চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত হওয়ারও তিন দশক পার করেছে। তবে উন্নত হয়নি এর যোগাযোগব্যবস্থা। পৌরসভার ১৭৮ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে ৩০ কিলোমিটারই কাঁচা। বাকি ৭০ ভাগের অবস্থা খুব খারাপ। নাগরিকদের অভিযোগ, ১০ বছরেও সংস্কার হয়নি এসব সড়কের।
সড়কগুলোর বেহাল দশা নিয়ে কথা হয় রিকশাচালক তৈয়ব আলী, দুলাল চৌধুরী, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক লতিফুর রহমান, আল আমীনসহ কয়েকজনের সঙ্গে। তাঁদের মতে, পৌর এলাকায় ভালো সড়ক খুঁজে পাওয়া মুশকিল। আংশিক ভালো অবস্থা রয়েছে মাত্র কয়েক কিলোমিটার সড়কের। এ অবস্থায় সড়কে রিকশা-অটোরিকশা চালাতে তাঁদের অনেক কষ্ট হয়। তিন দিন পরপরই রিকশার চাকার স্পোক কেটে যায়। এতে মেরামতের ব্যয়ও বেড়ে যায়।
পৌরসভার সামনে থেকে শুরু হয়ে পুরাতন বাজার পর্যন্ত গোদাগাড়ী সড়ক, পুরাতন বাজার থেকে পাইকারি কাঁচাবাজার হয়ে সদর হাসপাতাল পর্যন্ত সড়ক দুটি জেলা শহরের সবচেয়ে বেশি ব্যস্ত সড়ক। কিন্তু এই দুটির অবস্থা সবচেয়ে বেশি খারাপ।
পুরাতন বাজার এলাকার সড়কের পাশের মনিহারি দোকানদার সাদেকুল ইসলাম জানান, গত ১০-১২ বছরের মধ্যে এ সড়কে বড় ধরনের কোনো সংস্কার হয়নি। মাঝেমধ্যে ভাঙা ইট ও সুরকি ফেলা হয়। তবে কয়েক দিন পর আবার আগের অবস্থার সৃষ্টি হয়।
সদর হাসপাতাল এলাকার সড়কের বাসিন্দা রফিক হাসান বলেন, এ পথ দিয়ে সদর হাসপাতালে যেতে গর্ভবতী ও মুমূর্ষু রোগীদের বেশি কষ্ট হয়। তা ছাড়া সড়কের পাশেই আবার কাঁচাবাজার বসিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। এতে করে যানজট লেগেই থাকে।
সরজমিনে দেখা যায়, পাঠানপাড়া থেকে উদয়ন সিনেমা হল মোড় পর্যন্ত কর্নেশন, মিস্ত্রিপাড়া, চাঁদলাই-শিবতলা, চাঁদলাই-পোল্লাডাঙ্গা-আজাইপুর, ঢাকা বাসস্ট্যান্ড, বাতেন খাঁর মোড় থেকে আরামবাগ, শান্তির মোড় থেকে বটতলা হাটসহ পৌরসভার অনেক সড়কের অবস্থা খারাপ।
বেশ কয়েক বছর ধরে সড়ক মেরামত, জলবদ্ধতা সমস্যার সমাধানহ সাত দফা দাবিতে আন্দোলন করছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ নাগরিক কমিটি। নাগরিক কমিটির সদস্যসচিব মনিরুজ্জামান জানান, গত ১০ বছরের মধ্যে পৌর এলাকায় দু-একটি বিপণিবিতান ছাড়া আর কোনো উন্নয়নমূলক কাজ হয়নি। এ নিয়ে কথা বলতে গেলেই পৌর মেয়র সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিলেও কোনো কাজ হয়নি।
এদিকে নাগরিকেরা অভিযোগ করে বলেন, সড়কগুলোর অবস্থা খারাপ হওয়ায় অনেক সময় রিকশাচালকেরা যেতেই চায় না। গেলেও বেশি ভাড়া দিয়ে যেতে হয়।
পৌর মেয়র আবদুল মতিন বলেন শুধু তাঁর সময়েই নয়, ১২-১৩ বছর ধরে পৌরসভার সড়কগুলোতে বড় ধরনের কোনো সংস্কারকাজ হয়নি। তবে এই কাজের জন্য ১৫ কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। ওই বরাদ্দ পেলে তিন মাসের মধ্যেই তিন-চারটি সড়ক সংস্কার করা হবে। পরে জলাবদ্ধতা দূর করা হবে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন