আলোচিত ১০ ট্রাক অস্ত্র পাচার ষড়যন্ত্রে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সম্পৃক্ততা তদন্ত করে দেখা যেতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে তিনি এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এনএসআই, ডিজিএফআই তত্কালীন সরকারপ্রধানকে অস্ত্র আটকের ব্যাপারে জানিয়েছে। কোথাও কিছু ঘটলে সরকারপ্রধানকে জানানো তাদের কর্তব্য। তিনি (খালেদা জিয়া) কোনো কথা বলেননি। তিনি চুপ করেছিলেন। মৌনতা সম্মতির লক্ষণ। অর্থাত্ যেতে দিন।’ তিনি বলেন, ‘অস্ত্র ধরা পড়েছিল। প্রকৃত চোরাচালানকারীদের না ধরে গরিব একজন মানুষকে ধরা হয়েছিল।’ তিনি বলেন, ‘এক এক করে সবাইকে ধরব। কাউকে ছাড়ব না।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই মামলায় সাক্ষ্যতে তাঁর (খালেদা জিয়া) নাম এসেছে। সম্পূরক চার্জশিটও দেওয়া হয়েছে। বিচার কার্যও শেষ হয়েছে। এখন এর ষড়যন্ত্র তদন্ত হবে। এই যে অস্ত্র পাচার হচ্ছিল, এই ষড়যন্ত্রে কারা জড়িত, হাওয়া ভবনের সম্পৃক্ততা বা খালেদা জিয়ার সম্পৃক্ততা তদন্ত করে দেখা যেতে পারে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মাটিকে ব্যবহার করা হয়েছে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের লালন-পালন ও ট্রেনিং দেওয়ার কাজে। ভারতের সাতটা রাজ্য যেখানে একসময় বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন করছিল, খালেদা জিয়া তাদের স্বাধীনতাকামী বলে বক্তব্য দিয়েছিলেন। তাঁর দলের সাংসদরা পার্লামেন্টে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সমর্থন দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই সব সময় বাংলাদেশের মাটিকে ব্যবহার করত ভারতে বিচ্ছিন্নতাবাদকে সাহায্য করে। এটা হলো ভারত ভার্সাস পাকিস্তানের বিষয়। তিনি বলেন, ‘আমার এই সার্বভৌম দেশটাকে আমি কেন অন্য দেশের খোঁচাখুঁচির জন্য ব্যবহার হতে দেব। কেন অস্ত্র চোরাচালানের ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার হতে দেব?’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার দেশের মাটি ব্যবহার করে কোনো দেশে কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাবে, সেটা কিছুতেই বরদাশত করব না।’
জাসদের সাংসদ মইনুদ্দিন খান বাদল গোয়েন্দা সংস্থার নাম বদলানোর যে প্রস্তাব দেন সে প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গোয়েন্দা সংস্থার নাম বদলানো না, দায়িত্বটা সুনির্দিষ্ট করা। সেটা ঠিক করতে পেরেছি বলেই তারা পাঁচ বছর সঠিকভাবে কাজ করেছে।’

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন