রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) আবাসন ও আশ্রয়ণ প্রকল্পে ভিজিডি কার্ড বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল রোববার আবাসন ও আশ্রয়ণ প্রকল্পের সভাপতিরা এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান এবং সচিবের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, রাজবাড়ী-১ আসনের সাংসদের পরামর্শে দেবগ্রাম ইউনিয়নের পাঁচটি আবাসন ও আশ্রয়ণ প্রকল্পের জন্য ১০০ কার্ড বরাদ্দ দেওয়া হয়। বরাদ্দ পাওয়ার পর সমবায় কর্মকর্তার উপস্থিতিতে যাচাই-বাছাই শেষে উপকারভোগী ব্যক্তিদের ভিজিডি তালিকা প্রস্তুত করে ইউএনওর দপ্তরে পাঠানো হয়। পরে ইউএনও ও সমবায় কর্মকর্তা যৌথ স্বাক্ষর করে দেবগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে তালিকাটি দেন। কিন্তু ইউপি চেয়ারম্যান ও সচিব পরস্পর যোগসাজশে তালিকার বেশ কিছু নাম বাদ দিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে নাম যোগ করে চূড়ান্ত তালিকা করে উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তার দপ্তরে অনুমোদনের জন্য জমা দেন।

আশ্রয়ণ প্রকল্প-২-এর সমবায় সমিতির সভাপতি জিন্নাত প্রামাণিক উদাহরণ দিয়ে বলেন, প্রকল্পের বাসিন্দা হিসেবে রেখা (২২) নামের একজনকে দেখানো হয়েছে, যাঁর ভিজিডি কার্ড নম্বর ৪৬৭। অথচ তাঁর বাড়ি আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাইরে। পাশের দৌলতদিয়া ইউপির ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আফতাব উদ্দিনের মেয়ে রোজিনাকে (৩০) এই প্রকল্পের বাসিন্দা দেখিয়ে কার্ড (নম্বর ৪৬৮) দেওয়া হয়েছে।

আবাসন-১-এর সভাপতি জহর উদ্দিন মোল্লা বলেন, তাঁর আবাসনের ৮০ জনের মধ্যে ২৫ জনের নাম তালিকায় ছিল। তাঁদের মধ্য থেকে মাত্র ৩ জনকে রেখে ২২ জনের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। ৩ বছর আগে দেবগ্রামের বাসিন্দা আবদুল জব্বারের মেয়ে ঝরনা খাতুনের মানিকগঞ্জে বিয়ে হয়েছে। অথচ তাঁর নামে কার্ড বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ছালেহা বেগম নামে ৭০ বছরের এক বৃদ্ধাকে কার্ড দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে দেবগ্রাম ইউপির চেয়ারম্যান আতর আলী সরদার গতকাল দুপুরে বলেন, ‘সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করে তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। এখানে বিশেষ কোনো ব্যক্তি বা কারও পছন্দের নামে কার্ড দেওয়া হয়নি। এ ছাড়া যাঁদের বাইরের বলা হয়েছে, তাঁদের কারও বিয়ে হলেও কেউ স্বামীর বাড়ি হিসেবে বা বাবার ঘর হিসেবে আশ্রয়ণ প্রকল্পেই বাস করেন। আমার ইউনিয়নের অধিকাংশ মানুষ দরিদ্র ও ভিক্ষুক শ্রেণির। অনেক সময় নিয়ম মেনে চলা যায় না। কারও নাম হয়তো বাদ পড়তে পারে। এ ক্ষেত্রে যিনি বেশি দরিদ্র বা ভিক্ষুক, তাঁকে কার্ড দেওয়া হয়েছে। কাজ করতে গেলে একটু-আধটু ভুল হতেই পারে। আমি তো মানুষ, ফেরেশতা নই। এ ছাড়া এখান থেকে সরকারি দলের জন্য বরাদ্দ দিতে হয়। আরও কিছু নিয়ম মানতে হয়। অথচ আমার পরিবারের কেউ তো এসব কার্ড নেননি। অহেতুক আমার বিরুদ্ধে একটি চক্র ওঠেপড়ে লেগেছে।’

উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা বি এম নজরুল হুদা বলেন, ‘গত বছরের ডিসেম্বরে ওই সময়কার ভারপ্রাপ্ত ইউএনওর নির্দেশে আবাসন ও আশ্রয়ণ প্রকল্পের নির্বাচিত নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে তালিকা করেছি। অধিকাংশ লোকের নাম বাদ দিয়ে চেয়ারম্যান ও পরিষদের সদস্যরা অন্য এলাকার লোকের নামে কার্ড দিয়েছেন, যা মোটেও ঠিক হয়নি।’

এ প্রসঙ্গে ইউএনও মো. হাসান হাবিব গতকাল বেলা সোয়া দুইটার দিকে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘এ-সংক্রান্ত বিষয় আমার জানা নেই। নিয়ম অনুযায়ী ভিজিডির তালিকা ইউপি চেয়ারম্যান ও পরিষদ থেকে করার কথা। যদি কোনো অভিযোগ থাকে তাহলে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন