বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এবার দেশজুড়ে বৈচিত্র্যময় আয়োজনের ভেতর দিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন করছে প্রথম আলো। এরই অংশ হিসেবে আয়োজন করা হয়েছিল সারা দেশের শিশু-কিশোরদের জন্য বয়সভিত্তিক দুটি বিভাগে ‘আমার বাংলাদেশ’ শীর্ষক চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। ‘ক’ বিভাগে ৩ থেকে ৯ বছর এবং ‘খ’ বিভাগে ১০ থেকে ১৬ বছর। উভয় বিভাগে মোট দুই হাজারের বেশি ছবি জমা পড়ে। তার মধ্য থেকে বাছাই করে ‘ক’ বিভাগে প্রথম থেকে পঞ্চম স্থান এবং ৫টি বিশেষ পুরস্কার এবং ‘খ’ বিভাগে সেরা তিন এবং সাতটি বিশেষ—এই ২০টি পুরস্কার দেওয়া হয়। পুরস্কার ছিল বই কেনার টাকা—প্রথম ৫০ হাজার, দ্বিতীয় ৩০ হাজার, তৃতীয় ২০ হাজার, চতুর্থ ও পঞ্চম ১০ হাজার এবং বিশেষ পুরস্কার হিসেবে প্রত্যেকের জন্য ৫ হাজার। সঙ্গে ছিল ছবি আঁকার সরঞ্জাম ও সনদ।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বরেণ্য শিল্পী রফিকুন নবী। পুরস্কার বিতরণ করেন ট্রান্সকম গ্রুপের সিইও, সাহসী সন্তান ফারাজ আইয়াজ হোসেনের মা সিমিন রহমান। আলোচনা করেন বিচারকমণ্ডলীর সদস্য মুক্তিযোদ্ধা শিল্পী আবুল বারক্‌ আল্‌ভী। বিচারকমণ্ডলীতে আরও ছিলেন শিল্পী আবদুল মান্নান, ফারেহা জেবা, ওয়াকিলুর রহমান ও অশোক কর্মকার। সঞ্চালনা করেন প্রথম আলোর ফিচার সম্পাদক সুমনা শারমীন।

default-image

রফিকুন নবী বলেন, ছোটরা মনের আনন্দে ছবি আঁকে। তাদের ছবিতে এমন অনেক বিষয়, রঙের এমন ব্যবহার থাকে যে অনেক সময় বিস্মিত হতে হয়। এমনকি ছোটদের ছবির সেই অভিনব বিষয়গুলো দেখে বড় শিল্পীরাও প্রভাবিত হন। তিনি অভিভাবকদের অনুরোধ করেন শিশুদের আঁকার সময় কোনো পরামর্শ না দিতে, তাদের মনের মাধুরী মিশিয়ে আঁকার স্বাধীনতা দিতে।

সিমিন রহমান বলেন, বাংলাদেশকে নিয়ে এই শিশুরা ছবি এঁকেছে। পুরস্কারের জন্য নয়, তারা এঁকেছে মনের আনন্দে, দেশকে ভালোবেসে। ফারাজ আইয়াজ হোসেনও দেশকে ভালোবেসে, বন্ধুত্বের মর্যাদা দিতে দিতে সাহসিকতার সঙ্গে আত্মোৎসর্গ করেছে। এই শিশুরাই একদিন সাহস ও দেশপ্রেম নিয়ে সব প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে দেশকে এগিয়ে নেবে।

বিচারকমণ্ডলীর পক্ষে আবুল বারক্‌ আল্‌ভী বলেন, শিশুরা এত চমৎকার ছবি এঁকেছে যে তার মধ্য থেকে সেরা বাছাই করা খুবই কঠিন ছিল। বিশেষ করে ‘ক’ গ্রুপের সেরা তিন পুরস্কারের জায়গায় আরও দুটি বাড়িয়ে পাঁচটি করা হয়েছে।

আবদুল মান্নান ও ফারেহা জেবাও খুদে আঁকিয়েদের উৎসাহ দিয়ে বক্তব্য দেন।

প্রতিযোগিতায় ‘ক’ বিভাগে প্রথম থেকে পঞ্চম হয়েছে পর্যায়ক্রমে ঢাকার ইয়াফিন ইমদাদ, নারায়ণগঞ্জের শেরেবাংলা একাডেমির প্রথম শ্রেণির মো. তাহমিদুল হক, ঢাকা স্কলাসটিকার নার্সারির ইথান দাস, ঢাকার সূত্রাপুরের জয়ীতা রহমান এবং ঢাকার ওয়াইডব্লিউসিএ জুনিয়র গার্লস হাইস্কুলের প্লে গ্রুপের জুনাইনাহ্ জামান।

বিশেষ পুরস্কার পেয়েছে আজমান আহম্মেদ, রুহিয়া মারহামা, সুয়াইদ তাজওয়ার, মো. সামীম উল্লাহ ও ইকরামুজ্জামান রাহিম।

‘খ’ গ্রুপে প্রথম হয়েছে ঢাকার আশরাফাবাদ উচ্চবিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির জয়ীতা চক্রবর্তী, দ্বিতীয় ঢাকার হলিক্রস বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির অদিতি প্রভা এবং তৃতীয় হয়েছে ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজের সপ্তম শ্রেণির আহনাফ মায়মুন। বিশেষ পুরস্কার পেয়েছে সুমাইয়া নাজনীন, অনন্যা চৌধুরী, তেরহীম উমাইজা, অপ্সরা সাহা, জুবায়ের হক ও ইমরুল কায়েস।

পুরস্কার বিতরণীর পর গানে গানে মন ভরিয়ে দিয়েছেন ‘কাপ সং’খ্যাত শিল্পী অবন্তী সিঁথি। ‘আমরা সবাই রাজা’ গেয়ে তিনি শুরু করেছিলেন, পরে গেয়েছেন ‘আকাশ কেন ডাকে’, ‘এমন যদি হতো’, ‘বকুল ফুল’। শেষ করেছেন ‘সাধের লাউ’ দিয়ে।

আজকের আয়োজন

আজ বুধবার বিকেলে থাকবে আলোচনা ‘নিজের বই নিয়ে’। অংশ নেবেন আকবর আলি খান, আনোয়ারা সৈয়দ হক ও মহিউদ্দিন আহমদ। আবৃত্তি করবেন জাভেদ হুসেন, গান শোনাবেন ফারহিন খান জয়িতা। সঞ্চালনা করবেন প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন