default-image

অন্যের ঘরে নিজের জন্ম। সন্তানের জন্মও অন্যের ঘরে। দীর্ঘ ৩০ বছর পর নিজের নামে তিনিই কিনা পেলেন জমির দলিল ও ঘরের কাগজ! তাই উচ্ছ্বাস যেন কমছে না ইটভাটা শ্রমিক মোকসেদুলের।

মোকসেদুলের বাড়ি নীলফামারীর সৈয়দপুরে। নতুন পাওয়া ঘর ঘুরে ঘুরে দেখিয়ে বললেন, আধা পাকা ঘরটি তাঁর খুব পছন্দ হয়েছে। থাকার কক্ষের সঙ্গে রান্নাঘর। পয়োনিষ্কাশনের ব্যবস্থাও ভালো। বিদ্যুৎ আছে। পানি আছে। পরিবার নিয়ে এখন খুব ভালোভাবে থাকতে পারবেন।

ইটভাটা শ্রমিক মোকসেদুলের মতোই সারা দেশে ৬৬ হাজার ১৮৯টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে আধা পাকা ঘর দিচ্ছে সরকার। এ ছাড়া ৩৬টি উপজেলায় ৭৪৩টি ব্যারাক নির্মাণের মাধ্যমে আরও ৩ হাজার ৭১৫টি পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে। সব মিলিয়ে মুজিব বর্ষের উপহার হিসেবে ৬৯ হাজার ৯০৪টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমিসহ ঘর দিচ্ছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ শনিবার সকালে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন।

বিজ্ঞাপন

সকাল ১০টা। তখনো কুয়াশার চাদর কাটেনি। তবু বর্ণিল সাজের কমতি নেই ‘নিজবাড়ি আশ্রয়ণ প্রকল্পে’। নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার এই আশ্রয়কেন্দ্রে ঘর পেয়েছে ৩৪টি ভূমিহীন ও দরিদ্র পরিবার। তাদের হাতে জমির দলিল ও ঘরের কাগজপত্র তুলে দেওয়া হয় আজ।

সকাল সাড়ে ১০টায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই আশ্রয়ণ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় তাঁকে প্রকল্প সম্পর্কে অবহিত করেন সৈয়দপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাসিম আহমেদ। একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী এক উপকারভোগীর সঙ্গে কথা বলেন।

আকলিমা নামের এক উপকারভোগী প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, ‘মোর জায়গা-জমি ছিল না। তোমরা ঘর দিছেন, জমি দিছেন। স্বামী-সন্তান নিয়্যা সুখে থাকিম। মুই খুব খুশি হইছোং।’

অনুষ্ঠান চলাকালে প্রধানমন্ত্রীকে রংপুরের আঞ্চলিক ভাষায় রচিত একটি ভাওয়াইয়া গান শোনান স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মীরা। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আশ্রয়ণ কেন্দ্রের ঘর প্রদান উপলক্ষে একটি উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। মুজিব বর্ষে এটি সবচেয়ে বড় উপহার। ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জমি ও ঘর দিতে পেরে আমি নিজেও আনন্দিত।’

নিজবাড়ি আশ্রয়ণ প্রকল্পটি ঢাকা-সৈয়দপুর মহাসড়কের কামারপুর ইউনিয়নে অবস্থিত। ১৪ একর আয়তনের এ জায়গায় আগের গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পের আওতায় ৮০টি পরিবার আছে। নতুন করে যুক্ত হলো ৪০টি পরিবার।

বিজ্ঞাপন

নতুন নির্মিত ঘরগুলোর উদ্বোধন উপলক্ষে সেগুলো সাজানো হয়েছে নানা রঙের কাগজের মালা দিয়ে। ঘরের দরজার সামনে লাগানো হয়েছে নামফলক। অনুষ্ঠান শেষ হলে নতুন কাপড় পরে ২৩ নম্বর ঘরের সামনে বসে ছিলেন শাহিনা আক্তার। উচ্ছ্বাস ভরা কণ্ঠে বলেন, ‘এত দিন খুব কষ্টোৎ পড়ি আসলং। আইজ হামারগুলার ঘরে ঘরে আনন্দ। খুব খুশি নাগছে। সবাক মিষ্টি খাওয়ামো।’

সৈয়দপুরের ইউএনও নাসিম আহমেদ বলেন, স্থান নির্বাচনের ক্ষেত্রে মানুষের মৌলিক চাহিদা ও কর্মসংস্থানের বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারগুলোর দীর্ঘদিনের দুঃখ-কষ্ট লাঘব হবে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন