default-image

চট্টগ্রামের ২৪টি ইটভাটাকে ৪৫ দিন উচ্ছেদ বা ধ্বংস না করতে সময় দিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে পৃথক আবেদনের শুনানি নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী এ আদেশ দেন। ফলে লাইসেন্সবিহীন ওই ২৪ ইটভাটা উচ্ছেদে আইনগত কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।

ইটভাটার মালিকদের করা পৃথক আটটি রিটের শুনানি নিয়ে গত ২২ মার্চ হাইকোর্ট ওই আদেশ দিয়েছিলেন। এর বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পৃথক আটটি লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করেন। আদালতে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ, সৈয়দ কামরুল হোসেন ও মুনতাসির উদ্দিন আহমেদ।

আইনজীবীর তথ্যমতে, মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর হাইকোর্টের একটি ভার্চ্যুয়াল বেঞ্চ চট্টগ্রামের অবৈধ সব ইটভাটা সাত দিনের মধ্যে বন্ধের নির্দেশ দেন। এর বিরুদ্ধে ইটভাটার মালিকেরা আপিল বিভাগে পৃথক আবেদন করে বিফল হন। একটি আবেদন আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য ওঠে, যা খারিজ হয়। আর হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়ন না হওয়ায় চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকসহ তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুলও হয়।

বিজ্ঞাপন

প্রাপ্ত তথ্যমতে, ইটভাটার মালিকেরা হাইকোর্টের অপর একটি দ্বৈত বেঞ্চে পৃথক আটটি রিট করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২২ মার্চ দ্বৈত বেঞ্চ আবেদনকারীদের (ইটভাটার মালিক) আইন অনুসারে ইটভাটা অন্যত্র সরাতে ৪৫ দিন সময় দিয়ে ওই আদেশ দেন। এর বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আটটি লিভ টু আপিল করেন, যার ওপর আজ চেম্বার আদালত শুনানি হয়। শুনানি নিয়ে আদালত হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করে আবেদনগুলো ২১ জুন আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠিয়েছেন।

আদেশ জানিয়ে পরে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর হাইকোর্টের দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধে ইটভাটার মালিকেরা ইতিপূর্বে পৃথক আটটি আপিল করেন। সাতটি চেম্বার আদালতে ও একটি আবেদনের ওপর আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানি হয়। আপিল বিভাগ ও চেম্বার আদালতে হাইকোর্টের আদেশ বহাল থাকে।’

ওই তথ্য গোপন করে কয়েকজন ভাটামালিক আবারও হাইকোর্টে নতুন করে রিট করেন জানিয়ে মনজিল মোরসেদ বলেন, ‘এর শুনানিতে রিটকারীদের পক্ষে শুনানি করেন একজন আইনজীবী, যিনি সংসদ সদস্য। অথচ ২০১৯ সালে সংসদে তাঁরাই ইটভাটা নিয়ন্ত্রণ আইনটি পাস করেছিলেন। এ ছাড়া অন্য একজন আইনজীবী, যিনি ইটভাটার মালিকদের পক্ষে আপিল বিভাগে শুনানি করে কোনো আদেশ পাননি—এই তথ্য গোপন করে নতুন করে রিট দায়ের করে শুনানিতে অংশ নেন এবং ২২ মার্চ ওই আদেশ পান।’

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন