বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সেই ঘোষণার প্রতিবাদেই ‘গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের বাগদা ফার্মের সাঁওতালসহ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ভূমি অধিকার রক্ষায় রাষ্ট্র ও নাগরিকদের করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

সভায় সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা সুলতানা কামাল সভাপতিত্ব করেন। তিনি বলেন, ‘আমলাদের মাধ্যমে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত উদ্যোগ দেখতে দেখতে আমরা হাঁপিয়ে উঠেছি। এ বিষয়গুলো আইনগতভাবে মোকাবিলা করতে হবে। কার ওপর ভিত্তি করে এ জমিতে ইপিজেড করার ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে, তা আমাদের দেখতে হবে।’

২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর এই বাগদা ফার্ম এলাকায় জমির মালিকানা নিয়ে পুলিশের সঙ্গে স্থানীয় সাঁওতালদের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে পুলিশের গুলিতে রমেশ টুডু, শ্যামল হেমব্রম ও মঙ্গল মার্ডি নামের তিন সাঁওতাল নিহত হন। আহত হন উভয় পক্ষের ২০ জন।

অনুষ্ঠানে ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য বলেন, এই জমি অধিগ্রহণের সময় যে চুক্তি হয়েছিল, সে মোতাবেক নিরহ সাঁওতাল ও বাঙালিদের সম্পত্তি ফেরত দিতে হবে। এটা কোনো মগের মুল্লুক নয়। প্রধানমন্ত্রী বারবার নির্দেশনা দিয়েছেন দু–তিন ফসলি জমিতে শিল্পায়ন হবে না। ইপিজেড তৈরির ঘোষণা সে নির্দেশনার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

অনুষ্ঠিত ওয়েবিনারে বাগদা ফার্মের বর্তমান পরিস্থিতির ওপরে এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা নিবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি তাঁর প্রবন্ধে বাগদা ফার্মের কৃষিজমিতে ইপিজেড স্থাপনের প্রতারণামূলক প্রকল্প বাতিল ঘোষণার দাবি জানান। এ ছাড়া ২০১৬ সালের ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণের দাবি করেন।

অনুষ্ঠানে বেসরকারি সংগঠন নিজেরা করির সমন্বয়ক খুশী কবির বলেন, রাষ্ট্রের মূল উৎস জনগণ। তাদের ক্ষতিগ্রস্ত করে, প্রচলিত নীতিমালা ও আইন লঙ্ঘন করে মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের স্বার্থের জন্য রাষ্ট্র কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। আমাদের কৃষিজমি না থাকলে খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত হবে কীভাবে?

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন করার জন্য কোনো পরিবেশগত ছাড়পত্র নেওয়া হয় না। তাহলে কৃষিজমি কীভাবে রক্ষা পাবে?

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং, আইনজীবী সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন