বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

নেত্রকোনার সদর উপজেলার লক্ষ্মীগঞ্জ ইউনিয়নের বাসিন্দা পারভীন সুলতানা বলেন, দিনে সাত–আটবারও বিদ্যুৎ যায়। আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা আর আসে না। সাহ্‌রি-ইফতারের সময়ও হুট করে অন্ধকারের মধ্যে পড়তে হয়। ময়মনসিংহের ধোবাউড়া থানার কৃষক নন্দন সরকার বলেন, গ্রামে মাঝে মাঝে বিদ্যুৎ আসে। ঘণ্টা দুয়েক থাকে, তারপর চলে যায়। রাতে পাঁচ ঘণ্টা পরও আসে কোনো দিন।

আরইবির বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির প্রতিবেদন বলছে, সবচেয়ে বেশি লোডশেডিং হচ্ছে নেত্রকোনা, জামালপুর, কিশোরগঞ্জ, শেরপুর ও টাঙ্গাইল জেলায়। এসব এলাকায় স্থানীয়ভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় কম এবং জাতীয় গ্রিড থেকেও প্রয়োজনীয় সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। একই কারণে রাজশাহী, রংপুর ও সিলেটের অনেক এলাকাতে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে পর্যাপ্ত উৎপাদন থাকায় চট্টগ্রাম, বরিশালে তুলনামূলক কম হচ্ছে লোডশেডিং।

ঢাকার পাশে কেরানীগঞ্জের গ্রাহক মাহফুজ রশিদ বলেন, দিনে চার থেকে পাঁচবার বিদ্যুৎ যায়। কখনো ২০ মিনিট, কখনো ১ ঘণ্টা পর আসে। আর সাভারের শোভা জান্নাত বলেন, দিনে কমপক্ষে চার ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের মধ্যে থাকতে হয়।

গ্যাসের সংকট এবং তেল ও কয়লার উচ্চ দামে উৎপাদন ধরে রাখা কঠিন। সামনে বিদ্যুতের চাহিদা আরও বাড়তে পারে। এতে ঢাকাতেও হয়তো লোডশেডিং দিতে হবে। রোজার পর লোডশেডিং বাড়তে পারে। এবারের গ্রীষ্ম কষ্ট করেই কাটাতে হবে গ্রাহকদের।
ম. তামিম, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ

৭ এপ্রিল রাতে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ১৪ হাজার এক মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। ওই দিনও ৬৭৪ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন আরইবির এক কর্মকর্তা। আর সর্বশেষ শনিবার লোডশেডিং করতে হয়েছে ৫১১ মেগাওয়াট। সর্বোচ্চ ৮৫৪ মেগাওয়াট লোডশেডিং করা হয়েছে ৪ এপ্রিল।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, গ্যাস সরবরাহের স্বল্পতা থাকায় পুরো উৎপাদন করা যাচ্ছে না। তেলচালিত কেন্দ্র চালিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। গ্যাসের সরবরাহ সামনে বাড়লে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

ঢাকায় ধানমন্ডির তৃষা সামিরা ও কল্যাণপুর এলাকার ফারজানা নীলা অভিযোগ করেছেন, মাঝে মাঝে ১৫ মিনিট করে বিদ্যুৎ থাকছে না।

ঢাকায় দুটি কোম্পানি বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। একটি হলো ডিপিডিসি, আরেকটি ডেসকো। এ দুই সংস্থার কর্মকর্তারা বলছেন, ডিপিডিসির দিনে সর্বোচ্চ চাহিদা ১ হাজার ৬৭২ মেগাওয়াট আর ডেসকোর ৯৫২ মেগাওয়াট। এর পুরোটাই সরবরাহ করতে পেরেছেন তাঁরা। ঢাকার কোথাও কোনো লোডশেডিং নেই।

জ্বালানিসংকটে উৎপাদন সক্ষমতা ব্যবহার করা যাচ্ছে না। ভুগছে ঢাকার বাইরের মানুষ। বাড়ছে কৃষি ও শিল্পের উৎপাদন খরচ।

গ্রাহকের অভিযোগের বিষয়ে ডেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাউসার আমির আলী প্রথম আলোকে বলেন, অনুমোদিত লোডের বেশি ব্যবহার করলে বিদ্যুৎ চলে যেতে পারে। তাই গ্রাহকের উচিত, প্রয়োজনে লোডের অনুমোদন বাড়িয়ে নেওয়া। আর ডিপিডিসির নির্বাহী পরিচালক আবদুর রউফ খান বলেন, কারিগরি কারণে বিদ্যুৎবিভ্রাট হতে পারে, দ্রুত সময়ে আবার তা ঠিক করা হয়।

তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাতের ব্যবসায়ীরা বলছেন, আরইবির এলাকায় সাভার ও নারায়ণগঞ্জের কারখানায় প্রতিদিন লোডশেডিং হচ্ছে দুই ঘণ্টার বেশি। ডিজেল কিনে জেনারেটর চালাতে হচ্ছে। ময়মনসিংহের পি এ নিট কম্পোজিট মিলে ৭ এপ্রিল লোডশেডিং ছিল ৬ ঘণ্টা ২৭ মিনিট। আগের দিন এটি ছিল ৩ ঘণ্টা ৫০ মিনিট। একই এলাকার নরটেক্স টেক্সটাইল মিলে ৪ থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত তিন দিনে মোট সাড়ে ২৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ ছিল না।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ম. তামিম প্রথম আলোকে বলেন, গ্যাসের সংকট এবং তেল ও কয়লার উচ্চ দামে উৎপাদন ধরে রাখা কঠিন। সামনে বিদ্যুতের চাহিদা আরও বাড়তে পারে। এতে ঢাকাতেও হয়তো লোডশেডিং দিতে হবে। রোজার পর লোডশেডিং বাড়তে পারে। এবারের গ্রীষ্ম কষ্ট করেই কাটাতে হবে গ্রাহকদের।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন