রানার বাবা পান্নু মিয়া জানালেন, ‘সাকল্যে ১৭ হাজার টাকার মতো বেতন পেত রানা। নিজের খরচ কিছু রেখে, বাকি টাকা পাঠাত পরিবারকে। গত ঈদে সে বলেছিল, এ বছর একটা গরু কিনবে। সেটা আর হলো না। এর আগেই সবাইকে একা করে চলে গেল প্রাণের ছেলেটা।’

মানিকগঞ্জের শিবালয়ের নবগ্রামের বাসিন্দা রানারা তিন ভাই–বোন। তাঁর বড় বোন বন্যা আক্তারের বিয়ে হয়েছে। ছোট ভাই সাজ্জাদ হোসেন এইচএসসি প্রথম বর্ষে পড়ছে। আজ রোববার মুঠফোনে রানার বাবা বলেন, ২০২০ সালে ফায়ার স্টেশনে ফায়ারম্যান পদে রানার চাকরি হয়। ওই বছরের ২৪ নভেম্বর সীতাকুণ্ডের কুমিরা ফায়ার স্টেশনে যোগদান করেন। ছেলের আয়েই চলত টানাপোড়েনের সংসার। কিন্তু ছেলের মৃত্যুর পর সব অন্ধকার হয়ে গেছে।

অভাব যেন পিছু ছাড়ছে না তাঁদের। ছেলের চাকরির সুবাদে কিছুদিন ভালো কেটেছে। এখন আবার যন্ত্রণা। বর্তমান অবস্থার কথা বলেতে গিয়ে পান্নু মিয়া জানান, গ্রামের ভেতর তাঁর ছোট্ট একটা মুদিদোকান ছিল। করোনা মহামারির কারণে সে দোকান গুটিয়ে নিতে হয়। পুঁজির অভাবে পরে আর শুরু করা যায়নি। আয় বলতে এখন কিছুই নেই। কীভাবে সংসার চলছে, কীভাবে চলবে, তা–ও জানেন না তিনি। এর ওপর রানার মা রেণু বেগমের শারীরিক অবস্থা ভালো নয়। চিকিৎসার খরচও চলছে না।

রানার ভগ্নিপতি রাসেল শেখ জানান, বিএম কনটেইনার ডিপোতে আগুন লাগার খবর পেয়ে কুমিরা ফায়ার স্টেশনের সদস্যরা মুহূর্তেই ছুটে যান। ওই দলে ছিলেন রানা। আগুন নেভানোর কাজ করার সময় হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটে। এরপর তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। পরে হাসপাতালের মর্গে গিয়ে রানার খোঁজ পান পরিবারের সদস্যরা।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন