বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এদিকে ওই ঘটনায় দগ্ধ আরও একজন গতকাল ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে মারা গেছেন। এ নিয়ে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজনের মৃত্যু হলো। এ নিয়ে অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৪৭।

default-image

লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস ও ঝালকাঠি জেলা প্রশাসন পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করে। নৌপরিবহন অধিদপ্তরের প্রকৌশলী ও জাহাজ জরিপকারক মো. আরাফাত হোসেনকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে গত ২৭ ডিসেম্বর। তদন্ত কমিটিকে দুর্ঘটনার কারণ; ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ; যেসব আইন লঙ্ঘনের কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে, সেসব শনাক্ত করা; একই লঞ্চ আগে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিল কি না এবং এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে করণীয় জানাতে বলা হয়। কমিটিকে ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়।

নাম না প্রকাশের শর্তে তদন্ত কমিটির একজন সদস্য বলেন, ‘আমরা নিশ্চিত যে লঞ্চটিতে আগুনের সূত্রপাত ইঞ্জিন থেকেই হয়েছে। তবে ইঞ্জিনের কোথা থেকে বা কী কারণে ইঞ্জিন থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, তা বের করার কাজ করছি।’

নৌপরিবহন অধিদপ্তরের তদন্ত কমিটি নৌ–যন্ত্রকৌশলে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়ে লঞ্চের ইঞ্জিনসহ যাবতীয় বিষয় পরীক্ষা করে দেখেছে। একই সঙ্গে বেঁচে যাওয়া চিকিৎসাধীন যাত্রী ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলেছে। এ ছাড়া গ্রেপ্তার হয়ে এখন কারাগারে থাকা লঞ্চটির মাস্টার (চালক) ও ড্রাইভারের (ইঞ্জিন পরিচালক) সঙ্গে কথা বলার জন্য কারা কর্তৃপক্ষের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছে কমিটি।

লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ঝালকাঠি জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির মেয়াদ গতকাল সোমবার আরও সাত কর্মদিবস বাড়ানো হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত প্রতিবেদন ১০ জানুয়ারির মধ্যে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।

আর নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটি গতকাল রাতে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। তদন্ত কমিটি সূত্র বলছে, ইঞ্জিন কক্ষ থেকেই আগুনের সূত্রপাত ঘটেছে। আর লঞ্চটিতে অন্য একটি জাহাজের পুরোনো ইঞ্জিন লাগানো হয়েছিল।

১ আসামি এখনো পলাতক

ঢাকা থেকে বরগুনা যাওয়ার পথে গত ২৩ ডিসেম্বর দিবাগত মধ্যরাতে ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে এমভি অভিযান-১০ লঞ্চে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নৌপরিবহন অধিদপ্তরের করা মামলার আট আসামির মধ্যে এখন পর্যন্ত সাতজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এরা হলেন লঞ্চটির অন্যতম মালিক মো. হামজালাল শেখ, মো. শামীম আহাম্মেদ, মো. রাসেল আহাম্মেদ, ইনচার্জ মাস্টার রিয়াজ সিকদার, দ্বিতীয় মাস্টার খলিলুর রহমান, ইনচার্জ ড্রাইভার মো. মাসুম বিল্লাহ ও দ্বিতীয় ড্রাইভার আবুল কালাম।

পলাতক রয়েছেন লঞ্চের মালিক ফেরদৌস হাসান। লঞ্চের মালিকানার ৫০ শতাংশ হামজালাল শেখের, বাকিদের প্রত্যেকের অংশীদারত্ব ১৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ করে।

অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল অধ্যাদেশ (১৯৭৬) অনুযায়ী, দুর্ঘটনার মামলা হওয়ায় অভিযান-১০ লঞ্চের ফিটনেস সনদ, নিবন্ধন এবং মাস্টার-চালকদের সনদ স্থগিত করেছে নৌপরিবহন অধিদপ্তর। মামলায় অপরাধ প্রমাণিত হলে লঞ্চটির নিবন্ধনসহ সব সনদ বাতিল হয়ে যেতে পারে।

আর্থিক সহায়তা পেয়েছে ১৭ নিহতের পরিবার

মৃতদেহ সৎকারের জন্য প্রত্যকের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল ঝালকাঠি জেলা প্রশাসন। গতকাল পর্যন্ত জন্য বরগুনা জেলা প্রশাসকের দপ্তর থেকে ১৭ জনের পরিবারকে এ অর্থ দেওয়া হয়েছে। নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জের যে দুজন নিহত হয়েছেন, তাঁদের পরিবার এ অর্থ সংগ্রহ করবেন নিজ নিজ জেলা প্রশাসকের দপ্তর থেকে। তবে গতকাল পর্যন্ত এ দুই জেলা প্রশাসকের দপ্তরে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা যোগাযোগ করেননি।

অন্যদিকে নিহত ব্যক্তিদের প্রত্যেকের পরিবারকে নৌ দুর্যোগ তহবিল থেকে দেড় লাখ টাকা করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। নৌ দুর্যোগ তহবিল ট্রাস্টি বোর্ডের সচিব আবদুল আউয়াল প্রথম আলোকে বলেছেন, তাঁরা এখন পর্যন্ত নিহতদের কোনো ‘অফিশিয়াল’ তালিকা পাননি। পুলিশের কাছ থেকে তালিকা পাওয়ার পর প্রত্যেকের পরিবারকে নির্দিষ্ট ফরম পাঠানো হবে। ফরম পূরণ করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রত্যয়ন নিতে হবে। সহায়তা পাওয়ার যোগ্য হবে নিহত স্বামীর ক্ষেত্রে স্ত্রী, স্ত্রীর ক্ষেত্রে স্বামী, সন্তানের ক্ষেত্রে পিতা অথবা মাতা, পিতা-মাতার ক্ষেত্রে সন্তান, বিকল্প হিসেবে নিকটাত্মীয়। পরে এ ফরম জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে নৌ দুর্যোগ তহবিল ট্রাস্টি বোর্ডে পাঠাতে হবে। এরপর ক্ষতিপূরণের অর্থের চেক দেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, ওই ঘটনায় বরগুনা জেলা প্রশাসনের তালিকা অনুযায়ী, এখনো নিখোঁজ ৩১ জন।

(প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল; প্রতিনিধি, ঝালকাঠি ও বরগুনা; ও সংবাদদাতা, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল)

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন