default-image

শখের বশে গত মাসে বাগেরহাটের শরণখোলা থেকে ফিশিং ট্রলারে চড়ে রওনা দিলাম সুন্দরবনের উদ্দেশে। ট্রলারে মাঝিমাল্লা বাদে বাংলাদেশ ওয়াইল্ড লাইফ ক্লাবের আমরা মোট চারজন।
শরণখোলায় আমি ছোটবেলায় বহুবার যাতায়াত করেছি, বাবার কর্মস্থল ছিল ওখানেই। সিডরের মাত্র দুদিন পরেও আমরা কজন শরণখোলায় এসেছিলাম। বহু বছর বাদে ট্রলারে চড়ে চলেছি সুন্দরবনের পথে। মনটা ভালো লাগায় ভরে গেল তখন, যখন ট্রলারের পেছনে পেছনে উড়ে আসতে লাগল আটটি গঙ্গা কৈতর ও একটি কালো মাথা গঙ্গা কৈতর। ওরা পিছু নিয়েছে স্বভাবজাত কারণেই—ট্রলারের পেছন দিকের ঢেউয়ের মাথায় যদি কোনো মাছ দেখা যায়, তাহলে ডাইভ দেবে। ওরা উড়ছে ট্রলার থেকে সমান দূরত্ব বজায় রেখে, মনে হচ্ছে ট্রলারের পেছনে বাঁধা সুতোয় গাঁথা নয়টি ঘুড়ি উড়তে উড়তে আসছে।

 গঙ্গা কৈতর ও কালো মাথা গাঙ কবুতর—দুই প্রজাতির হলেও দেখতে একই রকম। স্বভাব-চরিত্র-জলের উপরিভাগে ডাইভ দিয়ে মাছ শিকারের কৌশল সব প্রায় একই রকম। গঙ্গা কৈতর আকারে কিছুটা বড়।

গঙ্গা কৈতর গাঙ কবুতর নামেও পরিচিত। এই পাখি দেখেননি এমন মানুষ বোধ হয় বাংলাদেশে পাওয়া যাবে না। শীতের সুলভ পরিযায়ী এই পাখিদের মূল খাবার মাছ। চারণভূমি হচ্ছে হাওর-বাঁওড়-নদী-মোহনা-দ্বীপ-চর ও বড় বড় বিল-জলাশয়। সুন্দরবন, কাপ্তাই লেকে দেখা মিলবে। মানুষকে তেমন ভয় পায় না। জলের ওপরে স্থির বসে থেকে ঢেউয়ের দোলা খেতে ভালোবাসে খুব। প্রয়োজনে দ্রুত উড়তে-ঘুরতে পারে। নজরে পড়লে ডালা থেকেও পোকা-পতঙ্গ ঠোঁটে তুলে খায়। বুড়িগঙ্গা নদীতে একসময় দেখা মিলত, এখন কি দেখা মেলে! ২০০৭ সালের সিডরের পরে প্রথম আলোর ফটোসাংবাদিক জিয়া ইসলাম সুন্দরবনের দুবলারচরের পাশ থেকে ভাসমান জীবিত একটি গঙ্গা কৈতরের ছবি তুলেছিলেন, সেটা ছাপাও হয়েছিল প্রথম আলোয়। খোলা সাগরে থেকে কী কৌশলে পাখিটা সিডরের মহাতাণ্ডব থেকে নিজেকে রক্ষা করে বেঁচে ছিল, কে জানে।

গঙ্গা কৈতরের ইংরেজি নাম Brown-headed Gull। বৈজ্ঞানিক নাম larus brunnicephalus। মাপ ৪২ সেন্টিমিটার। এদের শরীরের উপরিভাগ চকচকে ছাই-সাদা, বুক-পেট সাদা। ডানার প্রান্তের কালো রঙের ওপরে সাদা ছোপ। কানের কাছে গাঢ়-বাদামি ফোঁটা একটা। পা ও ঠোঁট লাল। খুশিতে বা প্রতিপক্ষকে হুঁশিয়ার করতে এরা ধাতব-সুরেলা কণ্ঠে অনেকটাই ‘ক্রিম ক্রিম’ বা ‘কুর কুর’ শব্দে ডাকে। একটানা উড়তে পারে অনেকক্ষণ।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন