লিখিত বক্তব্যে ক্যাব বলেছে, দেশে উৎপাদন করে এক টাকায় গ্যাস পাওয়া সম্ভব। তা না করে খোলাবাজার (স্পট মার্কেট) থেকে ৮৩ টাকা ৪৭ পয়সা মূল্যহারে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করা হবে, আর গ্যাস কোম্পানির ঘাটতি মোকাবিলায় ভোক্তার কাছ থেকে বাড়তি টাকা নেওয়া হবে—এতে ক্যাবের আপত্তি আছে। লুণ্ঠনমূলক ব্যয়বৃদ্ধি না করে মুনাফা সমন্বয়ের প্রস্তাব দিয়েছে তারা।

সরকারি ভর্তুকি ১০ হাজার ৭৯২ কোটি টাকা বহাল রাখা এবং আগের উদ্বৃত্ত প্রায় ২ হাজার ৫৩৮ কোটি টাকা সমন্বয় করে গ্যাসের দাম ১৭ পয়সা কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে ক্যাব। গ্যাস তছরুপ প্রতিরোধে আবাসিক গ্রাহকদের ২ চুলায় মাসে ৭৭ ঘনমিটারের পরিবর্তে ৪০ ঘনমিটার ব্যবহার ধরে বিল নির্ধারণের প্রস্তাব করেছে তারা।

গ্যাস তছরুপ ও অবৈধ সংযোগের সুযোগ রাখায় তিতাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে ক্যাব। তারা বলছে, শুধু গ্যাস কোম্পানির প্রস্তাব নয়, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন গঠিত কারিগরি কমিটির সুপারিশও গ্যাসের দাম বাড়ানোর যৌক্তিকতা প্রমাণ করতে পারেনি গণশুনানিতে।

গ্যাসের দাম গড়ে ১১৭ শতাংশ বাড়ানোর দাবি করেছে গ্যাস কোম্পানিগুলো। বিইআরসির কারিগরি কমিটি ২০ শতাংশ বাড়ানোর সুপারিশ করেছে। আর ১ দশমিক ৬৫ শতাংশ কমানোর দাবি করেছে ক্যাব। ঈদের পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবে বিইআরসি।

ক্যাবের চেয়ারম্যান গোলাম রহমান বলেন, গ্যাস–সংকট অর্থনীতিকে স্থবির করে দিচ্ছে। এর মধ্যেই দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে। দাম বাড়ানোর প্রস্তাব প্রত্যাহার করে নিতে সরকার নির্দেশনা দিতে পারে। গ্যাস, বিদ্যুৎ, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সময় এখন নয়। নিত্যপণ্যের দামে জনজীবন এখন চাপের মধ্যে আছে। তাই দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হবে গণবিরোধী।

ভূতত্ত্ববিদ বদরুল ইমাম বলেন, খোলাবাজার থেকে না কিনেও সমাধানের সুযোগ আছে। চুরি বন্ধ করতে হবে। বছরে চার হাজার কোটি টাকার গ্যাস পাইপলাইন থেকে চুরি হচ্ছে। দেশি কোম্পানি সক্ষমতা অনুযায়ী উৎপাদন করতে পারছে না। সংস্কারকূপ খনন করে স্বল্প মেয়াদে উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ আছে। আর দীর্ঘ মেয়াদে অনুসন্ধান বাড়াতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ক্যাবের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি এম শামসুল আলম। তিনি বলেন, গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির অজুহাত তৈরি করা সেবার স্বার্থে নয়, অসাধু ব্যবসার স্বার্থে। এমন অসাধু ব্যবসা প্রতিরোধ করার ব্যাপারে আইনি বাধ্যবাধকতা থাকলেও বিইআরসি নিষ্ক্রিয়। এই নিস্ক্রিয়তা গ্যাস–সংকট সমাধানে বড় বাধা।

পরে এক প্রশ্নের জবাবে এম শামসুল আলম বলেন, পুরো জ্বালানি প্রশাসন গণবিরোধী অবস্থানে চলে গেছে। প্রশাসনিকভাবে অধিকার না পেলে আদালতে তো যেতেই হবে।
মূল্যহার বৃদ্ধি না করে গ্যাসের বিদ্যমান মূল্যহার বহাল রেখে সব পর্যায়ের ট্যাক্স-ভ্যাট, গ্যাস সংস্থাগুলোর মুনাফা ও অযৌক্তিক ব্যয় কমিয়ে ভর্তুকি কমানোর কৌশল গ্রহণের প্রস্তাব করেছে ক্যাব। তারা বলছে, গ্যাস খাতে সুশাসন নিশ্চিত করতে সুপারিশ প্রণয়নের জন্য পক্ষসমূহের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিশন গঠন করা যেতে পারে। তিতাসের অবৈধ গ্যাস–সংযোগ ব্যবহারকারীদের শনাক্ত করার জন্য গোয়েন্দা সংস্থাকে দায়িত্ব দিতে পারে সরকার।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন