বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আলোচনা সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সাবেক অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, এ বছর স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদ্‌যাপিত হচ্ছে কিন্তু ‘সুবর্ণ’ কতটুকু আছে, তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার কতটা নিশ্চিত হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন আছে।

দেশ পরিপূর্ণভাবে পুঁজিবাদী পদ্ধতিতে চলছে মন্তব্য করে সৈয়দ আনোয়ার হোসেন আরও বলেন, তাজউদ্দীন আহমদের বাজেটে বৈষম্য কমানোর উদ্দেশ্য ছিল। কিন্তু তার পর থেকে সব বাজেট দেওয়া হয়েছে পুঁজিবাদীদের স্বার্থ রক্ষা করে। গত ১২ বছরে বৈষম্য আরও বেড়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পরিবারতন্ত্র মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেন গণফোরাম নেতা মোস্তফা মহসীন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু মানুষের জন্য লড়েছেন। তিনি জনগণের নেতা ছিলেন। তিনি ব্যক্তিস্বার্থ চিন্তা করেননি। কিন্তু আজকের রাজনৈতিক নেতারা জনগণকে নিয়ে ভাবেন না। জনগণের কাছে যান না।

রাজনৈতিক দলগুলোকে নিজেদের মধ্যে গণতন্ত্রের চর্চার আহ্বান জানান নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারী ও ব্রতীর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন মোর্শেদ। তিনি বলেন, যে নেতা দায়িত্ব নেন, তিনি আজীবন একই পদে থাকতে চান। এই মনস্তত্ত্বের কারণে দেশে যোগ্য নেতৃত্ব গড়ে উঠছে না।

দেশের বামপন্থী দলগুলোর বিভক্তি নিয়ে আত্মসমালোচনা জরুরি বলে মন্তব্য করেন প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক সোহরাব হাসান।

সোহরাব হাসান বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ ও নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে বামপন্থীদের বড় ভূমিকা ছিল। কিন্তু বিভক্তির কারণে তারা এখন উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারছে না। পুঁজিবাদী রাষ্ট্রব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে ও শোষণ-বৈষম্যমুক্তির আন্দোলনে বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদ্‌যাপন পরিষদের আহ্বায়ক ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, বাসদ নেতা বজলুর রশীদ ফিরোজ প্রমুখ বক্তব্য দেন।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন