বিজ্ঞাপন

জানা গেছে, গত মঙ্গলবার ভাসানচরে ঝড়-বৃষ্টি ছিল। ওই দিন সন্ধ্যার পর থেকে বাতাসের গতিবেগ ছিল গড়ে ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার। যা বুধবার দুপুরে ঘণ্টায় আরও কমে আসে। ভাসানচরে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা জানিয়েছেন, জলোচ্ছ্বাসের পানি ভাসানচরের ভেতরে প্রবেশ না করায় তাঁরা স্বস্তি পেয়েছেন। যদিও গত মঙ্গলবার ঝোড়ো বাতাস শুরুর পর তাঁদের অনেকে ভীত হয়ে পড়েন। কিন্তু বৃষ্টি শুরুর পর তাঁদের মধ্যে সব শঙ্কা কেটে যায়। তা ছাড়া ঝোড়ো হাওয়ার পর বৃষ্টি হওয়ায় গরমও অনেকটা কমে গেছে।

default-image

ভাসানচর প্রকল্প আনুষ্ঠানিকভাবে আশ্রয়ণ-৩ প্রকল্প নামে পরিচিত। প্রকল্পের পরিচালক কমোডর রাশেদ সাত্তার মুঠোফোনে বুধবার দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, বছরের এই সময়টাতে জোয়ারের সময় যে পরিমাণ পানি থাকে, ইয়াসের প্রভাবে পানির উচ্চতা এক মিটার বেড়েছে। আর আর সেই পানি ভাসানচরের মূল বাঁধের নিচের অংশের দুই মিটার নিচে রয়েছে। ফলে ভেতরে কোনো পানি প্রবেশ করেনি। তা ছাড়া রোহিঙ্গাদের আবাসের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তিনি আরও জানান, জলোচ্ছ্বাসের পানির উচ্চতা আরও দুই মিটার বেশি হলেও বাঁধ পেরিয়ে তা ভেতরে প্রবেশ করবে না।

ভাসানচরের সুরক্ষার জন্য চার স্তরের বাঁধ রয়েছে উল্লেখ করে কমোডর রাশেদ সাত্তার বলেন, বাঁধের চারটি স্তর রয়েছে। প্রথম স্তর হচ্ছে ওয়েভ স্ক্রিন মানে বড় ঢেউটা ভেঙে দেয়। এরপরের স্তরটি হচ্ছে মাটির ওপরে গার্বেল— মানে মাটির ওপরে নুড়ি দিয়ে তৈরি স্তর। এরপরে রয়েছে ম্যানগ্রোভের বন। আর শেষ স্তরে বাঁধ। বাঁধের রয়েছে আবার দুই পর্ব।

কক্সবাজার থেকে স্থানান্তরের পর এই প্রথম ঘূর্ণিঝড়ের সাক্ষী হলেন ভাসানচরের রোহিঙ্গা শিবিরের নেতা জিয়াবুর রহমান। তিনি বলেন, কক্সবাজারের সঙ্গে মিলালে এখানে থাকা রোহিঙ্গাদের জন্য লাখ লাখ শুকরিয়া যে ঝড়ের পর সবাই নিরাপদ রয়েছে। এতটুকু ক্ষতি এখানে হয়নি। এ ধরনের ঝড়-বৃষ্টি হলে কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের আশ্রয়স্থল উড়িয়ে নিয়ে যেত।

এই মুহূর্তে ভাসানচরে থাকা ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টারের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মোহাম্মদ আল মাসুম মোল্লা প্রথম আলোকে বলেন, বাঁধ এলাকায় গিয়ে দেখতে পেয়েছি জোয়ারের পানি বাঁধের থেকে বেশ খানিকটা দূরে। অন্যদিকে রোহিঙ্গাদের শিবির যেহেতু বাঁধ থেকে অনেকটা ভেতরে, তাই জলোচ্ছ্বাসের পানি নিয়ে রোহিঙ্গাদের মধ্যে কোনো সংশয় ছিল না। শিবিরের পরিবেশ ছিল অন্যান্য দিনের মতোই স্বাভাবিক।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন