default-image

ভোজ্যতেলের দাম বাড়ছেই। তেলের দামে লাগাম টানতেই যেন গোপন আয়োজন চলছে কৃষকপাড়ায়। তারই অংশ হিসেবে পাবনার টেবুনিয়া এলাকায় অবস্থিত ডাল ও তৈলবীজ উৎপাদন কেন্দ্র এবং হর্টিকালচার সেন্টারের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে হাসছে সূর্যমুখী। সবুজের মধ্যে হলুদ ফুলগুলো অপরূপ সৌন্দর্যের উৎস হয়ে দাঁড়িয়ে।

ডাল ও তৈলবীজ উৎপাদন কেন্দ্রের তথ্য বলছে, সূর্যমুখী শুধু দেখতে অপরূপ নয়, গুণেও অনন্য। বাংলাদেশের আবহাওয়া, পানি ও মাটি সূর্যমুখী চাষের উপযোগী। সূর্যমুখী বীজের তেল স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। অন্যান্য তেলবীজে যেসব ক্ষতিকারক উপাদান থাকে, সূর্যমুখীর তেলে তেমন নেই। বিশেষ করে এই তেল ক্ষতিকর কোলেস্টেরলমুক্ত। তাই দেশে তেলের ঘাটতি মেটাতে ব্যাপকভাবে সূর্যমুখী চাষের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে ডাল ও তৈলবীজ উৎপাদন কেন্দ্র চলতি মৌসুমে তাদের নিজস্ব খামারে প্রায় ৯ একর জমিতে বারি-৩ জাতের নতুন সূর্যমূখী ফুলের চাষ করেছে।

বিজ্ঞাপন

ডাল ও তৈলবীজ উৎপাদন কেন্দ্রের উপপরিচালক শামীম আহম্মেদ বলেন, গুণগত মান ও স্বাস্থ্যম্মত তেল পাওয়ার আশায়ই ব্যাপকভাবে সূর্যমুখী চাষের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চলতি মৌসুমে ৯ একর জমিতে যে বারি-৩ জাতের সূর্যমুখীর আবাদ হয়েছে, সেখান থেকে ৩ হাজার ৬০০ কেজির বেশি বীজ পাওয়া যাবে। আগামী দিনে এই বীজ কৃষকদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। এরপরের মৌসুমে কেন্দ্রের আরও ২০ একর জমিতে সূর্যমুখীর চাষ হবে। সবার আশা, ব্যাপক আবাদের মাধ্যমে সূর্যমুখী একদিন দেশের ভোজ্যতেলের ঘাটতি মেটাবে।

উপপরিচালক বলেন, এবার দ্বিতীয়বারের মতো বারি–৩ জাতের আবাদ হচ্ছে। এই জাতে প্রতি একর আবাদে ৫ কেজি বীজ লাগে। সারা দেশে ফরিদপুর, মেহেরপুর ও পাবনায় ডাল ও তৈলবীজ উৎপাদন কেন্দ্রের তিনটি খামারেই এখন এই বারি-৩ জাতের বীজের চাষ করা হয়েছে। এবার বীজ পাওয়ার পর তা কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।

কর্মকর্তারা বলেন, এর আগে বারি-২ জাতের সূর্যমুখীর চাষ করা হয়েছিল। কিন্তু বারি-২ জাতের সমস্যা হলো, গাছটা বেশি বড় এবং কাণ্ডগুলো নরম হয়। যার কারণে সামান্য ঝড়-বৃষ্টিও সামলাতে পারে না এই গাছগুলো, ভেঙে পড়ে। এই জাতের আবাদে কৃষকের ক্ষতি বাড়ে। তাই নতুন জাতটা আনা হয়েছে। এই জাতের গাছ শক্তপোক্ত হয়, প্রতি শতকে ৪০ কেজির বেশি সূর্যমুখী বীজ পাওয়া যায়।

কেন্দ্র সূত্র জানায়, দেশে সূর্যমুখীর আবাদ নতুন। এখনো সেভাবে তেলের উৎপাদন শুরু হয়নি। বাজারে এখন সূর্যমুখী তেল পাওয়া যায় ২২০ থেকে ২৫০ টাকা লিটার দরে। তবে এগুলো সব বিদেশ থেকে আমদানি করা। এটা সূর্যমুখীর তেল কি না, সে বিষয়েও সংশয়ের কথা জানালেন কর্মকর্তারা। তাঁদের আশা, যদি দেশেই সূর্যমুখীর আবাদ হয়, তাহলে অনেক কম দামেই সূর্যমুখীর তেল পাওয়া যাবে। সূর্যমুখী তেল ব্যবহারে মানুষের অনেক সাধারণ স্বাস্থ্যসমস্যা কমে যাবে।

গত রোববার বিকেলে টেবুনিয়ায় গিয়ে দেখা গেল, বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ফুটে আছে সূর্যমুখী ফুল। শত শত মানুষ ভিড় জমিয়েছেন। ফুলের সঙ্গে ছবি তুলতে ব্যস্ত সবাই। মানুষের এই ঢল বিড়ম্বনা হয়ে দাঁড়িয়েছে খামার কর্তৃপক্ষের জন্য। ভিড় সামাল দিতে বাড়তি লোক নিয়োগ দিতে হয়েছে। গতকাল খামারের দেখভালকারী কর্মকর্তারা জানালেন, মানুষের ভিড়ের কারণে সোমবার থেকেই খামারে দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

সূর্যমুখী তেলে আছে মানবদেহের জন্য উপকারী ওমেগা ৯ ও ওমেগা ৬, আছে অলিক অ্যাসিড। সূর্যমুখীর তেল শতকরা ১০০ ভাগ উপকারী ফ্যাটযুক্ত। এর তেলে আছে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও পানি। ভিটামিন ই ও ভিটামিন কের মতো গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন ও মিনারেলযুক্ত। হৃদ্‌রোগী, ডায়াবেটিসের রোগী, উচ্চ রক্তচাপের রোগী, কিডনি রোগীর জন্যও সূর্যমুখীর তেল নিরাপদ।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন