বিশিষ্ট নাট্য সমালোচক আশিস গোস্বামী বলেছেন, ‘পশ্চিমবঙ্গ এখন যে থিয়েটার কাঠামোয় বিশ্বাসী এবং পেশাদারি মনোনিবেশ করতে চাইছে, বাংলাদেশের থিয়েটার মনস্কতায় তা একীভূত হতে পারছে না। কারণ, বাংলাদেশ এখনো অপেশাদার থিয়েটার কাঠামোই বিশ্বাসী। এখানে থিয়েটার যশ এনে দিলেও অর্থ এনে দিতে পারে না।’
গতকাল রোববার সন্ধ্যায় জিয়া হায়দার স্মারক বক্তৃতায় ভারতের বিশিষ্ট এই নাট্য সমালোচক এ কথা বলেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগ এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব থিয়েটার আর্টস (বিটা) যৌথভাবে চট্টগ্রামের শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে স্মারক বক্তৃতার আয়োজন করে।
আশিস গোস্বামী বলেন, ঢাকার বাইরে নাট্যচর্চার পথ কিন্তু এতটা মসৃণ নয়। ঢাকার বাইরে চট্টগ্রামের নাট্যচর্চায় দর্শক এবং আর্থিক সুবিধা কিছুটা সহজলভ্য। কিন্তু অন্যত্র খুব কঠিন বাস্তব অবস্থার মধ্য দিয়ে নাট্যচর্চা করতে হয়। পশ্চিমবঙ্গের মফস্বল নাট্যচর্চার সঙ্গে কলকাতাকেন্দ্রিক নাট্যচর্চার অবস্থানগত বাস্তব প্রভেদ বাংলাদেশও বিদ্যমান। গুটি কয় দল ছাড়া অন্যরা দর্শকশূন্য অবস্থায় নাটক করেন।
বিটার সভাপতি আবুল মনসুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আনোয়ারুল আজিম আরিফ। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের সভাপতি কুন্তল বড়ুয়া, উৎসর নির্বাহী পরিচালক মোস্তফা কামাল, থিয়েটার ইনস্টিটিউটের শিল্প পরিচালক আহমেদ ইকবাল হায়দার প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আনোয়ারুল আজিম বলেন, ‘নাটক বা থিয়েটারকে গণমানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে। নাট্যকলার শিক্ষার্থীরা তাঁদের চর্চার মাধ্যমে এ পথ দেখাবে।’
সভাপতির বক্তব্যে আবুল মনসুর বলেন, যাঁরা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে চারুকলা ও নাট্যকলা পাঠযোগ্য হতে পারে বলে অনুধাবন করেছেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম জিয়া হায়দার। তিনিই বাংলাদেশের আধুনিক নাট্যচর্চার পথিকৃৎ ও সংগঠক।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন