default-image

রাজধানীর মিরপুরে গুলিতে নিহত তিন তরুণের মধ্যে দুজনের লাশ গতকাল মঙ্গলবার শনাক্ত করেছেন স্বজনেরা। তাঁরা বলেছেন, দুজনই পরিবহনশ্রমিক ছিল। তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা ছিল না।
পুলিশের দাবি, জনতার পিটুনি ও গুলিতে এ তিনজন নিহত হয়েছে। জনতা নাশকতা করার সময় তাদের ধরেছিল। তবে তাদের কারা গুলি করে হত্যা করেছে, তা উদ্ঘাটনে পুলিশের দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা নেই। গত রোববার রাতে মিরপুরের কাজীপাড়ার এই তিন তরুণকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তাদের শরীরে মোট ৫৪টি গুলির ক্ষত রয়েছে। রোববার গভীর রাতে তাদের লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয় মিরপুর থানার পুলিশ।
মর্গে গতকাল যে দুজনের লাশ স্বজনেরা শনাক্ত করেন, তারা হলো সুমন রবিদাস ও রবিন হোসেন। অপর লাশটি কেউ শনাক্ত করেনি। তবে তার নাম জুয়েল বলে পুলিশ জানিয়েছে।
সুমনের বাবা জনি রবিদাস জানান, সুমন বাসে, হিউম্যান হলারে চালকের সহকারী (হেলপার) হিসেবে কাজ করত। পুলিশ তার বয়স ২০ বছর উল্লেখ করলেও বয়স আসলে ১৭ বছর। কালশী বাইশতলা এলাকায় বস্তিতে পরিবারের সঙ্গে থাকত সুমন। রোববার সকালে গাড়িতে কাজে যেতে বাসা থেকে বের হয়। এর পর থেকে তার কোনো খোঁজ পাননি তাঁরা।
সুমনের মা জ্যোৎস্না রবিদাস জানান, বংশপরম্পরায় তাঁরা মুচি। তাঁর স্বামী কালশীতে রাস্তার পাশে জুতা মেরামত করেন। সুমন এ কাজে না এসে বাসে-হিউম্যান হলারে হেলপারি করত। পরিবারের সবাই খেটে খায়। কখনো কোনো অপরাধে জড়ায়নি সুমন। কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, ‘আমার বাবারে কে মারল। ও তো কোনো দোষ করে না।’
রবিনের চাচা রুবেল হোসেন বলেন, কালশী কবরস্থানের পেছনে দাদি হালিমা খাতুনের সঙ্গে থাকত রবিন। পুলিশ তার বয়স ২০ বছর লিখলেও আসলে ১৫ বছরের বেশি নয়। মাত্র দেড় বছর আগে তার খৎনা করা হয়েছে।
হালিমা খাতুন জানান, রবিনের মা মুন্নী বেগম মারা গেছেন। বাবা সেলিম মিয়া আরেকটি বিয়ে করে অন্যত্র থাকেন। এ কারণে নাতিকে তিনি নিজের কাছে রেখেছিলেন। তিনি গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করেন। আগে পোশাক কারখানায় কাজ করলেও রবিন পরে বাসে-লেগুনায় কাজ শুরু করে।
এদিকে এই তিন তরুণকে হত্যার ঘটনায় মিরপুর থানায় মামলা হলেও পুলিশের দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা নেই। পুলিশ বলছে, নিহত তিনজন নাশকতাকারী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘বয়স কম হলেও এরা আসলে খুব হিংস্র প্রকৃতির, কোনো বুক-পিঠ নাই। টাকা দিলে এরা সব কাজই করতে পারে। তাদের যদি কেউ মেরে থাকে, সেটাকে আপনাদের (গণমাধ্যমের) সমর্থন করা উচিত। আপনারা (গণমাধ্যম) তো এ ঘটনার জন্য পুলিশকে ইঙ্গিত করছেন। কিন্তু পুলিশ তাদের গুলি করেনি।’
ওই হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) আসাদুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, কে বা কারা ওই তিন তরুণকে গুলি করল, তাদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। এর বেশি তিনি কিছু বলতে রাজি হননি।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন