বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ভবনটি নিলামে বিক্রির জন্য গত বছরের ২১ ডিসেম্বর পত্রিকায় দরপত্র বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। ৪ জানুয়ারি ভবনটির দরপত্র জমার শেষ দিন ছিল। মোট ছয়টি দরপত্র জমা পড়ে।

এদিকে শতবর্ষী ভবন রক্ষায় ধারাবাহিক কর্মসূচি ঘোষণা করেন খুলনার শিক্ষাবিদ ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা। আজ বুধবার নগরের বিএমএ মিলনায়তনে রাজনীতিবিদ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের মতবিনিময় সভা থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। কর্মসূচির মধ্যে ছিল ১৩ জানুয়ারি ভবনটি সংরক্ষণের দাবিতে বিশিষ্ট নাগরিকদের পক্ষ থেকে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান, ১৪ জানুয়ারি সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের উদ্যোগে স্কুল কমপ্লেক্স এলাকায় চিত্রশিল্পী শশীভূষণ পালের ১৪৪তম জন্মবার্ষিকী উদ্‌যাপন, ১৫ জানুয়ারি বেলা ১১টায় নগরের পিকচার প্যালেস মোড়ে নাগরিক সংগঠন জন–উদ্যোগের পক্ষ থেকে মানববন্ধন ও ১৬ জানুয়ারি বেলা ১১টায় শশীভূষণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও শিক্ষা নিকেতনের কমিটির সঙ্গে সিটি মেয়রসহ খুলনার সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের মতবিনিময় সভা।

খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র তালুকদার আবদুল খালেকের সঙ্গে মতবিনিময় করেন সাংস্কৃতিক সংগঠক ও বিশিষ্ট নাগরিকেরা। সিটি মেয়র তাঁদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করেন এবং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের পরামর্শ দেন। তাৎক্ষণিক তিনি শশীভূষণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কমিটির সভাপতি ও দৌলতপুর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি সৈয়দ আলীকে নগর ভবনে ডেকে পাঠান। সেখানে সাংস্কৃতিক সংগঠকদের উপস্থিতি আপাতত ভবন ভাঙার কাজ স্থগিত রেখে স্থাপনাটি সংরক্ষণের বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি হুমায়ুন কবির। আলোচনা করেন খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম ডি এ বাবুল রানা, শিক্ষাবিদ আনোয়ারুল কাদির, খুলনা বিএমএর সভাপতি শেখ বাহারুল আলম, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের শিক্ষক শেখ সাদী ভূঁইয়া, প্যানেল মেয়র আলী আকবর, খুলনা জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান চৌধুরী রায়হান ফরিদ, সিপিবির মহানগর সভাপতি মিজানুর রহমান, জাসদের সাধারণ সম্পাদক খালিদ হোসেন প্রমুখ।

সভায় বক্তারা বলেন, উন্নয়নের নামে খুলনার ইতিহাস-ঐতিহ্য দিন দিন হারিয়ে যেতে বসেছে। ইতিমধ্যে খুলনার শত বছরের ঐতিহ্য প্রথম পৌর ভবন, ডাকবাংলো ভবন, পোস্টমাস্টার জেনারেলের কার্যালয় ভেঙে ফেলা হয়েছে। এখন ১৯০৪ সালে যাত্রা শুরু করা চিত্রশিল্পী শশীভূষণ পালের স্মৃতিবিজড়িত দেশের প্রথম আর্ট স্কুল মহেশ্বরপাশা স্কুল অব ফাইন আট৴সের প্রথম একাডেমিক ভবনটিও ভেঙে ফেলা হচ্ছে।

সাংস্কৃতিক কর্মীরা বলেন, শশীভূষণ পালকে বাংলাদেশের শিল্পকলায় পথিকৃৎ বলা হয়। তাঁর স্থাপিত মহেশ্বরপাশা স্কুল অব ফাইন আর্টের প্রথম একাডেমিক ভবনটি রক্ষার মাধ্যমে তাঁর স্মৃতিকে নতুন প্রজন্মের মাধ্যমে তুলে ধরা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন