তৃণমূল থেকে রাজনীতি করে আসা লোকদের অজস্র ভুল থাকতে পারে। তবে তাঁরা কখনো মানুষের সঙ্গে, দেশের মাটির সঙ্গে বেইমানি করেন না। মহিউদ্দিন চৌধুরী তেমনই একজন। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে নিয়ে লেখা স্বপ্নের ফেরিওয়ালা বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেছেন।
গতকাল শনিবার সকালে চট্টগ্রামের জিইসি মোড়ের একটি কনভেনশন সেন্টারে বইটির প্রকাশনা অনুষ্ঠান হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক অনুপম সেন। প্রকাশনা অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বইয়ের লেখক সাংবাদিক মোয়াজ্জেমুল হক।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী মোশাররফ হোসেন বলেন, আন্দোলন-সংগ্রামে সব সময় অগ্রভাগে থাকেন মহিউদ্দিন চৌধুরী। তিনি কোনো আন্দোলনে ভয় পেতেন না।
সাংসদ মঈন উদ্দীন খান বাদল বলেন, চট্টগ্রামের স্বার্থে দলীয় সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেও আন্দোলন করতে পিছপা হননি মহিউদ্দিন চৌধুরী। তৃণমূল থেকে রাজনীতি করা আসা মহিউদ্দিন চৌধুরীর ভুল থাকতে পারে। তবে তিনি কখনো মানুষের সঙ্গে, জাতির সঙ্গে, দেশের মাটির সঙ্গে বেইমানি করেননি।
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) একাংশের সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, সুস্থ রাজনীতি না থাকলে সমাজে দুই ধরনের উৎপাত দেখা দেয়—একটি অরাজনৈতিক উৎপাত ও অপরটি অপরাজনীতি। এক-এগারোর পরবর্তী সময়ে অরাজনৈতিক উৎপাত দেখা গেছে। এখন দেখা যাচ্ছে অপরাজনীতির উৎপাত। পেট্রলবোমা দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করা হচ্ছে। এটি কোনো রাজনীতি হতে পারে না।
মনজুরুল আহসান বুলবুল স্বপ্নের ফেরিওয়ালা বইয়ের ১৪৩ পৃষ্ঠার তথ্য উল্লেখ করে বলেন, টুম্পা (মহিউদ্দিনের মেয়ে) অসুস্থ থাকার সময় মহিউদ্দিন চৌধুরীকে প্যারোলে মুক্ত করতে তাঁর স্ত্রী হাসিনা মহিউদ্দিন সব উপদেষ্টার কাছে গিয়েছিলেন। হোসেন জিল্লুর রহমানের কাছেও গিয়েছিলেন। তিনি শর্ত দিয়েছিলেন রাজনীতি না করার বন্ডে সই দিলে মুক্তি মিলতে পারে।
হাসিনা মহিউদ্দিন বলেন, ‘মহিউদ্দিন চৌধুরী কখনো মাথা নত করেননি। এক-এগারোর সময় ক্যানসারে আক্রান্ত আমাদের মেয়ে টুম্পা সাড়ে চার মাস ধরে ব্যাংককে চিকিৎসাধীন ছিল। তখন দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি, যদি মহিউদ্দিন চৌধুরীকে একবার প্যারোলে মুক্ত করা যায়। হোসেন জিল্লুর রহমানের (তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা) কাছেও গিয়েছিলাম। তিনি বলেন, প্যারোলে মুক্তি দিতে পারি, যদি বন্ড দেন-তিনি আর রাজনীতি করবেন না। আমি রাজি হইনি।’
এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘আমি আত্মপ্রচার পছন্দ করি না। আমি কী কাজ করি, তা আমি নিজেও জানি না। মানুষের জন্য কাজ করি। কার জন্য কী করেছি, তা মনে রাখার চেষ্টা করি না। আমি বিত্তশালী পরিবারের সন্তান নই। দরিদ্র মানুষের কষ্ট দেখেছি। তাই তাঁদের অবস্থার উন্নতির জন্য কাজ করার চেষ্টা করেছি। তবে এখন পর্যন্ত স্বপ্নের ১০ শতাংশ কাজ করেছি।’
সভায় অন্যান্য বক্তা বলেন, মহিউদ্দিন চৌধুরী অবহেলিত চট্টগ্রামের উন্নয়নের জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছেন। চট্টগ্রামের উন্নয়নের ক্ষেত্রে তাঁর আন্তরিকতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। চট্টগ্রামের রাজনীতি, শিক্ষা, সংস্কৃতিসহ সব ক্ষেত্রে মহিউদ্দিন চৌধুরীর পদচারণ রয়েছে।
মোয়াজ্জেমুল হক বলেন, বইটিতে মহিউদ্দিন চৌধুরীর জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ের সত্যি ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর দোষ-গুণ সবই রয়েছে বইয়ে।
প্রকাশনা অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য অধ্যাপক ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন, আবির প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী নুরুল আবসার, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি কলিম সরওয়ার, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি এজাজ ইউসুফী, দৈনিক সুপ্রভাত বাংলাদেশ-এর নগর সম্পাদক এম নাসিরুল হক, দৈনিক আজাদীর প্রধান প্রতিবেদক হাসান আকবর, শিক্ষাবিদ হাসিনা জাকারিয়া, মহিউদ্দিন চৌধুরীর স্ত্রী হাসিনা মহিউদ্দিন প্রমুখ বক্তব্য দেন।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন