সুষ্ঠুভাবে এসএসসি পরীক্ষা পরিচালনা করতে ব্যর্থ হওয়ায় দুজন কেন্দ্রসচিবকে অব্যাহতি দিয়েছে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড।
শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মাহবুব হাসান প্রথম আলোকে জানান, সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা পরিচালনা করতে ব্যর্থ হওয়ায় চট্টগ্রাম নগরের বাংলাদেশ মহিলা সমিতি (বাওয়া) বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্রসচিব আনোয়ারা বেগমকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পরীক্ষাকক্ষে দায়িত্বরত দুই পরিদর্শককে পরবর্তী পরীক্ষায় দায়িত্ব না দেওয়ার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। এদিকে বোয়ালখালী উপজেলার গোমদন্ডী পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্রসচিব মোহাম্মদ মঈনুল আবেদীন নাজিমকেও দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তিনিও সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা পরিচালনা করতে পারেননি।
গতকাল শুক্রবার বাওয়া উচ্চবিদ্যালয়ের পরীক্ষাকেন্দ্রের ১ নম্বর কক্ষে প্রায় ১২ মিনিট পর প্রশ্নপত্র দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরীক্ষার্থীরা এ ব্যাপারে শিক্ষা বোর্ডে লিখিত অভিযোগ করে। এ কক্ষে তিনটি বিদ্যালয়ের ৩৮ জন পরীক্ষার্থী ছিল।
ওই কক্ষের পরিদর্শক নুসরাত সুলতানা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমরা নির্ধারিত সময়ে প্রশ্নপত্র দিয়েছি। ঠিক সময়েই উত্তরপত্র নিয়েছি। কিন্তু পরীক্ষার্থীরা আরও পাঁচ মিনিট বাড়তি সময় দেওয়ার অনুরোধ করে। কিন্তু তা রাখা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয় বলে জানিয়ে দিই তাদের।’
ভুয়া পরীক্ষার্থী আটক: এসএসসির গণিত বিষয়ে পরীক্ষা চলাকালে চট্টগ্রামের কুয়াইশ বুড়িশ্চর সম্মিলনি উচ্চবিদ্যালয় পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে সাব্বির হোসেন (১৭) নামের এক ভুয়া পরীক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে। সে দিদারুল আলম নামের এক অনিয়মিত পরীক্ষার্থীর হয়ে পরীক্ষা দিতে এসেছিল। এ ঘটনায় সাব্বিরকে পুলিশে সোপর্দ এবং দিদারুল আলমকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এদিকে পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন করায় রাঙামাটির নানিয়াচর উচ্চবিদ্যালয় পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে এক পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে বোর্ড সূত্রে জানা গেছে।
ভুয়া পরীক্ষার্থীর কারাদণ্ড : ফুফাতো ভাই মোহাম্মদ বায়েজিদের হয়ে পরীক্ষা দিতে এসেছিলেন ওমর ফারুক। কিন্তু তিনি পরীক্ষাকক্ষে দায়িত্বরত শিক্ষকদের চোখ ফাঁকি দিতে পারেননি। ধরা পড়ে জেল-জরিমানা হয়েছে এই ভুয়া পরীক্ষার্থীর। গতকাল শুক্রবার চট্টগ্রাম নগরের দারুল উলুম দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। গতকাল ছিল দাখিলের ইংরেজি প্রথম পত্রের পরীক্ষা।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আছিয়া খাতুন প্রথম আলোকে বলেন, ওমর ফারুক গত বছর আলিম পাস করেছেন দারুল উলুম দাখিল মাদ্রাসা থেকে। এ বছর মোহাম্মদ বায়েজিদের হয়ে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছিলেন তিনি। বায়েজিদ বায়তুশ শরফ আদর্শ কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। পরীক্ষাকক্ষে দায়িত্বরত শিক্ষকেরা বিষয়টি টের পেয়ে তাঁকে আটক করেন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত ওমর ফারুককে দেড় বছরের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অর্থ অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন