বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

চমেকের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৯ ও ৩০ অক্টোবরের সর্বশেষ মারামারি এবং এর আগের বিভিন্ন সময়ে সংঘাতের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৩১ জনের বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আগের মারামারির ঘটনার দুটি তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয় বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

এর মধ্যে দুই বছরের জন্য বহিষ্কৃত ব্যক্তিরা হলেন এমবিবিএস ৬২তম ব্যাচের এইচ এম আসহাব উদ্দিন, সৌরভ ব্যাপারী ও সাদ মোহাম্মদ গালিব, অভিজিৎ দাশ (৬০তম ব্যাচ), সাইফ উল্লাহ (৬১তম ব্যাচ), সাজেদুল ইসলাম (৩০তম বিডিএস), জাহেদুল ইসলাম (বিডিএস ৩১তম) ও ইমতিয়াজ আলাম (বিডিএস ৩০তম ব্যাচ)।

দেড় বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয় দুজনকে। তাঁরা হলেন রিয়াজুল ইসলাম (এমবিবিএস ৫৯তম) ও অভিজিৎ দাস (এমবিবিএস ৬০তম)।

এক বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয় ২১ জনকে। তাঁরা হলেন সাজু দাস (এমবিবিএস ৬২তম), রকিব উদ্দিন আহমেদ (৬২তম), জাকির হোসেন (৬২তম), জুলকাফল মহাম্মদ শোয়েব (৬২তম), ইব্রাহিম খলিল (৬২তম), চমন দাশ (৬২তম), ফারহান রহমান (৬২তম), মাহিন আহমেদ (৬২তম), শেখ ইমাম হাসান (৬২তম), সৌরভ দেবনাথ (৬২তম), মইনুল হোসেন (বিডিএস ৩১তম), আরাফাত ইসলাম (৬২তম), হাবিবুল্লাহ হাবিব (বিডিএস ৩০তম), মো. আনিস (বিডিএস ৩১তম), এহসানুল কবির (বিডিএস ৩১তম), মাহতাব উদ্দিন (বিডিএস ৩১তম), মো. শামীম (৬০তম), মো. সাব্বির (৬০তম), মইন ভূঁইয়া (৬১তম), তৌফিকুর রহমান (৫৮তম) ও আল আমিন ইসলাম (৫৮তম)।

সর্বশেষ গত মাসে সংঘটিত ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মারামারির ঘটনায় গঠিত পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গতকাল সোমবার অধ্যক্ষ বরাবর প্রতিবেদন দেয়। এরপর আজ একাডেমিক কাউন্সিলের সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আগের দুটি তদন্ত প্রতিবেদনও পর্যালোচনা করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনগুলোতে যাঁদের নাম বারবার এসেছে, তাঁদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা আগামী ছয় মাসের মধ্যে নিজেদের নির্দোষ প্রমাণের জন্য কোনো আবেদন করতে পারবেন না বলেও সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে কলেজ ২৭ নভেম্বর খোলার সিদ্ধান্তের কথাও জানানো হয়। তবে মেডিকেলের প্রধান ছাত্রাবাস ও নাসিরাবাদের ছাত্রাবাস বন্ধ থাকবে। দুই ছাত্রাবাসের আসন বরাদ্দ বাতিল করা হয়। ছাত্রাবাসে নতুন করে আসন বরাদ্দের জন্য পুনরায় আবেদন করতে হবে বলে জানানো হয়। তবে ছাত্রীদের কান্তা হোস্টেল খোলা থাকবে। এ ছাড়া আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ক্যাম্পাসে সভা–সমাবেশে নিষেধ থাকবে।

২৯ অক্টোবর রাতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের প্রধান ছাত্রাবাসে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে এ মারামারির ঘটনা ঘটে। এ সময় তিন ছাত্র আহত হন। তাঁরা হলেন সাবেক মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী মাহফুজুল হক, নাইমুল ইসলাম ও আকিব হোসেন। এর জেরে ৩০ অক্টোবর সকালে ক্যাম্পাসের সামনের রাস্তায় উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরীর অনুসারীদের সমর্থক মাহাদি জে আকিবের ওপর হামলা হয়। মাথায় আঘাত পেয়ে মাহাদি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ২১ দিন চিকিৎসা নিয়ে গত বৃহস্পতিবার কুমিল্লার বাড়িতে ফিরেছেন। ওই ঘটনার পর থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রয়েছে কলেজ।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন