ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার ঐতিহাসিক শুভাঢ্যা খালের দুই তীরে প্রায় তিন কিলোমিটার অংশে স্লাব ফেলে বাঁধ দেওয়া হচ্ছে। পরিষ্কার করা হচ্ছে ময়লার স্তূপ। কিন্তু অন্য অংশে ময়লা-আবর্জনা ফেলে খাল ভরাটও থেমে নেই।
গতকাল শুক্রবার সকালে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের পূর্ব আগানগর এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, পূর্ব আগানগর কালীগঞ্জ বাজারের পেছনে জোড়া সেতুর নিচে পোশাক কারখানার টুকরা কাপড়, কালীগঞ্জ বাজারের পেছনে টুকরা কাপড় ও তরিতরকারির স্তূপ, বেগুনবাড়ি এলাকায় ময়লা-আবর্জনা ও পলিথিনের স্তূপ, নয়া শুভাঢ্যা এলাকায় টুকরা কাপড়, গোলামবাজার এলাকায় বাজারের পেছনে বাজারের তরিতরকারির বর্জ্য ও পলিথিনের স্তূপ। অন্যদিকে, শুভাঢ্যা কালীবাড়ি এলাকা থেকে গোলামবাজার এলাকা পর্যন্ত খালের তীর রক্ষায় স্লাব বসিয়ে বাঁধ দেওয়া হচ্ছে। এ এলাকায় খালের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করে খননের কাজ চলছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে শুভাঢ্যা ও কালীগঞ্জ এলাকার একাধিক বাসিন্দা প্রথম আলোকে বলেন, ‘একদিকে খাল পরিষ্কার ও খালের তীরে স্লাব বসিয়ে বাঁধ দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে চলছে খালে ময়লা-আবর্জনা ফেলে ভরাটের মহোৎসব। খালটি সংস্কার ও উদ্ধার হোক আমরা চাই। কিন্তু প্রথমে খালে ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধ করতে হবে। কঠোরভাবে খালে ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধের ব্যবস্থা নিতে হবে।’
কালীগঞ্জ খেয়াঘাটের নৌকার মাঝি সোলেমান মিয়া (৪৮) বলেন, ‘গেল বছর আমরা এই খালে নৌকা চালাইছি। এহেনে নৌকাবাইচও অইছিল। লোকজন খালে ময়লা-আবর্জনা ফালায়া আবার খাল ভরাট হয়া গেছেগা। এতে আমরা এহেনে নৌকা চালাতে পারছি না।’
শুভাঢ্যা পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা ইয়াসিন মৃধা বলেন, একসময় শুভাঢ্যা, বেগুনবাড়ী, ঝাউবাড়ী এলাকার মানুষের মাছের চাহিদা পূরণ হতো এ খাল থেকে। আর এখন এ খালে তো পানিই নেই।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কেরানীগঞ্জ উপজেলার ঐতিহাসিক শুভাঢ্যা খালটি প্রায় ১১ কিলোমিটার দীর্ঘ। ২০০৭ সালে যৌথ বাহিনী বুড়িগঙ্গা নদীর মুখের চর কালীগঞ্জ এলাকা থেকে গোলাম বাজার এলাকা পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার খালের উভয় পাশে উচ্ছেদ অভিযান চালায়। তখন ১৮৬টি ছোট-বড় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। ওই বছর খালটি আবার খনন করে সেখানে পানির নাব্যতা সৃষ্টি করা হয়। পরবর্তী সময়ে খালটি আবার ভরাট হয়ে যায়। ২০১২ সালের জুলাইয়ের শেষের দিকে উপজেলা প্রশাসন ৫৪ লাখ ৮৮ হাজার টাকা ব্যয়ে খালটি খনন ও উদ্ধারের কাজ শুরু করে। এর কয়েক মাসের মধ্যেই আবারও খালটি দখল ও ভরাট হয়ে যায়। এরপর ২০১৪ সালের খালটি রক্ষা ও পুনরুদ্ধারের জন্য জলবায়ু ট্রাস্ট ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়। গত বছর খনন করে খালটিকে সচল করা হয়। জুন মাসে এ খালে নৌকাবাইচের আয়োজন করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান বলেন, খালটি উদ্ধার ও সংস্কারের বিষয়ে সরকার যথেষ্ট আন্তরিক। কোনো অবস্থাতেই খালটি ভরাট হতে দেওয়া যাবে না। তিনি আরও বলেন, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের জলবায়ু ট্রাস্ট তহবিলের বরাদ্দকৃত প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে খালের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, পুনঃখনন ও রক্ষার জন্য খালের দুই পাশে ব্লক বসিয়ে তীর সংরক্ষণ করা হচ্ছে। এ কাজ শেষ হলে খালের উভয় তীরে পায়ে চলার পথ নির্মাণ করা হবে। এ কাজগুলো বাস্তবায়ন করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন