default-image

পুলিশের বিরুদ্ধে ‘গ্রেপ্তার-বাণিজ্য’ নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হবে। পুলিশের গোয়েন্দা শাখা এ নিয়ে কাজ করছে। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ঢালাও অভিযোগ করা হয় বলে মন্তব্য করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক। গতকাল শনিবার পুলিশ সদর দপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আইজিপি এ কথা বলেন। 
চলমান অবরোধ ও হরতালে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করায় ২৫ জন পুলিশ সদস্যকে পুরস্কৃত করার জন্য পুলিশ সদর দপ্তর এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। পুরস্কার পাওয়া ব্যক্তিরা সবাই ঢাকা মহানগর ও নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশে কর্মরত। তাঁদের ২৫ জনকে নগদ সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (এআইজিপি) মোখলেছুর রহমান, ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়াসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আইজিপি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতার কারণে সহিংসতা কমে এসেছে এবং তা আরও কমে আসবে। ২০১৩ সালে বিএনপি-জামায়াত আহূত হরতাল- অবরোধে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সহিংসতায় মোট ১৮ জন পুলিশ সদস্য প্রাণ দিয়েছেন। আর এ বছর অবরোধ ও হরতালের সহিংসতায় ৫৫ জন সাধারণ মানুষ ও পুলিশের এক সদস্য নিহত হয়েছেন। এবার বোমাবাজদের ধরিয়ে দিতে পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল। সাধারণ মানুষ সে পুরস্কার পাবে। কিন্ত পুলিশের সদস্যরা যাতে আরও উৎসাহিত হন, সে কারণে তাঁদের পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। তিনি ফরিদা খানম নামের এক নারী পুলিশ সদস্যের নাম উল্লেখ করে বলেন, একজন নারী হয়ে একাই দুই বোমাবাজকে গ্রেপ্তার করেছেন। এ খবর সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছে।
এ কে এম শহীদুল হক বলেন, এ পর্যন্ত যেসব ব্যক্তি বোমাবাজির সময় ধরা পড়েছে তারা ছাত্রদল, যুবদল, শিবির বা তাদের ভাড়াটে লোকজন। ধরা পড়ার পর এরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে। জবানবন্দিতে তারা অনেকের নামও বলেছে।
সম্প্রতি শেখ সেলিম বলেছেন, বোমাবাজদের ‘এনকাউন্টারে’ দেওয়া হবে। এ বিষয়ে সাংবাদিকেরা মতামত জানতে চাইলে আইজি বলেন, ‘এ প্রশ্নের জবাব ভবিষ্যতে দেওয়া হবে।’
দেশজুড়ে চলা সহিংসতা নিয়ে আইজি বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রিত হয়ে আসছে। আগের তুলনায় যান চলাচল বেড়েছে। ঢাকার জীবনযাত্রা প্রায় স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। বোমাবাজদের গ্রেপ্তারের জন্য যা কিছু করা দরকার, তা করা হবে।
এত কিছুর পরও সাধারণ মানুষের আতঙ্ক দূর হচ্ছে না। এর জন্য পুলিশ কী করছে—জানতে চাইলে আইজিপি বলেন, এ জন্য পুলিশের জনসংযোগ বাড়ানো হয়েছে। জেলায় জেলায় কমিটি করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন