পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার কাছারিবাড়ি খালের কিছু জায়গা দখল করে পাকা ভবন নির্মাণ করছেন স্থানীয় এক বাসিন্দা। সহকারী কমিশনার, ভূমির (এসি, ল্যান্ড) কার্যালয়ের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও কাজ চালিয়ে যাওয়ায় একটি উচ্ছেদ মামলা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।

গত রোববার সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, কাছারিবাড়ির খালের সাপলেজা বাজারসংলগ্ন এলাকায় দুটি ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। সেতুর দক্ষিণ প্রান্তের পূর্ব ও পশ্চিম পাশে সেতুর ভিত্তির (বেইজ) ওপর ইটের গাঁথুনি দিয়ে ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। পূর্ব দিকে একতলা পাকা ভবনের কাজ প্রায় শেষ। পশ্চিম দিকে ভবনের কলাম নির্মাণের কাজ চলছে। সেতুটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) নির্মাণ করেছে। স্থানীয় এমাদুল হক বলেন, সেতুর বেইজের ওপর ভবনের দেয়ালের গাঁথুনি দেওয়ায় সেতু ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়বে।

মঠবাড়িয়া এসি, ল্যান্ড কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এক মাস আগে এলাচি বেগম নিজের জমির সঙ্গে খালের কিছু অংশ দখল করে পাকা ভবন নির্মাণ শুরু করেন। এলাচি বেগম দক্ষিণ সোনাখালী গ্রামের সৌদি আরবপ্রবাসী সিদ্দিকুর রহমানের স্ত্রী।

এই অভিযোগ পেয়ে সাপলেজা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শ্যামল চন্দ্র পাল এসি, ল্যান্ডের কার্যালয়ে লিখিত প্রতিবেদন পাঠান। পরে এসি, ল্যান্ড মো. কামাল হোসেন সরেজমিনে জরিপকারী (সার্ভেয়ার) পাঠিয়ে জমি পরিমাপ করান। খালের জমি পরিমাপ করে দেখা যায়, এলাচি বেগম তাঁর জমির সঙ্গে খালের জমি দখল করে পাকা ভবন করছেন।

এলাচি বেগমের দাবি, তিনি খালের জমি দখল করেননি। ১৯৯৮ সালে এক ব্যক্তির কাছ থেকে তিনি ওই জমি কেনেন। ২০১২ সালে সেখানে দোতলা ভবন নির্মাণ করেন। ২০১৩ সালের জুলাই মাসে খালের বাঁধ কেটে দিলে ভবনটি খালে হেলে পড়ে। এখন আবার পাকা ভবন করা হচ্ছে।

জরিপকারী ইউসুফ তালুকদার বলেন, সাপলেজা মৌজার ১ নম্বর খাস খতিয়ানের ৬৫৬ দাগ নম্বরে খালের জমি দখল করেছেন এলাচি বেগম। সেতুর দক্ষিণ প্রান্তের পূর্ব পাশে তিনি ৫০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১০ ফুট প্রস্থ এবং পশ্চিম পাশে ২০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১০ ফুট প্রস্থ দুটি পাকা ভবন নির্মাণ করছেন।

এসি, ল্যান্ড বলেন, এলাচি বেগমকে খালের জমিতে নির্মাণকাজ বন্ধ করতে বলা হয়। তিনি তা না করায় গত ৩১ জানুয়ারি একটি উচ্ছেদের মামলা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।

উপজেলা প্রকৌশলী আবদুল মান্নান বলেন, এ বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন