বিজ্ঞাপন

নাহিদের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কালিয়াকৈর বাজারের উত্তর পাশে শিমুলতলী এলাকায় ‘নিউ প্রত্যয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র’ নামের একটি চিকিৎসা কেন্দ্র খোলা হয়। নাহিদ লেখাপড়া ছেড়ে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ায় তাঁর পরিবার দেড় মাস আগে তাঁকে ওই নিরাময় কেন্দ্রে পাঠায়। তাঁকে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করার কথা থাকলেও বাস্তাবে সেখানে কোনো চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই। প্রতিদিন তাঁদের মারধর ও নিরাময় কেন্দ্রের কাজকর্ম করানো হতো। কেউ চলে যেতে চাইলে তাঁকে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখানো হয়। ওই কেন্দ্রে আরও ২৫-২৬ জন আছেন। তাঁদের প্রত্যেককেই চিকিৎসা না দিয়ে ভয়ভীতি আর মারধর করে বন্দী করে রাখা হতো। সেখানে চিকিৎসার নামে নানাভাবে শারীরিক নির্যাতন করা হয়।

নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে গতকাল বুধবার সকাল ১১টার দিকে কৌশলে নিরাময় কেন্দ্রের ছাদে ওঠেন নাহিদ। পরে ছাদ থেকে লাফিয়ে পাশে তুরাগ নদের তীরে যান। খবর পেয়ে ওই কেন্দ্রের লোকজন ওই নদের তীরে দৌড়ে গেলে নাহিদ ভয়ে নদে ঝাঁপিয়ে পড়েন। এরপরই তিনি নদের পানিতে ডুবে নিখোঁজ হন। নিখোঁজ হওয়ার এক দিন পর আজ দুপুরে তুরাগ নদ থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করে কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিস বাহিনীর ডুবুরি দল।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, ওই নিরাময় কেন্দ্রের কোনো অনুমোদন নেই। সেখানে চিকিৎসার নামে চলে শারীরিক নির্যাতন। সেখানে যাঁরা দায়িত্ব পালন করেন, তাঁরা নিজেরাও মাদকাসক্ত।

মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের পরিচালক শামীম আল মামুন বলেন, ছাদ দিয়ে পালিয়ে নাহিদ নদে ঝাঁপ দিয়েছেন। কেন্দ্রের লোকজন চেষ্টা চালিয়েও তাঁকে খুঁজে পাননি। এখানে থাকা ব্যক্তিদের কোনো নির্যাতন করা হয় না।

কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা কবিরুল আলম বলেন, আজ দুপুরে নাহিদের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। কালিয়াকৈর থানার ওসি মনোয়ার হোসেন চৌধুরী জানান, ওই ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন