবং খাজনা আদায়ের জন্য নির্দেশও আসে। কিন্তু ১৯৯৮ সালে বন বিভাগ তাদের কিছু জমি ওই রেকর্ডে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে দাবি করে আপত্তি দিলে স্থানীয় ভূমি অফিস খাজনা নেওয়া বন্ধ করে দেয়। আর খাজনা নেওয়া হয়নি। ১৪ মৌজার খাজনা আদায় না হওয়ায় সরকার প্রতিবছর কয়েক কোটি টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অন্যদিকে ভূমির মালিকেরা তাঁদের দখলীয় জমি বিক্রি করতে পারছেন না। বৈধভাবে জমি কেনাবেচা না হওয়ায় নামজারিও হচ্ছে না।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরিফা সিদ্দিকা বলেন, ‘সরকারের স্বার্থসংশ্লিষ্টতা থাকায় আর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কোনো সুস্পষ্ট নির্দেশনা না আসায় আমরা ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) নিতে পারছি না।’
স্থানীয় সাংসদ অনুপম শাহজাহান বলেন, ‘খাজনা না নেওয়ার এই সমস্যা আমি ২৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদে তুলে ধরেছি। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। শিগগিরই সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করছি।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন