গণতন্ত্রের সূচকে আরও কিছুটা এগোল বাংলাদেশ। এবার অগ্রগতি হয়েছে চার ধাপ। গত মঙ্গলবার এ সূচক প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যের লন্ডনভিত্তিক দ্য ইকোনমিস্ট–এর সাময়িকীর ইন্টেলিজেন্স ইউনিট।

১৬৫টি দেশ ও দুটি অঞ্চল নিয়ে তৈরি করা হয়েছে ২০২০ সালের গণতন্ত্র সূচক। এর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৭৬তম। ২০১৯ সালের সূচকে বাংলাদেশ ছিল ৮০তম। আর তার আগের বছরে বাংলাদেশ ছিল ৮৮তম অবস্থানে। সেই হিসাবে এ সূচকে ধারাবাহিক উন্নতির পথে রয়েছে বাংলাদেশ।

বিজ্ঞাপন

গতবার বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৫ দশমিক ৮৮। এবার তা হয়েছে ৫ দশমিক ৯৯। গতবারের সঙ্গে একটি বিষয়ে অবশ্য এবারও মিল আছে। সেটি হলো গত কয়েকবারের মতো এবারও ‘হাইব্রিড শাসনব্যবস্থা’ বিভাগেই রয়েছে বাংলাদেশ। যেসব দেশের স্কোর ৪ থেকে ৬ এর মধ্যে, তারাই রয়েছে এ বিভাগে। সব মিলিয়ে এ বিভাগে আছে ৩৫টি দেশ।

হাইব্রিড শাসনব্যবস্থা বলতে ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট এমন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে বোঝায়, যেখানে প্রায়ই অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হয়। এ ধরনের শাসনব্যবস্থায় বিরোধী দল ও বিরোধী প্রার্থীদের ওপর সরকারের নিয়মিত চাপ থাকে। এ ছাড়া দুর্নীতির ব্যাপক বিস্তার ও দুর্বল আইনের শাসন, দুর্বল নাগরিক সমাজ এ ধরনের শাসব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য। এ বিভাগে থাকা দেশগুলোতে বিচারব্যবস্থা স্বাধীন নয় এবং সাংবাদিকদের হয়রানি ও চাপ দেওয়া হয় বলে ধরে নেওয়া হয়।

এবারের সূচকে শীর্ষ স্থানে আছে নরওয়ে। দেশটির স্কোর ৯ দশমিক ৮১। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে আছে যথাক্রমে আইসল্যান্ড ও সুইডেন। নিউজিল্যান্ড ও কানাডা আছে চতুর্থ ও পঞ্চমে। ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ পাঁচটিসহ মোট ২৩টি দেশে আছে পূর্ণ গণতন্ত্র। সূচকের ২৪তম স্থান থেকে ৭৫তম স্থান পর্যন্ত ৫২টি দেশে আছে ত্রুটিপূর্ণ গণতন্ত্র।

সূচকের ৭৬তম স্থানে থাকা বাংলাদেশ থেকেই শুরু হয়েছে ‘হাইব্রিড শাসনব্যবস্থা’। এর বাইরে আছে ‘কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থা’। মূলত যেসব দেশের স্কোর ৪–এর নিচে, সেসব দেশ এবার ‘কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থার’ তালিকাভুক্ত হয়েছে। এবার মোট ৫৭টি দেশ আছে এ তালিকায়। সূচকের সর্বনিম্ন স্থানে এবারও রয়েছে উত্তর কোরিয়া। সূচকে দেশটির স্কোর মোট ১ দশমিক ০৮। শেষ পাঁচে আরও আছে চাদ, সিরিয়া, মধ্য আফ্রিকা প্রজাতন্ত্র ও গণপ্রজাতান্ত্রিক কঙ্গো।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন