বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ২০২৩ সালের মধ্যে বিশ্বের খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা থেকে শিল্পোৎপাদিত ট্রান্সফ্যাটের ব্যবহার রোধের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এই লক্ষ্য পূরণের পাশাপাশি বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সব তেল, ফ্যাট ও খাদ্যপণ্যে শিল্পোৎপাদিত ট্রান্সফ্যাটের সর্বোচ্চ সীমা মোট ফ্যাটের ২ শতাংশে সীমিত রাখার লক্ষ্য বাস্তবায়নে ট্রান্সফ্যাট নিয়ন্ত্রণ প্রবিধানমালা চূড়ান্ত করেছে, যা মানুষের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশে অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

বিশ্বজুড়ে প্রতিবছর প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ ক্ষতিকর ট্রান্সফ্যাটের কারণে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। ডব্লিউএইচওর প্রতিবেদন অনুযায়ী, খাবারে ক্ষতিকর ট্রান্সফ্যাট ব্যবহারের কারণে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঝুঁকিতে থাকা শীর্ষ ১৫টি দেশের তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ। ক্ষতিকর এই উপাদানের ব্যবহার রোধে নীতিমালা প্রণয়নের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ, কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব), প্রগতির জন্য জ্ঞানসহ (প্রজ্ঞা) বিভিন্ন সংগঠন।

বুধবার এক বিজ্ঞপ্তিতে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার (অব.) আব্দুল মালিক বলেন, বর্তমানে দেশে তরুণ ও মাঝবয়সী জনগোষ্ঠীর মধ্যে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। ট্রান্সফ্যাটযুক্ত খাবার গ্রহণ এর অন্যতম কারণ। প্রবিধানটি বাস্তবায়িত হলে দেশে হৃদ্‌রোগ পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

বাংলাদেশে ট্রান্সফ্যাট নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে সার্বিক সহায়তা প্রদান করে থাকে গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটর (জিএইচএআই)। প্রতিষ্ঠানটির দক্ষিণ এশিয়া প্রোগ্রামের আঞ্চলিক পরিচালক বন্দনা শাহ্ বলেন, ইতিমধ্যে ভারত, তুরস্ক, ব্রাজিলসহ কয়েকটি দেশ ২০২৩ সালের মধ্যে খাবারে ক্ষতিকর শিল্পোৎপাদিত ট্রান্সফ্যাটের ব্যবহার বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে। এবার এই তালিকায় যুক্ত হলো বাংলাদেশ।

জিএইচএআইয়ের বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মুহাম্মাদ রুহুল কুদ্দুস বলেন, ভোক্তাদের জন্য ট্রান্সফ্যাটমুক্ত খাবার নিশ্চিত করা গেলে তাঁদের চিকিৎসা ব্যয় কমবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে দেশীয় খাদ্যপণ্যের চাহিদা বাড়বে।

এই বিষয়ে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, প্রবিধানটি দেশে ভোক্তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এ বি এম জুবায়ের বলেন, বাংলাদেশে হৃদ্‌রোগে মৃত্যুর ৪ দশমিক ৪১ শতাংশের জন্য সরাসরি দায়ী ট্রান্সফ্যাট। প্রবিধানমালাটি ২০৩০ সালের মধ্যে অসংক্রামক রোগজনিত অকালমৃত্যু এক-তৃতীয়াংশে কমিয়ে আনার টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, শিল্পোৎপাদিত ট্রান্সফ্যাট ক্ষতিকর একটি খাদ্য উপাদান। প্রতিদিনের খাবারের সঙ্গে মাত্রাতিরিক্ত ট্রান্সফ্যাট গ্রহণের ফলে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু, সাময়িক স্মৃতিভ্রংশের মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যায়।

খাবারে ক্ষতিকর ট্রান্সফ্যাটের প্রধান উৎস পারশিয়ালি হাইড্রোজেনেটেড অয়েল (পিএইচও)। এই উপাদান ডালডা নামে পরিচিত। বেকারিপণ্য, প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং হোটেল-রেস্তোরাঁ ও সড়কসংলগ্ন দোকানে তৈরি খাবারে সবচেয়ে বেশি ডালডা ব্যবহৃত হয়। ২০১৯ সালে পরিচালিত একটি গবেষণায় ঢাকার বাজারে প্রচলিত পিএইচও (পারশিয়ালি হাইড্রোজেনেটেড অয়েল) ব্র্যান্ডগুলোর নমুনার ৯২ শতাংশে ডব্লিউএইচওর সুপারিশকৃত ২ শতাংশের বেশি ট্রান্সফ্যাটের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন