default-image

‘সর্বাত্মক লকডাউনে’ টানা ১১ দিন বন্ধ থাকার পর আজ রোববার সকালে বন্দরনগর চট্টগ্রামে খুলেছে শপিং মল ও দোকানপাট। লকডাউনের মধ্যে চালু হওয়া এসব দোকানে কেনাকাটা করতে আসা মানুষের ভিড়ও বেড়েছে। তবে অনেক ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত হচ্ছে।

প্রস্তুতি ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অজুহাতে গতকাল শনিবার নগরের বিভিন্ন এলাকার বিপণিবিতানে দোকানপাট চালু করেছিলেন দোকানিরা।

করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ১৪ এপ্রিল থেকে আট দিনের সর্বাত্মক লকডাউনের ঘোষণা দেয় সরকার। এরপর ২২ থেকে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত দ্বিতীয় দফায় কঠোর লকডাউন দেওয়া হয়। এই লকডাউন চলাকালে গত শুক্রবার শপিং মল ও দোকানপাট চালুর বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আজ থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দোকানপাট ও শপিং মল চালুর অনুমোদন দেওয়া হয়।

আজ সকালে নগরের রেয়াজউদ্দিন বাজারের তাসাকুমন্ডি লেনে গিয়ে দেখা যায়, দোকানিরা দোকান খুলেছেন। অনেক দোকানে ঝাড়ামোচার কাজ করছিলেন দোকানি ও কর্মচারীরা। এ সময় অনেকের মুখে মাস্ক ছিল না। কারও থাকলেও তা ছিল থুতনিতে। অনেক দোকানেই হ্যান্ড স্যানিটাইজার বা জীবাণুনাশক দেখা যায়নি।

কাপড়, জুতা, বেল্টসহ নানা পণ্যের জন্য তামাকুমন্ডি লেনের পরিচিতি রয়েছে। এখানে খুচরা কেনাকাটার পাশাপাশি পাইকারি পণ্য বিক্রি করা হয়। মূলত, চট্টগ্রামের আশপাশের উপজেলা ও পার্বত্য অঞ্চলের দোকানিরা এখান থেকে পণ্য নিয়ে যান।
তামাকুমন্ডি লেনের জুতার দোকানি আরিফ উদ্দিন বলেন, তেমন কোনো বেচাবিক্রি নেই। এখনো লকডাউন চলছে। গণপরিবহন চলছে না। ফলে মানুষের উপস্থিতি কম।

বিজ্ঞাপন

কাপড়ের দোকানি আবদুল সাত্তার স্বাস্থ্যবিধি না মানার প্রসঙ্গে বলেন, আসলে ভুল হয়ে গেছে। মাস্ক পরা উচিত।

নগরের অভিজাত বিপণিবিতান হিসেবে পরিচিত প্রবর্তক মোড়ের আফমি প্লাজার প্রবেশমুখে জীবাণুনাশক টানেল স্থাপন করা হয়েছে। এরপর প্রবেশমুখে হ্যান্ড স্যানিটাইজার নিয়ে বসেছিলেন এক কর্মী। ঢোকা ও বের হওয়ার পথ আলাদা রাখা হয়েছে। তবে বাইরে এত পদক্ষেপ নেওয়া হলেও ভেতরের পরিস্থিতি অন্য রকম।

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিক্রয়কেন্দ্রের কর্মীদের মুখে মাস্ক ছিল না। অনেকের মাস্ক ছিল থুতনিতে। কিছু দোকানে ক্যাশ কাউন্টারে হ্যান্ড স্যানিটাইজার দেখা যায়।
মাস্ক না পরা প্রসঙ্গে এক বিক্রয়কর্মী বলেন, এখন তো তেমন কোনো ক্রেতা নেই। তাই পরেননি। লোকজন এলে পরবেন।

আজ নগরের চকবাজার, জামালখান, মোমিন রোড, কাজীর দেউড়ি, প্রবর্তক মোড়, জিইসি মোড় ঘুরে দেখা গেছে, ছোট-বড় সব দোকান খোলা হয়েছে। তবে স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে উদাসীনতা দেখা যায়। এসব এলাকার সড়কে রিকশা, পণ্যবাহী ট্রাক, মিনি ট্রাক ও ব্যক্তিগত গাড়ির জট দেখা যায়।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন