বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

চট্রগ্রাম ছাড়া এ সময়ে আরও ১৩টি জেলায় অন্তত ৩০ জন বা তার বেশিসংখ্যক মানুষ পানিতে ডুবে মারা যায়। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জে ৫২, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৫১, কক্সবাজার ও ময়মনসিংহে ৪৮, নোয়াখালীতে ৪১ ও চাঁদপুরে ৩৯ জন পানিতে ডুবে মারা যায়। অন্যদিকে শরীয়তপুর জেলায় পানিতে ডুবে সবচেয়ে কম মানুষের মৃত্যু ঘটে। গত ১০ মাসে এ জেলায় ৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। কম মৃত্যুর দিক থেকে নড়াইল, মাগুরা, বান্দরবান, রাজবাড়ী ও খুলনা জেলা রয়েছে। এসব জেলায় উল্লিখিত ১০ মাসে মৃত্যু ছিল ২ থেকে ৫ জনের মধ্যে।

সমষ্টির বিশ্লেষণ থেকে দেখা যায়, গত ১০ মাসে (এ বছরের ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত) ৯১৭টি ঘটনায় ১ হাজার ২৪৯ জন পানিতে ডুবে মারা যায়। এর মধ্যে ১ হাজার ১২২ জন পানিতে ডুবে এবং ১২৭ জন নৌযান দুর্ঘটনায় ডুবে বা আহত হয়ে মারা যায়। পানিতে ডুবে মৃতদের ৮৪ শতাংশের বয়স ১৮ বছরের কম। ৪ বছর বা এর কম বয়সীদের মধ্যে পানিতে ডুবে মৃত্যু সবচয়ে বেশি, ৫৩৮ জন। ৫ থেকে ৯ বছরের ৩৬৪ জন, ১০ থেকে ১৪ বছরের ১০৩ জন এবং ১৫ থেকে ১৮ বছরের ৩৯ জন। ২০৫ জনের বয়স ছিল ১৮ বছরের বেশি।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এ সময়ের মধ্যে পানিতে ডোবার ৭৯ শতাংশ ঘটনা ঘটে দিনের বেলায়। দিনের বেলায় শিশুরা পানির সংস্পর্শে বেশি যায়। দিনের প্রথম ভাগে অর্থাৎ সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে ৫০৬ জন এবং দুপুর থেকে সন্ধ্যার আগে ৪৫৪ জন মারা যায়। তবে রাতেও পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। সন্ধ্যা বা রাতে ২৮৯ জনের মৃত্যু হয়।

বর্ষাকাল ও এর আগে-পরের মাসগুলোতে (জুন-অক্টোবর) পানিতে ডুবে মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এ বছর সর্বোচ্চ সংখ্যক ২১০ জন মারা যায় আগস্ট মাসে, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু ছিল জুলাই মাসে ১৫৭ জন। তবে এপ্রিল থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্তÍশতাধিক করে মৃত্যুর খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

পরিবারের সদস্যদের যথাযথ নজরদারি না থাকায় সবচেয়ে বেশিসংখ্যক পানিতে ডোবার ঘটনা ঘটে। পানিতে ডুবে ১ হাজার ২৪৯টি মৃত্যুর প্রায় ৯০ শতাংশ (১ হাজার ১৩১) ঘটে পরিবারের অন্য সদস্যদের অগোচরে। অধিকাংশ শিশু বড়দের অগোচরে বাড়িসংলগ্ন পুকুর বা অন্য জলাশয়ে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়।

একই পরিবারের একাধিক সদস্য পানিতে ডুবে মারা গেছে। গত ১০ মাসের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়Ñ৮৩টি পরিবারের ১৬৬ জন সদস্য পানিতে ডুবে মারা যায়। যাদের মধ্যে শিশুর সঙ্গে ভাই অথবা বোনসহ ১৪৪ জন, মা–বাবাসহ ৮ জন, দাদা-দাদি বা নানা-নানিসহ ৪ জন ও চাচা-খালাসহ ১০ জন মারা যায়। উৎসব বা অন্য কোনো সময়ে আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে একই পরিবারের বেশির ভাগ শিশু মারা যায়।

সমষ্টির গবেষণায় দেখা যায়, গত ১০ মাসে নৌযান দুর্ঘটনা বাদে পানিতে ডুবে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটে চট্টগ্রাম বিভাগে, ৩১৬ জন। এ ছাড়া ঢাকায় ২৪০ জন, রাজশাহীতে ১৫৮, ময়মনসিংহে ১৩০, বরিশালে ১২৪, রংপুরে ১০৮, খুলনা বিভাগে ১০৪ জন মারা যায়। এ সময়ে সবচেয়ে কম মৃত্যু ছিল সিলেট বিভাগে ৬৯ জন।
শিশু সুরক্ষার জন্য দেশব্যাপী এসব কার্যক্রম সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সরকার এ বিষয়ে ডিপিপি (ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল) প্রণয়ন করা হয়েছে। ডিপিপিটি একনেকে অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে।

সমষ্টির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনাগুলোর জাতীয়ভাবে কার্যকর তথ্যায়ন ব্যবস্থা না থাকায় বেশির ভাগ ঘটনাই গণমাধ্যমে উঠে আসে না। ফলে এ–সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যায় না। পানিতে ডুবে মৃত্যু নিয়ে জাতীয়ভাবে সর্বশেষ জরিপটি হয়েছে ২০১৬ সালে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও ইউনিসেফের সহযোগিতায় সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ, বাংলাদেশ পরিচালিত ওই জরিপে তথ্য-উপাত্ত অনুযায়ী প্রতিবছর সব বয়সী প্রায় ১৯ হাজার মানুষ পানিতে ডুবে মারা যায়। এদের মধে৵ তিন-চতুর্থাংশেরও বেশি অর্থাৎ আনুমানিক ১৪ হাজার ৫০০ জনই ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু। বলা যায়, বাংলাদেশে গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৪০ জন অনূর্ধ্ব ১৮ বছরের শিশু পানিতে ডুবে প্রাণ হারায়। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুর ক্ষেত্রে এই সংখ্যা প্রতিদিন প্রায় ৩০, অর্থাৎ বছরে প্রায় ১০ হাজার। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০১৪ সালের বৈশ্বিক প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুমৃত্যুর ৪৩ শতাংশের কারণ পানিতে ডুবে মারা যাওয়া।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন