বিজ্ঞাপন

বিয়ের পর থেকেই রাকিবুল ও ফাতেমার বনিবনা হচ্ছিল না। ফাতেমার বাবার বাড়ির লোকজনের অভিযোগ, রাকিবুল অন্য মেয়ের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ার কারণেই তাঁদের সংসারে অশান্তি দেখা দেয়। এ অশান্তির কারণে রাকিবুল প্রায়ই ফাতেমাকে নির্যাতন করতেন। এ নিয়ে গত দুই বছরে একাধিক সালিস বৈঠকও হয়েছে।

সম্প্রতি রাকিবুল তাঁর কর্মস্থল থেকে দুই মাসের ছুটি নিয়ে বাড়িতে আসেন। তিনি বাড়ি আসার পর ফাতেমার ওপর নির্যাতন বেড়ে যায় বলে তাঁর বাবার বাড়ির লোকজনের অভিযোগ। ৮ মে ফাতেমা স্বামীর বাড়ি থেকে বেড়া পৌর এলাকার শম্ভুপুর মহল্লায় অবস্থিত বাবার বাড়িতে চলে আসেন। ঈদের আগের দিন বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই ফাতেমাকে খুঁজে না পেয়ে তাঁর বাবা বেড়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ গতকাল রাতে রাকিবুলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় ডেকে আনে। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে পুলিশ জানতে পারে, রাকিবুলই মুঠোফোনে ফুসলিয়ে বাবার বাড়ি থেকে বাইরে ডেকে এনে ফাতেমাকে হত্যা করেছেন। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যানুযায়ী আজ সকাল ৯টার দিকে পুলিশ সাঁথিয়ার তলট গ্রামে ইছামতী নদীর ঘন কচুরিপানার ভেতর থেকে ফাতেমার লাশ উদ্ধার করে।


ফাতেমার ভাই মেহেদী হাসান বলেন, ‘বিয়ের পর থেকেই রাকিবুল আমার বোনের ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। এ নিয়ে আমরা একাধিক সালিস বৈঠক করেছি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বোনকে বাঁচাতে পারলাম না। আমরা ওর ফাঁসি চাই।’

পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, ‘নিখোঁজের অভিযোগ পাওয়ার পর থেকে আমরা মুঠোফোনের প্রযুক্তিগত সহায়তা নেই। এর ভিত্তিতে ও রাকিবুলকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে জানতে পারি, তিনি বুধবার রাত ২টার দিকে তাঁর স্ত্রীকে বাবার বাড়ি থেকে নিয়ে গেছেন।

মাসুদ আলম বলেন, এরপর রাকিবুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুরো ঘটনার তথ্য পাই। রাকিবুল জানান, হত্যার উদ্দেশ্যেই তিনি তাঁর স্ত্রীকে মোটরসাইকেলে করে ইছামতী নদীর পাড়ে তলট গ্রামে নিয়ে আসেন। এরপর পেছন থেকে ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে নদীর ঘন কচুরিপানার মধ্যে লাশ লুকিয়ে রেখে বাড়ি যান।’

বেড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অরবিন্দ সরকার বলেন, এ ঘটনায় গৃহবধূ ফাতেমার বাবা বাদী হয়ে রাকিবুলকে আসামি করে বেড়া থানায় হত্যা মামলা করেছেন। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন