ঘন কুয়াশার কারণে দেশের দুটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে ফেরি চলাচল দীর্ঘ সময় বন্ধ ছিল। এ কারণে শত শত যান আটকা পড়ে কয়েক হাজার যাত্রীকে দুর্ভোগের শিকার হতে হয়। এ সময় নৌপরিবহনমন্ত্রী ও একজন সাংসদকে বহনকারী দুটি ফেরিও আটকা পড়ে।
গত রোববার রাত ১০টা থেকে গতকাল সোমবার বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত শিমুলিয়া-কাওড়াকান্দি এবং একই রাত সাড়ে নয়টা থেকে পরের দিন সকাল সোয়া নয়টা পর্যন্ত দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথ বন্ধ থাকে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থা (বিআইডব্লিউটিসি) সূত্র জানায়, ঘন কুয়াশার কারণে শিমুলিয়া-কাওড়াকান্দি নৌপথে সাড়ে ১৩ ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল। শিমুলিয়া ঘাটের বিআইডব্লিউটিসির ব্যবস্থাপক আবদুল আলিম প্রথম আলোকে জানান, কাওড়াকান্দি ঘাট থেকে রোববার রাত ১০টায় ছেড়ে আসে কর্ণফুলী ফেরি। এর কিছুক্ষণ পর একই ঘাট থেকে শিমুলিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে আসে কাকলি নামে আরেকটি ফেরি। কর্ণফুলীতে ছিলেন বাহাউদ্দিন নাছিম আর কাকলিতে ছিলেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান। অতিরিক্ত কুয়াশার কারণে দুটি ফেরিই চেয়ারম্যানবাড়ীর কাছে চ্যানেলে আটকা পড়ে। এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে দুই দিক থেকে ছেড়ে যাওয়া আরও নয়টি ফেরিসহ ১১টি ফেরি মাঝনদীর বিভিন্ন স্থানে আটকা পড়ে। গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার পরে কুয়াশা কেটে গেলে ফেরিগুলো ঘাটের উদ্দেশে রওনা হয়।
মন্ত্রীকে বহনকারী ফেরি দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শিমুলিয়া ঘাটে পৌঁছে বলে বিআইডব্লিউটিসির ওই ব্যবস্থাপক জানান। শিমুলিয়া ঘাটে একাধিক যাত্রী জানান, মন্ত্রী নিজেও দীর্ঘ সময় নদীতে আটকে থেকে তাঁদের কষ্ট অনেকটা বুঝতে পেরেছেন বলে মনে হয়।
দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে কুয়াশার কারণে সাড়ে ১১ ঘণ্টা ফেরিসহ সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ ছিল। ফেরি বন্ধের পাশাপাশি সোমবারের হরতালের কারণে আটকে থাকা যানবাহনের যাত্রীদের দুর্ভোগের শিকার হতে হয়।
বিআইডব্লিউটিসি সূত্র জানায়, রোববার সন্ধ্যার পর থেকে কুয়াশা পড়তে থাকলে এই নৌপথে নৌযান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। কুয়াশা বাড়তে থাকলে রাত সাড়ে নয়টার পর থেকে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া থেকে ফেরি ছাড়া বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ।
বিআইডব্লিউটিসি পাটুরিয়া কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক বিদ্যুৎ কুমার সাহা বলেন, ১১ ঘণ্টারও অধিক সময় ফেরি বন্ধের কারণে যাত্রীবাহী বাস, ট্রাকসহ সাড়ে চার শর মতো গাড়ি আটকা পড়ে। সকালে কুয়াশা কাটলে গাড়িগুলো নদী পার করা শুরু হয়। তবে অনেকেই হরতালের কারণে বিড়ম্বনায় পড়েন।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন