আট-নয় বছর ধরে রাস্তাটি ভাঙাচোরা। বর্ষায় ডুবে থাকে পানির নিচে। এটি সংস্কারের দাবিতে গ্রামবাসী অনেকের কাছে ছুটে গেছেন, কিন্তু লাভ হয়নি। অবশেষে গ্রামবাসী নিজেরাই চাঁদা তুলে শুরু করলেন মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার বাগেশ্বর-আমীরপুর রাস্তার কাজ।

গত মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার পাঁচগাঁও ইউনিয়নের কাওয়াদিঘি হাওরপাড়ের গ্রাম আমীরপুরের সেতুর কাছে আমীরপুর-বাগেশ্বর রাস্তার ওপর মাটি ফেলা হচ্ছে। শ্রমিকেরা পাশের ধানি জমি থেকে মাটি এনে রাস্তায় ফেলছেন। গ্রামের লোকজন কোদাল ও বাঁশ দিয়ে সেই মাটি সমান করছেন। এ সময় আমীরপুর গ্রামের শামছুল হক (৫৫) বলেন, ‘রাস্তার লাগি এমপি, ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান—সবার কাছে হাঁটতে হাঁটতে হয়রান। দেখি নিজেরা এখন করতে পারি কি না।’ ওই গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা জানান, গ্রামটির বেশির ভাগ মানুষই কৃষক ও মৎস্যজীবী। রাস্তার জন্য প্রত্যেকেই যাঁর যাঁর সাধ্যমতো চাঁদা দিচ্ছেন, সঙ্গে দিচ্ছেন শ্রম। এভাবে প্রাথমিকভাবে সাত হাজার টাকা চাঁদা উঠেছে। সেই টাকা দিয়ে কাজ শুরু করা হয়েছে। লাখ দেড়েক টাকা তুলতে পারলে সেই টাকায় শ্রমিক লাগিয়ে ও নিজেরা শ্রম দিয়ে রাস্তার গর্তগুলো ভরাট করে রাস্তাটিকে চলাচলের উপযোগী করা যাবে।

এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা আরও জানান, ওই রাস্তা দিয়ে শুধু কাওয়াদিঘি হাওরপাড়ের আমীরপুর, বাগেশ্বর, খালদা, পেটুগাঁও, কুচকিপুর ও জালালপুর গ্রামের লোকজনই চলাচল করে না; এই রাস্তা দিয়ে পাঁচগাঁও ইউনিয়নের পূর্বাঞ্চলের মানুষ বোরো মৌসুমে গরু-মহিষ নিয়ে যাওয়া-আসা এবং বৈশাখ মাসে পাকা ধান নিয়ে বাড়ি ফেরে। চার-পাঁচটি গ্রামের শতাধিক ছাত্রছাত্রী এই রাস্তা দিয়ে পাঁচগাঁও উচ্চবিদ্যালয়ে যাওয়া-আসা করে। কিন্তু রাস্তাটি ভাঙাচোরা হওয়ায় আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে কাওয়াদিঘি হাওরের স্বাভাবিক পানিতে এক কিলোমিটার জায়গা তিন থেকে চার ফুট পানিতে তলিয়ে যায়। আট-নয় বছর হলো রাস্তাটির এক কিলোমিটার কাঁচা অংশে কোনো সংস্কারকাজ হয়নি। ইট বিছানো বাকি এক কিলোমিটার অংশও ভেঙেচুরে অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।

আমীরপুর আশরাফুল উলুম মাদ্রাসার সম্পাদক মাওলানা অলিদ আহমদ বলেন, ‘এখন নিজেরা কাজ শুরু করছি। যতটা পারি নিজেরাই করব। ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে স্বেচ্ছাশ্রম ও গ্রামবাসীর চাঁদার টাকায় আমীরপুর-বাগেশ্বর রাস্তার প্রায় এক কিলোমিটার অংশে কাজ শুরু হয়েছে। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত গ্রামবাসী এখন রাস্তার কাজে নিজেদের যুক্ত রাখছেন।’

পাঁচগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মিহির কান্তি দাস গত বৃহস্পতিবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘আগের চেয়ারম্যান কেন রাস্তার কাজ করাননি, এটা বলতে পারব না। আমি নতুন দায়িত্ব নেওয়ার পর সারা ইউনিয়নে কাজ করছি। এই রাস্তারও কাজ করতে চাইছি। কিন্তু বাগেশ্বর এলাকায় মাটি না পাওয়ায় কাজ করতে পারিনি। এবার লোকজন এসে মাটি দেওয়ার কথা বলেছিল। কিন্তু তার আগে সব প্রকল্পের বরাদ্দ শেষ। আগামীতে দেখব।’

রাজনগর উপজেলা প্রকৌশলী মো. রুবায়েত জামান বলেন, ‘রাস্তাটি ঠিক চিনতে পারছি না। মনে হয়, রাস্তাটি আমাদের উন্নয়ন তালিকায় নেই। যদি না থাকে, খোঁজ নিয়ে রাস্তাটি উন্নয়ন তালিকায় ঢুকিয়ে দেব।’

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন