default-image

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে পাহাড় ও গাছ কাটার সঙ্গে জড়িত থাকা দুই ব্যবসায়ীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। আজ বুধবার গাছ ব্যবসায়ী মো. হানিফ ও মো. বজলকে এ নোটিশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি নোটিশ দেওয়া হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তি (এস্টেট) শাখা ও নিরাপত্তা দপ্তরকে।

নোটিশে বলা হয়, গত ২২ ফেব্রুয়ারি প্রথম আলোতে ‘চার বছরে সাত হাজার গাছ সাবাড় ’ শীর্ষক সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এলাকায় পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি ছাড়া পাহাড় কাটা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়। এরপর গত সোমবার ক্যাম্পাসে সরেজমিন পরিদর্শন করে অধিদপ্তরের প্রতিনিধিদল। এ সময় দেখা যায় ক্যাম্পাসে পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি ছাড়া পাহাড় ও টিলা কাটা হচ্ছে। এ দপ্তরের তথ্যানুযায়ী এসব এলাকায় পাহাড় কাটার অনুমতি কাউকে দেওয়া হয়নি।

নোটিশে আরও বলা হয়, সরকারি অনুমতি ছাড়া পাহাড় কাটা বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত-২০১০) অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তাই আগামী ৯ মার্চ বেলা ১১টায় অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম অঞ্চলের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে কারণ দর্শাতে হবে। নয়তো অনুমোদন ছাড়া পাহাড় কাটার জন্য এ আইনে মামলা হবে। এতে অনধিক ১০ বছর কারাদণ্ড বা দশ লাখ টাকা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।

নোটিশের বিষয়ে অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসাইন বলেন, এ ঘটনায় জড়িতদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। শুনানি শেষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গত সোমবার প্রথম আলোতে গাছ ও পাহাড় কাটার সংবাদের সূত্র ধরে ক্যাম্পাসের আশপাশে অভিযান চালায় অধিদপ্তরের দুই সদস্যের প্রতিনিধিদল। অভিযানে পাহাড় ও গাছ কাটার প্রমাণ পান তাঁরা। এর আগে গত রোববার পাহাড় ও গাছ কাটার বিষয়টি প্রতিরোধ করতে গঠিত কমিটির তিন সদস্য পদত্যাগ করেন। ক্যাম্পাসের বনজ গাছপালা সংরক্ষণ ও গাছসহ যেকোনো ধরনের দ্রব্যাদি ক্যাম্পাসের বাইরে নেওয়া এবং নির্বিচারে গাছ কাটার বিষয়টি প্রতিরোধ করতে গত ২৯ জানুয়ারি এ কমিটি গঠন করা হয়।

কমিটিতে আহ্বায়ক করা হয় প্রক্টর এস এম মনিরুল হাসানকে। এতে সদস্য হন সহকারী প্রক্টর এস এম জিয়াউল ইসলাম, মোহাম্মদ রিফাত রহমান, সম্পত্তি (এস্টেট) শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার মাহাবুব হারুন চৌধুরী, সেকশন অফিসার মো. বদিউল আলম ও মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। তাঁদের মধ্যে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা পদত্যাগ করেন।

প্রথম আলোর অনুসন্ধানে দেখা যায়, গত চার বছরে ক্যাম্পাসের আশপাশের পাহাড়ি এলাকা থেকে অন্তত সাত হাজার গাছ কাটা হয়। গাছ নিতে পাহাড় কেটে তৈরি করা হয় প্রায় পাঁচ কিলোমিটার রাস্তা। এ নিয়ে গত শনিবার প্রথম আলোতে ‘চার বছরে সাত হাজার গাছ সাবাড়’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হয়। সংবাদ প্রকাশ হওয়ার এক দিন পরেই তদারকি কমিটির সদস্যরা পদত্যাগ করেন।

নিয়মিত গাছ কাটা ও পরিবহনে যুক্ত শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগেও গাছ কাটা হতো। কিন্তু গত চার বছর ধরে পাহাড় কেটে রাস্তা তৈরি করার পর গাছ কাটার ঘটনা বেড়ে যায়। পাশাপাশি গত চার বছরে বিভিন্ন সময়ে ক্যাম্পাসের মূল ফটক দিয়ে কাটা গাছ বের করার অনুমতি নেন মো. বজল নামে হাটহাজারী উপজেলার ফতেপুর এলাকার এক ব্যক্তি। সবশেষ গত বছরের ৩১ অক্টোবর মো. বজল ক্যাম্পাসের দক্ষিণ দিকের পাহাড়তলী এলাকা থেকে নিজের বাগানের গাছ দাবি করে দুই হাজার টুকরা আকাশি ও মেহগনি কেটে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি নেন। এই অনুমতি দেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তি (এস্টেট) শাখা ও নিরাপত্তা দপ্তর। এর আগে গত বছরের ১৬ জানুয়ারি তিনি পশ্চিম দিকের নশাবনপাহাড়ি এলাকা থেকে গাছ কেটে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি নেন। বজল ছাড়াও এই গাছ কাটায় জড়িত আছেন মো. হানিফ নামের স্থানীয় এক ব্যক্তি। তিনি নিজেকে যুবলীগের নেতা দাবি করেন। যদিও যুবলীগের কোনো কমিটিতে তাঁর নাম নেই।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0