চট্টগ্রামে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এনামুল কবিরসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত শুক্রবার তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের দাবি, নাশকতার বার্তা নিয়ে চট্টগ্রামে এসেছিলেন এনামুল। তাঁকে গ্রেপ্তারে বড় ধরনের নাশকতা থেকে চট্টগ্রাম নগর রক্ষা পেয়েছে। আজ শনিবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানায় পুলিশ।

কোতোয়ালি থানা ভবনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার মোহাম্মদ হাছান, কোতোয়ালি অঞ্চলের সহকারী কমিশনার শাহ মোহাম্মদ আবদুর রউফ, কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম মহিউদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
গ্রেপ্তার হওয়া অন্য দুজন হলেন মোহাম্মদ মোস্তফা ও মুশফিক আবরার মাহিন। মোস্তফা শিবিরের চট্টগ্রাম মহানগর (উত্তর) শাখার পাঠাগার সম্পাদক ও সাউদার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের তৃতীয় সেমিস্টারের ছাত্র। তিনি ফটিকছড়ির পাইন্দং ইউনিয়নের মনির আহমেদের ছেলে। জামায়াতের নগর কার্যালয়সংলগ্ন চন্দনপুরার মিয়ার বাপের মসজিদ এলাকায় তিনি বসবাস করেন। মুশফিক আবরার জামায়াত-শিবিরের দলীয় চিত্রগ্রাহক ও জামায়াতের দেওয়ানবাজার ওয়ার্ড শাখার বায়তুল মাল সম্পাদক। তাঁর বাড়ি বাঁশখালী উপজেলার চেচুরিয়া এলাকায়। বাকলিয়ার বগারবিল এলাকায় পরিবারের সঙ্গে তিনি থাকতেন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এনামুল হক ১২ ফেব্রুয়ারি নাশকতার বার্তা নিয়ে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে আসেন। তিনি ফয়’স লেক এলাকাসহ তিনটি জায়গায় গোপন বৈঠক করেন। গতকাল বাকলিয়ার বগারবিল এলাকার জনৈক মহিবুলের বাসা থেকে এনামুলসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে মাস্টার্স করেন এনামুল কবির। ২০১১-২০১২ সালে তিনি ঢাকা মহানগর শিবিরের মানবসম্পদ উন্নয়ন ও দপ্তর সম্পাদক ছিলেন। এর আগে ঢাকার সবুজবাগ থানার নেতা ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে এনামুল নাশকতার পরিকল্পনার বিষয়টি স্বীকার করেন। কেন্দ্রীয় সভাপতির একটি চিঠি চট্টগ্রাম মহানগর (উত্তর) সভাপতির হাতে তুলে দেওয়া হয় বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, চলমান আন্দোলনে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর জন্য শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতির বার্তা নিয়ে তিনি চট্টগ্রামে আসেন।

সংবাদ সম্মেলনে কোতোয়ালি অঞ্চলের সহকারী কমিশনার শাহ মো. আবদুর রউফ বলেন, ‘চট্টগ্রামে জ্বালানি তেলের ডিপোসহ রাষ্ট্রায়ত্ত বিভিন্ন স্থাপনা ও যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেওয়ার বার্তা নিয়ে এনামুল চট্টগ্রামে আসেন। ব্যাপক নাশকতা চালিয়ে চট্টগ্রামকে টালমাটাল করার পরিকল্পনা ছিল জামায়াত-শিবিরের। শিবির নেতা এনামুলকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে সব পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়েছে।’
সংবাদ সম্মেলনে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম মহিউদ্দিন বলেন, ‘চলমান আন্দোলনে জনসম্পৃক্ততা নেই। সাঈদীর মামলার রায় ঘোষণার পর চট্টগ্রামে যেভাবে লোকজনকে সম্পৃক্ত করা হয়েছিল, এবারও সেই পরিকল্পনা ছিল শিবিরের নেতাদের। কেন্দ্রীয় সভাপতির চিঠিতে সেই রকম বার্তা ছিল। কারণ জনসম্পৃক্ততা না থাকলে আন্দোলন সফল হয় না। এ জন্য জামায়াতের সাবেক সাংসদ শাহজাহান চৌধুরীর সঙ্গে এনামুলের বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। ওই বৈঠক করার আগে এনামুল গ্রেপ্তার হন। এরপর আমরা তাঁকে নিয়ে সাতকানিয়া, সীতাকুণ্ড ও হাটহাজারীর বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়েছি।’

ওসি মহিউদ্দিন আরও বলেন, ‘চট্টগ্রামে এসেই ১৩ থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি ফয়’স লেক এবং আরও দুটি মেসে এনামুল বৈঠক করেন। নাশকতার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে বৈঠকগুলো অনুষ্ঠিত হয়। তবে কেন্দ্রীয় সভাপতির চিঠি উদ্ধার করা যায়নি। ওই চিঠি চট্টগ্রাম মহানগর শিবিরের সভাপতি (উত্তর) নুরুল আমিনের কাছে আছে। ১৫ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম কলেজ এলাকায় নুরুল আমিন ও নগরের দক্ষিণাংশের সভাপতি এইচ এম সোহেলের সঙ্গে এনামুল বৈঠক করেছিলেন।’
কোতোয়ালি থানার ওসি মহিউদ্দিন জানান, এনামুলসহ তিনজনকে আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। রিমান্ড মঞ্জুর হলে আরও অনেক তথ্য তাঁদের কাছ থেকে পাওয়া যাবে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন