default-image

অমর একুশের বইমেলার সময় বদলে গেছে। গতকাল বুধবার কোনো আগাম জানান না দিয়েই সময় বদলে যাওয়ায় প্রকাশকেরা যেমন নাখোশ হয়েছেন, তেমনি বরাবরের মতো সন্ধ্যা নাগাদ মেলায় প্রবেশ করতে গিয়ে ফটকে বাধা পেয়ে বিস্মিত হয়েছেন অনেকেই।

এমনই এক দম্পতি আরমান আখন্দ ও সাবরিনা আফরোজ এসেছিলেন রাজধানীর সিপাহীবাগ থেকে। ঘড়িতে তখন সন্ধ্যা ৬টা বেজে ১০ মিনিট। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের টিএসসি–সংলগ্ন গেট দিয়ে প্রবেশ করতে চাইলে নিরাপত্তারক্ষীরা জানান, মেলায় ঢোকা যাবে না। সন্ধ্যা ছয়টায় গেট বন্ধ। একে একে অনেকেই এসে জমছিলেন গেটের সামনে এবং আচমকা এই সময় বদলের সিদ্ধান্তে বিস্মিত হয়ে মেলায় ঢুকতে না পেরে অনেকটা ক্ষুব্ধ হয়েই ফিরে গেছেন তাঁরা।

নতুন সময়

একাডেমির তথ্যকেন্দ্র থেকে মেলায় নতুন সময়সূচির ঘোষণা দেওয়ার পর স্টলের বিক্রেতা ও প্রকাশকেরা নতুন সময় সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। পরে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়েও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে এখন থেকে কার্যদিবসে মেলা চলবে বেলা তিনটা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা এবং ছুটির দিন ১১টা থেকে সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত। ছয়টায় গেট বন্ধ করে দেওয়া হবে।

নতুন সময় সম্পর্কে জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সাবেক সভাপতি ও বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির সদস্য আগামী প্রকাশনীর প্রকাশক ওসমান গণি বললেন, এ ধরনের আকস্মিক সিদ্ধান্ত খুবই দুঃখজনক। বইমেলায় সাধারণত মানুষ আসে অফিস বা অন্য কাজ শেষ করে। তা ছাড়া এখন তিনটার দিকে প্রচণ্ড রোদ থাকে। বিকেল পাঁচটার আগে লোকই আসে না। একাডেমি এককভাবে এ ধরনের সিদ্ধান্ত না নিয়ে উচিত ছিল প্রকাশকদের সঙ্গে আলোচনা করে সময় নির্ধারণ করা। তিনি বলেন, বিকেল চারটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা যুক্তিসংগত হবে। নয়তো নতুন এ সময়সূচি অনেকটা মেলা বন্ধ করে দেওয়ারই নামান্তর।

এ বিষয়ে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী প্রথম আলোকে বলেন, সময় পরিবর্তন করা একাডেমির একক সিদ্ধান্ত নয়। এটি সরকারি সিদ্ধান্ত। গতকালই সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় থেকে এ নতুন সময় নির্ধারণ করে তা কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, যাঁরা প্রকৃতপক্ষেই বই কিনতে চান, তাঁদের জন্য সাড়ে তিন ঘটনা যথেষ্ট সময়। তা ছাড়া ক্রেতারা ছুটির দিনে বই কেনার লম্বা সময় পাবেন। মেলার ভেতরে এসে মাস্ক খুলে লেকের পাড়ে বসে আড্ডা দেওয়ার যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তা গ্রহণযোগ্য নয়।

বিজ্ঞাপন
default-image

প্রথমার বই

মেলায় প্রথমার নতুন বই দেশের অন্যতম প্রধান লেখক সৈয়দ আবুল মকসুদের নবাব সলিমুল্লাহ ও তাঁর সময়। নবাব সলিমুল্লাহ বিশ শতকের অন্যতম শীর্ষ রাজনীতিবিদ, উপমহাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক দল ‘অল ইন্ডিয়া মুসলিম লীগ’-এর প্রতিষ্ঠাতা। তাঁকে বলা হয় বাঙালি মুসলিম রাজনীতির জনক। তিনি অবহেলিত ও আত্মবিস্মৃত বাঙালি মুসলমানকে সর্বভারতীয় রাজনীতির মূলধারায় যুক্ত করেন। পূর্ববঙ্গ তথা বর্তমান বাংলাদেশে শিক্ষাবিস্তারে তাঁর ভূমিকা তুলনাহীন। এ বইয়ে গবেষণার মাধ্যমে স্যার সলিমুল্লাহকে সামগ্রিকভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

অন্য বই

কাল নতুন বই এসেছে ৯৭টি। উল্লেখযোগ্য বইগুলোর মধ্যে আগামী এনেছে অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ, মঞ্জু সরকারের উপন্যাস উজানযাত্রা, অনন্যা এনেছে হাবীবুল্লাহ সিরাজীর দুটো বই উপন্যাস পরাজয় এবং করোনাকালের দিনলিপি পরাজয় মানে না মানুষ। অবসর এনেছে মোতাহের হোসেন চৌধুরীর প্রবন্ধ ‘সংস্কৃতি-কথা’র নতুন সংস্করণ। অন্যধারা এনেছে মোজাফফার বাবুর উপন্যাস কুহেলিকা। গ্রন্থকুটির এনেছে অধ্যাপক সুভাগত চৌধুরীর স্বাস্থ্যের সাতসতেরো। দেশ পাবলিকেশন এনেছে মাহমুদুর রহমানের রম্যগল্প দেবুদার আত্মাহুতি। জনান্তিক এনেছে কাজী মোহাম্মদ শীশের প্রবন্ধ করোনাকালীন মন্থিত হৃদয়, চন্দ্রবিন্দু এনেছে ফেরদৌস রহমানের কাব্য তুমি অন্য কারো ছাতিম ফুল, পাঠক সমাবেশ এনেছে ড. সুনীল কান্তি দের কলিকাতাকেন্দ্রিক নবজাগরণ ও বাঙালি মুসলমান, মাদার্স পাবলিকেশনস এনেছে স্বরোচিষ সরকারের বাংলাদেশে বিদ্যাসাগর চর্চা।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন