খুলনা জেলায় এক লাখ ফলদ, বনজ ও ঔষধি বৃক্ষ রোপণের পরিকল্পনা নিয়েছে জেলা প্রশাসন। জেলার নয়টি উপজেলার প্রতিটিতে ১০ হাজার করে ও মহানগর এলাকায় ১০ হাজার গাছ লাগানো হবে। গতকাল খুলনা জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির মাসিক সভায় জেলা প্রশাসক নাজমুল আহসান এই পরিকল্পনার কথা জানান।

জেলা প্রশাসক বলেন, চলতি বর্ষা মৌসুমেই এই গাছ লাগানো হবে। উপজেলাগুলোতে বৃক্ষরোপণের জন্য জেলা পরিষদের তহবিল থেকে এবং নগর এলাকায় জেলা প্রশাসকের অর্থায়নে এই গাছ লাগানো হবে। যে এলাকায় যে গাছ ভালো হবে, সেখানে সেই গাছ লাগানোর কথা বলা হয়েছে।

জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় জানানো হয়, খুলনা জেলা প্রশাসনের পয়লা বৈশাখের উৎসবে এ বছরও ইলিশ মাছের আয়োজন থাকছে না। এ সময়টা ইলিশের প্রজনন মৌসুম হওয়ায় জাতীয় স্বার্থে অন্যান্য দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানকেও তাদের পয়লা বৈশাখের অনুষ্ঠানে ইলিশ মাছ না রাখার আহ্বান জানান নাজমুল আহসান।

সভায় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, পৌর মেয়র, সিভিল সার্জন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ কমিটির অন্যান্য সদস্য অংশ নেন।

সভায় খুলনা ওয়াসার কাজে নিয়োজিত বিদেশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ওয়াসা ও পুলিশ বিভাগের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। এ ছাড়া প্রতিটি সরকারি অফিস, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে নিজ উদ্যোগে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়। মহিলা কর্মজীবী হোস্টেলের তদারকির দায়িত্ব গণপূর্ত বিভাগকে দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ, সড়ক ও জনপথ বিভাগের মাধ্যমে বর্ষা মৌসুমের আগেই ভাঙা ও চলাচল অনুপযোগী রাস্তাগুলো সংস্কার করা এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন যে অংশ সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে আছে তা খুলনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় আনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভায় বিএসটিআইয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সপ্তাহে তিন দিন জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে পরিচালিত ফরমালিনবিরোধী ভ্রাম্যমাণ আদালত ফলমূল, শাকসবজি ও মাছে কোনো ফরমালিনের অস্তিত্ব পাননি। ফায়ার সার্ভিস থেকে জানানো হয়, প্রতি সপ্তাহে এক দিন করে দুর্ঘটনা ও ভূমিকম্পে করণীয় মহড়া চলমান রয়েছে। এতে করে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের কাজে গতিশীলতা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সভাপতি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল বাস্তবায়ন, ওয়েব পোর্টাল হালনাগাদকরণ, জেলা ইনোভেশন কার্যক্রম জোরদার করা, ফেসবুকের মাধ্যমে বিভিন্ন সমস্যা সব অফিসের দৃষ্টিতে এনে তা সমাধান করে জনগণকে সেবা দিতে অনুরোধ জানান। জনগণ যেকোনো সামাজিক তথ্যসেবা বিনা মূল্যে গ্রহণে জাতীয় তথ্যকেন্দ্রের ১০৪ ও ৯৯৯ নম্বরে কল করে নিতে পারবেন বলে তিনি অবহিত করেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন